কেশবপুরের হোটেল রেস্তারা গুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি ও শিশু শ্রম আইন

কেশবপুরের হোটেল রেস্তারা গুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি ও শিশু শ্রম আইন

প্রজন্ম রিপোর্ট

কেশবপুর শহরসহ উপজেলার হাট বাজারের হোটেল রেস্তোরা গুলোতে চলছে পঁচাবাসি খাদ্য পরিবেশন। কেশবপুর পৌর শহরসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে হোটেল রেস্তোরা, বেকারী ও চায়ের দোকানগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত হচ্ছে প্রতিনিয়ত। খুবই নিম্নমানের ও মেয়াদ উত্তীর্ণ খাবার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।

শ্রম আইনকে বৃদ্ধাঙ্গলী দেখিয়ে এসব প্রতিষ্ঠানে শিশু শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে। তবে এনিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন মাথা ব্যাথা নেই। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গজিয়ে ওঠা বেকারী, হোটেল, রেস্তোরা ও চায়ের দোকানগুলোতে প্রশাসনের কোন নজরদারি নেই । উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খোলা জায়গায় নোংরা এবং অপরিষ্কার পরিবেশে খাবার তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে।

এছাড়া অধিকাংশ হোটেলেই আর্সেনিক মুক্ত পানির ব্যবস্থা নেই। আইনের যথাযথ প্রয়োগ না থাকাই হোটেল রেস্তোরা ও চায়ের দোকান মালিকরা যা ইচ্ছা তাই করে যাচ্ছেন। এসব খাবার খেয়ে মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে ভুক্তভোগিদের অভিযোগ। নিরুপায় হয়ে তারা এই নিম্নমানের খাবার খেতে বাধ্য হচ্ছেন বলেও অনেকে জানিয়েছেন।

স্যানিটেশনের এ দুরাবস্থা বছরের পর বছর চলে আসলেও প্রতিকারের কোন ব্যবস্থা নেই। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ মাঝে মধ্যে প্রথম শ্রেণীর ম্যাজিষ্ট্রেটের ক্ষমতাবলে বিভিন্ন হোটেল রেস্তোরায় অভিযান চালিয়ে অব্যবস্থাপনা ও পঁচাবাসি খাদ্য পরিবেশনের অভিযোগে ১ থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা আদায় করেছেন। এরপরও হোটেল রেস্তোরা গুলোতে রয়েছে অব্যব্যস্থাপনা।

পঁচা বাসি খাদ্য বিক্রি যেন নিয়মে পরিনত হয়েছে। জানা গেছে, কেশবপুর পৌর শহরের মধ্যে প্রায় ৩৫ টি হোটেল রেস্তোরা রয়েছে। এছাড়া পৌর শহরের বাইরে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে আরও প্রায় ৪৫ টি হাট বাজারে রয়েছে দেড় শতাধিক হোটেল রেস্তোরা। এসব হোটেল রোস্তারা বেকারী ঘোষ ডেয়ারীর মালিক কর্তৃপক্ষ উপজেলা ও পৌর স্যানেটারি ইন্সেপেক্টরকে মাসোহারা দেয়।

বছরের পর বছর ধরে রিতিমত চুক্তির ভিত্তিতে তারা এ কাজ করে আসছে। এছাড়া অপরিষ্কার ও নোংরা অবস্থায় তারা শিশু শ্রমিক দিয়ে হোটেলে বয়ের কাজ করাচ্ছে। কোন কর্মচারীদের নেই স্বাস্থ্য সনদ। মানা হচ্ছে না শিশু শ্রম আইনও। এসব কিছু স্যানিটারি ইন্সপেক্টেররা দেখেও না দেখার ভান করে রয়েছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।

বেশিরভাগ হোটেল রেস্তোরা ঘোষ ডেয়ারীর খাবার সংরক্ষনের জন্য ঘরের কোন দরজা নাই। যে কারনে দিনের বেলায় মালিকদের দখলে থাকলেও রাতে খাবার পাত্রগুলি থাকে মশা,মাছি ও কুকুর বিড়ালের দখলে। এসব হোটেল রেস্তোরা ও চায়ের দোকানের পানির পাত্রটিও নোংরা।

বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় সাধারণ মানুষ ওই নোংরা পানি পান করতে বাধ্য হচ্ছে। অধিকাংশ হোটেল রোস্তোরা বেকারী ও চায়ের দোকানের মালিক ও শ্রমিকরা নোংরা কাপড় পরিহিত অবস্থায় খাবার পরিবেশন করে। দু’তিন দিনের পঁচাবাসি মাছ, মাংস ও মিষ্টি সরবরাহের কারনে কাস্টমারদের সাথে হোটেলের কর্মচারী ও মালিকের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদের ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন হোটেল মালিক জানান, এ উপজেলায় হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া বাকিদের কোন বৈধ লাইসেন্স নেই। কেশবপুর পৌরসভার স্যানেটরি ইন্সেপেক্টরের দায়িত্বে নিয়োজিত পৌরসভার স্বাস্থ্য পরিদর্শক সুজয় দাস জানান, হোটেলের লাইসেন্স করার কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

ইতিমধ্যে একাধিক হোটেলের লাইসেন্স এবং বেকারী ও হোটেলের কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদের জন্য কাগজপত্র যশোরে পাঠানো হয়েছে। উপজেলার স্যানেটারি ইন্সেপেক্টর সুশান্ত দত্ত জানান, উপজেলার প্রায় ৭২ টি হোটেল রেস্তোরা ও বেকারীর লাইসেন্স রয়েছে। এসব হোটেল রেস্তোরার কর্মচারীদের স্বাস্থ্য সনদের কাজ চলমান রয়েছে।

লাইসেন্সবিহীন ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ হোটেল গুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

মন্তব্য