যশোর জেনারেল হাসপাতালঃ আউটসোর্সিংয়ের ১৭ কর্মচারীকে পুলিশ দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি!

Hospital

মোল্যা সহিদ মোহাম্মাদ


যশোর জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের ১৭ কর্মচারীদের তাড়াতে ব্যার্থ হয়ে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে ভ্রম্যমান আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতাল সুপার ডাক্তার দিলিপ কুমার অস্বীকার করে বলেছেন, তাদের পরিচয়পত্র নিতে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

আশিকুর রহমান, আরিফুর রহমান রকি ও আমেনা আক্তার রিয়া অভিযোগ করে দৈনিক প্রজন্মের ভাবনাকে বলেন, সুপার স্যার আমাদের আগের থেকে আমাদের ডেকে নিয়ে লিখিত দিতে বলেন, ছয়মাস ধরে সেচ্ছায় বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করেছি এবং নতুন করে আমরা সেচ্ছায় বিনা বেতনে আউটসোর্সিং কাজ করছি।

লিখিত না দেওয়ায় গতকাল শনিবার সকালে সুপার স্যার আমাদেও সবাইকে ডেকে নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। আমরা ১৭জন অফিস সহায়ক ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের ১ তারিখে (১বছরের চুক্তিতে) যশোর জেনারেল হাসপাতালের বিভিন শাখায় কাজে যোগদান করি। প্রথম ৭ মাস আমাদের মাসিক ১৪ হাজার ৪৫০ টাকা করে হিসাবে বেতন পাই। পরে বেতন বাড়িয়ে ১৬ হাজার ১৩০ টাকা করা হয়।

২০২০ সালের জুন মাসের পর থেকে আর বেতন দেওয়া হয়নি। যখনই বেতনের জন্য লিখিতভাবে আবেদন করেছি। তখনই হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ভুক্তভুগিদের দাবী আমাদের কাজে না রাখলে ছয় মাস কাজ করেছি ১৬১৩০ টাকা করে আমাদের ১৭ জনের পাওনা টাকাটা মিটিয়ে দিক। হয় আমাদেরকে কাজে রাখবে না হলে পাওনা মিটাবে। দুইটার কোনটাই যদি না হয় সুপার স্যারের গাড়ির চাকার তলে মাথা দিয়ে মরবো। আর সহ্য হচ্ছে না কাদোকাদো কন্ঠে বলছিলেন ভুক্তভুগিরা।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় এই প্রজন্মের ভাবনার এই প্রতিবেদককে বলেন, তাদের পুলিশ দিয়ে জেল হাজতে পাঠানোর কথা বলা হয়নি। তাদের পরিচয়পত্র না থাকলে সমস্যা হবে সে কারনে তাদের নুতুন করে আবদন করতে বলেছি।

এক প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন এতদিন কিভাবে তারা কাজ করেছে তা আমার জানা নাই। এখন কাজ করতে হলে বিনা বেতনে কাজ করতে হবে এবং লিখিত দিয়ে কাজ করতে হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে সুপার বলেন, সরকার আউটসোসিং বাতিল করে দিয়েছে। তার পরেও আমি স্¦াস্থ্যবিভাগের ডিজি মহাদায়কে লিখিত ভাবে জানিয়েছে। শুনেছি একতা ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ পেয়েছে।

বিষয়টি তারাই ঠিক করবে। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্টান আউটসোর্সিংয়ের ১৭ জনকে কাজে রাখলে আমার কোন সমস্যা নেই। এসব বিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহিন বলেন, প্রজন্মের ভাবনাকে বলেছিলেন, ‘সাবজেক্টটি আমার অধীনে নয়। কিন্তু এটি একটি মানবিক বিষয়। এ ব্যাপারে হাসপাতালের সুপার সাহেবের সাথে কথা বলে দেখবো।’

জানতে চাইলে জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মাদ আশরাফ হোসেন প্রজন্মের ভবনার এই প্রতিবেদককে বলেন, পুলিশ সব কিছু নিয়মতান্ত্রিক ভাবে আইনের মধ্যে দেখে। জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খান প্রজন্মের ভাবনার এই প্রতিবেদককে ‘এ রকম ঘটনা আমার জানা ছিল না।

ভ্রম্যমান আদালত ব্যাক্তি বিশেষ কাজে ব্যাবহার হয়না।’ উল্লেখ্য: দৈনিক প্রজন্মের ভাবনা কাগজে ডাক্তার দিলিপ রায়ের খামখেয়ালির কারনে এই দুরবস্থার অভিযোগ ওই ১৭ কর্মচারীদের বিনা বেতনে কাজ করে মানবেতন জীবন যাপন করছে।

ওই ১৭ কর্মচারীদের দূঃখ দূর্দশা, হাসপাতলে গোয়েন্দা নজরদারি ও ওই ১৭ কর্মচারীদের বিনাবেতনে সেচ্ছায় কাজ করছি লিখিত দিতে চাপ প্রয়োগ নিয়ে ইতোমধ্যে তিনটি সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।

মন্তব্য