যশোর জেনারেল হাসপাতাল সুপারকে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবির কারন দর্শানোর নোটিশ

Hospital

বিশেষ প্রতিবেদক

যশোর জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের ১৭ কর্মচারী বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করছে, আউটসোর্সিংয়ের ১৭ কর্মচারীদের সাংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় শুরু হয়েছে গোয়েন্দা নজরদারি, স্বেচ্ছায় বিনা বেতনে কাজ করেছে এবং করবে এমনটি লিখিত দিতে চাপ সৃষ্টি করছেন সুপার, আউটসোর্সিংয়ের ১৭ কর্মচারীকে পুলিশ দিয়ে জেলে পাঠানোর হুমকি! এমন চারটি বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ দৈনিক প্রজন্মের ভাবনায় প্রকাশ হওয়ায় নজর পড়েছে সুপ্রিম কোর্ট বার এ্যাসোসিয়েশন এর সিনিয়ন আইনজীবি খন্দকার মাহাবুব হোসেন এর।

খন্দকার মাহাবুব হোসেন এর পক্ষে আইনজীবি এ কে খান উজ্জল ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জেনারেল হাসপাতালের এই কর্মচারীরা কেন বিনা বেতনে কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করছে তার জবাব চেয়ে লিখিতভাবে জানাবার জন্য নোটিশ পাঠিয়েছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের সচিব বরাবরে। নোটিশের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের যুগ্ন-সচিব, উপ-সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, প্রধান হিসাব রক্ষক, অর্থ মন্ত্রনালয়ের সচিব , উপ-সচিব , স্বাস্থ্য বিভাগের ডিজি (মহাপরিচালক), পরিচালক (প্রশাসন), উপ-পরিচালক, পরিচালক (অর্থ), যশোর জেলা প্রশাসক, যশোর সিভিল সার্জন এবং যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক বরাবরে।

নোটিশটি পাওয়ার কথা স্বীকার করেছেন জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলিপ কুমার রায়। প্রেরিত নোটিশটিতে বলা হয়, যশোর জেনারেল হাসপাতালের এই কর্মচারীরা কেন বিনা বেতনে কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করছে ? তারা গত ২০১৮ সাল হইতে অদ্যবধী জেনারেল হাসপাতালে কাজ করে যাচ্ছে। কিন্তু কোন প্রকার নোটিশ ছাড়া গত বছরের জানুয়ারীর ০১ তারিখ হইতে ডিসেম্বরের ৩১ তারিখ পর্যন্ত তাদের বেতন দেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে যা অমানবিক।

স্বাস্থ্য মন্ত্রালয়ের পরিচালক (ডিজি)র পক্ষে সহকারী পরিচালক (বাজেট) যশোর জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক বরাবর অধিঃ/বাজেট/২০১৯-২০/৬১০৫ স্বারকে ২০১৯-২০২০ সালের পাওনা টাকা দিয়ে দেওয়ার জন্য একটি চিঠি প্রেরণ করা হলেও তার বাস্তবায়ন হয়নি। এদিকে হাসপাতালের আউটসোর্সিং এ কর্মরত ১৭ কর্মচারীরা যেন আকাশের চাঁদ হাতে পেয়েছে। তারা আনন্দ প্রকাশ করে বলেছেন, দৈনিক প্রজন্মের ভাবনা সহ বিভিন্ন মিডিয়ায় আমাদের দুঃখ-দূর্দশার চিত্র তুলে ধরে সংবাদ প্রকাশ করেছে।

হয়তো বিষয়টি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’র নজরে আসবে। আমাদের সমস্যা নিরসন হয়ে ফিরে পাবো আমাদের চাকরী। পরিবার পরিজন নিয়ে ভালোভাবে চলতে পারবো। যার পরে নাই কৃতজ্ঞতা জানাই যশোরে কর্মরত সকল সাংবাদিকদের, যারা আমাদের মানবেতর জীবনযাপনের চিত্র তুলে ধরছেন। সুত্রমতে, গত ছয় মাস ধরে যশোর জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ের ১৭ কর্মচারী বিনা পারিশ্রমিকে কাজ করে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দারুণ সংকটের মধ্যে পরিবার পরিজন নিয়ে কাটছে তাদের জীবন।

অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায়ের অবহেলার কারণে কর্মচারীদের এই দূরাবস্থা। হাসপাতালের আউটসোর্সিং কর্মচারী ইমাদউদ্দিন , বায়েজিদ, মোস্তাফিজ, প্রকাশ দাশ, আল আমিন, উত্তম দাশ, প্রসেনজিৎ দাশ, আশিকুর রহমান, টুম্পা মুনিয়া হক, আমেনা আক্তার রিয়া, শিলা রানী পাল, আরিফুর রহমান রকি, নাজমুল হোসেন, সাকিল হোসেন, রাকিবুল ইসলাম, মোহাম্মদ হাসান, আরিফ আহম্মেদ, ইমাদ হাসান ও রুবেল আহম্মেদ। ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসের ১ তারিখে (১বছরের চুক্তিতে) যশোর জেনারেল হাসপাতালের বিভিন্ন শাখায় কাজে যোগদান করেন।

প্রথম ৭ মাস মাসিক ১৪ হাজার ৪৪৫ টাকা হিসাবে বেতন পান তারা। পরে বেতন বাড়িয়ে ১৬ হাজার ১৩০ টাকা করা হয়। ২০১৯ সালের জুন মাসের পর থেকে আর বেতন দেওয়া হয়নি তাদের। গত ছয়মাস ধরে বেতন না পেয়েও তারা হাসপাতালে কর্মরত ছিলো। এঘটনায় সুপার ডাক্তার দিলিপ রায় ঐ ১৭ কর্মচারীকে হাসপাতাল থেকে তাড়াতে হেন চেষ্টা নেই যা তিনি করেন নি । এমনকি পুলিশ ও ভাম্যমান আদালত ব্যবহার করে জেল হাজতে পাঠানোর হুমকিও দিয়েছেলেন।

জানতে চাইলে যশোরের জেলা প্রশাসক মোঃ তমিজুল ইসলাম খান বলেন, আউটসোর্সিং এর ১৭ কর্মচারি বিষয়ে কোন চিঠি এখন পর্যন্ত আমার কাছে এসে পৌঁছায়নি। জানতে চাইলে যশোরের সিভিল সার্জন (সিএস) ডাক্তার শেখ আবু শাহিন বলেন, যশোর জেনারেল হাসপাতালের ১৭ কর্মচারিদের বিষয়ে এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোন চিঠি আসেনি।

জানতে চাইলে জেনারেল হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলিপ রায় প্রজন্মের ভাবনাকে বলেন, আউটসোর্সিং এ কর্মরত ১৭ কর্মচারিদের পক্ষে ১০জন কর্মচারি হাইকোর্টে রিট করেছে। সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবি খন্দকার মাহাবুব ইসলাম ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে জানাতে নোটিশ দিয়েছেন। ঐ নোটিশের জবাব রেডি আছে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে তা পাঠানো হবে।

মন্তব্য