যশোর জেনারেল হাসপাতালে সাংবাদিকের সাথে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন কর্মচারীরা!

Hospital

বিশেষ প্রতিবেদক

যশোর জেনারেল হাসপাতাল পরিনত হয়েছে অনিয়মের আখড়ায় শিরোনামে দৈনিক প্রজন্মের ভাবনায় গতকাল রোববার সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির সুপার এর গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। বেজায় ক্ষেপে হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলিপ কুমার রায় তার অধীনস্থদের অনেককে শাসিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে প্রতিষ্ঠানটির তত্বাবধায়ক এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। প্রতিটি বিভাগের অর্থনৈতিক লেনদেনের যেমন রোগী কল্যান সমিতির কাউন্টার (৫টাকার টিকিট), মুল ক্যাশ কাউন্টার, প্যাথলজি, সিটি স্ক্যান, এক্সরে, আলট্রাসনো, ইসিজি সহ সকল বিভাগে কর্মরতরা এখন খুবই আতঙ্কিত। সাংবাদিকের সাথে কথা বলতেও ভয় পাচ্ছেন তারা।

সাংবাদিকের সাথে তারা জদি কেউ কথা বলে এখবর সুপারের কানে পৌঁছালে তারা বিপদে পড়তে পারে। অন্যদিকে সংবাদটি প্রকাশের জন্য বক্তব্য নিলে সংশ্লিষ্ঠদের মধ্যে কেউ কেউ প্রজন্মের ভাবনার দপ্তরে এবং বিশেষ প্রতিবেদককে সংবাদটি প্রকাশ না করে অর্থনৈতিক সুবিধা নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

এবং যশোরের স্থানীয় একটি দৈনিক পত্রিকা দপ্তরেও চক্রটি এই রিপোর্টার এর বিরুদ্ধে টাকা চাওয়ার অভিযোগ এনে কুৎসা রটানো হয়েছে ও হাসপাতালে ঢুকলে তাকে যেকোন ধরণের অর্থনৈতিক লেনদেন, নারিঘটিত সহ বিভিন্নভাবে বিপদে ফেলবার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। তথ্য অনুসন্ধানে জানা গেছে, হাসপাতালে প্যাথলজির বিভিন্ন বিভাগে (মুল ক্যাশ কাউন্টার বাদে) পরিক্ষা নিরিক্ষার জন্য টাকা জমার দুই রকমের রসিদ ব্যবহার হচ্ছে।

দেখতে একই রকম হলেও একটি হাসপাতালের নিজস্ব অপরটি হুবহু একই দেখতে মৃত্যুঞ্জয় রায় এর নিজের ছাপানো। এছাড়াও অনেক ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান, এক্সরে, আলট্রাসনো সহ অনেক পরিক্ষা নিরিক্ষার জন্য টাকা নিলেও তার কোন রসিদ দেন না মৃত্যুঞ্জয়। তবে কেউ চাইলে রসিদ দেওয়া হয়।

জানতে চাইলে মৃত্যুঞ্জয় বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সঠিক না। জানতে চাইলে সুপার ডাক্তার দিলিপ কুমার রায় প্রজন্মের ভাবনা কে বলেন, আমি বঙ্গবন্ধু’র স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠানে ব্যস্ত ছিলাম। সংবাদ প্রকাশ হয়েছে আমি দেখেছি। তবে অভিযোগগুলো সঠিক নয়। এক প্রশ্নের জবাবে সুপার বলেন,

করোনাকালীন সময় হাসপাতালে আগত রোগীর সংখ্যা কমে হয়েছিল ৩ থেকে ৫শ। বর্তমানে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা ১২শ থেকে ১৫শ । জনমনে প্রশ্ন এর আগের দিনের রিপোর্টে বলা হয়েছিলো বছরে অনিয়ম করে ৩ কোটি ৩১ লাখ ২০ হাজার টাকা লোপাট হয়।

প্রতিদিন আউটডোরে ১৫শ রোগীর কাছে ৫টাকার টিকিট বিক্রি করে আয় হয় ৭৫০০ টাকা। মাসে শুক্র-শনিবার বন্ধ থাকায় ২০ দিনে মাস সেখানে টাকার পরিমান এসে দ্বাড়ায় ১লাখ ৫০ হাজার। বছরে এসে দ্বাড়ায় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা।

অথচ হাসপাতালের ক্যাশিয়ার মোঃ ইসরাফিল হোসেন এর প্রজন্মের ভাবনাকে দেওয়া তথ্যমতে বাস্তবতার সাথে সম্পূর্ণ ভিন্ন।

মন্তব্য