যশোর জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও দালালদের দৌরাত্ম কমেছে

পার্থ প্রতীম দেবনাথ রতি: যশোর জেনারেল হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ ও দালাল ঠেকাতে সার্বক্ষনিক বাই রোটেশনে পুলিশ ডিউটি করেছেন। হাসপাতালের মুল ফটকে জানজটও ছিলো খুব কম। গতকাল সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত একনাগাড়ে দুইজন পুলিশ সদস্য হাসপাতালের জরুরী বিভাগের সামনে এবং ৩ পুলিশ সদস্যকে তিনটি গেটেই সার্বক্ষনিক ডিউটি করতে দেখা গেছে। খুব একটা হাসপাতাল অভ্যন্তরে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ ও দালাল চোখে পড়েনি। তবে হাসপাতালের গেটের বাইরে বিভিন্ন ওষুধের দোকানের সামনে একাধীক দালাল ও ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভদের ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে। এদিকে হাসপাতালের সুপার ডাক্তার দিলিপ কুমার রায় বল্লেন, পুলিশের আগের টিমটি ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ ও দালালদের কাছ থেকে সুবিধা নিতো। বর্তমান টিম ভালো। সুপার এর বক্তব্য অস্বীকার করে একাধীক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, পুলিশের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সঠিক না। সুত্রমতে, যশোর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা সেবার মান ভালো থাকায় বৃহত্তর যশোর জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে হাজার দেড়েক রোগী আসে চিকিৎসা সেবা নিতে। ভুক্তভোগী আগত রোগীদের চিকিৎসা সেবাকে কেন্দ্র করে ডজন খানি দালাল সারাদিন লেগে থাকে রোগীদের পেছনে। ঐ সমস্ত রোগীদের ভালো আরও ভালো এবং কম খরচে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার কথা বলে প্রতারণার ফাঁদ পাতে ঐ দালালরা। তারা রোগীদের অসহায়ত্বকে পুঁজি করে জেনারেল হাসপাতালের আশপাশে কিছুকিছু ক্লিনিকে ভাগিয়ে নিয়ে যায়। প্রতারণা করে রোগীদের কাছ থেকে দালালরা যে যার মতো করে রোগীদের সামর্থ অনুযায়ি অর্থ হাতিয়ে নেয়। অন্যদিকে বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা হাসপাতালের ৩টি গেটে, বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারদের চেম্বারের সামনে, জরুরী বিভাগের সামনে ও বিভিন্ন ওয়ার্ডের সামনে দ্বাড়িয়ে থাকে। ডাক্তারদের চেম্বার থেকে রোগী বের হলেই এন্ড্রয়েড ফোন দিয়ে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভরা রোগীর প্রেসক্রিপশনের ছবি তোলার জন্য কাড়াকাড়ি করে। আবার অনেক ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা ডাক্তারদের চেম্বারগুলোতে বিভিন্ন ধরণের তোষামদি করতে থাকে। এরপরে ডাক্তারদেরকে মোটরসাইকেলে করে আনা নেওয়া করতেও দেখা যায়। অনেক ডাক্তারের বাসায় বাজার পর্যন্ত পৌঁছে দেয় ঐসব ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা। জানতে চাইলে যশোর জেনারেল হাসপাতালে জরুরী বিভাগে কর্মরত (বক্ষব্যাধী) ডাক্তার আহম্মেদ তারেক সামস বলেন, ডিউটিকালে কখনও কখনও ৩শ থেকে ৪শ রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসে এসময় মনোযোগ ঠিক রেখে চিকিৎসা সেবা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। ইচ্ছা করলেও অনেক সময় যেভাবে সেবা দেওয়া উচিত পেরে উঠি না। ’’মরার উপর খাড়া’ দালাল আর ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধি আসলে খুবই বিব্রত। তাদের অবাধ বিচরণে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি। দালাল আর ওষুধ কোম্পানির লোকজন না আসলে খুবই ভালো। জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটির তত্বাবধায়ক ডাক্তার দিলিপ কুমার রায়, প্রজন্মের ভাবনা কে বলেন, দালাল, ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ ও এ্যাম্বুলেন্স চালকদের উৎপাতে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছি। একাধীকবার ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের জেল জরিমানা করিয়েছি। আগে এখানে যে পুলিশ টিম ছিলো তারা দালাল ও ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা নিয়ে তাদেরকে হাসপাতাল অভ্যন্তরে অবস্থান করার সুযোগ করে দিতো। এ ব্যাপারে আমি যশোরের এসপি কে একাধীকবার জানিয়েছি। এখন হাসপাতালে যে পুলিশ টিমটি আছে এরা পরিচ্ছন্ন। যার কারনে ২-৩ দিন ধরে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধি ও দালালদের দৌরাত্ম কমেছে। এ ব্যাপারে পুলিশের উদ্ধর্তন কর্মকর্তার কাছে বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করলে তা সম্ভব হয়নি। তবে এর আগে প্রজন্মের ভাবনাকে একাধীক পুলিশ কর্মকর্তাই বলেছেন, পুলিশের বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঠিক না।ডাক্তাররাই ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের পোষে। বাড়ির বাজার করানো থেকে শুরু করে নানাবিধ সুবিধা নেন তারা। ডাক্তার না চাইলে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের আসার সুযোগই নেই।জানতে চাইলে ট্রাফিক বিভাগের টিআই শুভেন্দু কুমার মুন্সি বলেন, হাসপাতাল ও এর আশপাশে জানজট কমাতে হাসপাতালের ৩টি গেট জড়িয়ে একজন ট্রাফিক পুলিশ কে সার্বক্ষনিক দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ঠিকঠাকভাবে দ্বায়িত্ব পালন হচ্ছে কিনা সেজন্য একজন এটিএসআই কে দ্বায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এদের ডিউটি তদারকি করার জন্য ঐ এলাকায় একজন সার্জেন্ট নিয়োজিত থাকে। সচেতন মহলের অভিমত, দুর দুরান্ত থেকে আগত রোগী ও তাদের স্বজনরা ২দিন খুব স্বস্তিতে আছে। হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির রিপ্রেজেন্টেটিভ এবং দালাল বিতাড়িত ধারাবাহিকতা অব্যহত থাকলে তো ভালো।

মন্তব্য