কেশবপুরে বাড়ির উঠানে লাউ চাষ করে স্বনির্ভর গৃহবধু পিয়া

আব্দুল্লাহ আল ফুয়াদ

করোনাক্রান্তিকালে অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনা মেনে বাড়ির উঠানে মাচা করে লাউ চাষ শুরু করে আর্থিকভাবে স্বনির্ভর হয়েছেন উপজেলা বাগদহা গ্রামের গৃহবধু বদরুন্নাহার পিয়া। কৃষকের পাশাপাশি তার মত অন্য বাড়ির গৃহবধুরাও বাড়ির আঙ্গিনায় মাচা পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে সংসারের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বি হচ্ছেন। গত কয়েক বছর ধরে এ উপজেলার কৃষকরা আধুনিক এই পদ্ধতিতে লাউ চাষ শুরু করেন এতে বেশ লাভবান হচ্ছেন তারা। সেই আদিকাল থেকেই লাউ এর কদর ব্যাপক।

যা এখনও অব্যাহত রয়েছে। সরেজমিনে বাগদহা গ্রামে গৃহবধু বদরুন্নাহার পিয়ার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, মাচায় মাচায় ঝুলছে লাউ আর লাউ। বাড়ির উঠানের জমিতে অধিকহারে লাউয়ের চাষ করতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করেন গৃহবধু বদরুন্নাহার পিয়া। প্রায় ৭/৮ মাস ধরে আকারে গোলাকার ধরনের লাউ চাষ করেছেন তিনি। লাউ গাছের পরিচর্যা করতে করতে জানান, সংসারের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় বাজারে বিক্রি করে ওই আয় দিয়েই স্বনির্ভর হয়েছেন তিনি। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ১ হাজার লাউ বিক্রি করেছেন বর্তমানে তার লাউ গাছে আরও ৮ শতাধিক লাউ রয়েছে।

সাংসারের চাহিদা মিটানোর পাশাপাশি এলাকার অসহায় দরিদ্র মানুষের মাঝে লাউ বিতরণ করে মহানুভবতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বিষমুক্ত বলে অত্র অঞ্চলে তার লাউ এর চাহিদা রয়েছে। তার স্বামী মশিয়ার রহমান কেশবপুর প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক দৈনিক আলোকিত বাংলাদেশ এবং সমাজের কাগজ পত্রিকায় কেশবপুর প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। তিনি তার স্ত্রীকে উদ্ধুদ্ধ করেন এবং বাড়িতে অবসর সময়ে একসাথে লাউ গাছের পরিচর্যা করেন। স্বামী-স্ত্রীর সাথে তাদের একমাত্র সন্তান মুত্তাকিন রহমানও লাউ গাছের পরিচর্যা করে আসছে। এব্যাপারে স্থানীয় চাষি আব্দুল মোমিন বলেন, লাউ চাষ তেমন একটা পরিশ্রমের নয়। ১ শতক জমিতে এক হাজার টাকা খরচ করে ১০ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। তবে নিয়মিত গাছের পরিচর্যা করতে হবে। রোপণ করতে হবে উন্নতজাতের বীজ। উপজেলা কৃষি বিভাগের মতে বাংলাদেশের আবহাওয়া লাউ চাষের জন্য উপযোগী। লাউ প্রায় সব ধরণের মাটিতেই জন্মে তবে প্রধানত দো-আঁশ থেকে এঁটেল দো-আঁশ মাটি লাউ চাষের জন্য উত্তম।

লাউ একটি জনপ্রিয় সবজি। লাউ, ডগা,পাতা সবই সবজি হিসেবে খাওয়া যায়। লাউ সহজে হজম হয়, শরীর ঠান্ডা রাখে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে। শীতকালীন জলবায়ু লাউ চাষের জন্য বেশী সর্বোপযোগী। বছরের অন্য সময়েও চারা লাগিয়ে ফসল উৎপাদন করা যায়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বারি লাউ-১, বারি লাউ-২ নামে উচ্চফলনশীল দুইটি জাত উদ্ভাবন করেছে। এছাড়া বাংলাদেশে লাউ এর কোন অবমুক্তায়িত জাত নেই। বর্তমানে লালতীর সীড কোম্পানীর হাইব্রীড লাউ মার্টিনা ও জুপিটার, ব্রাক সীড এর হাইব্রিড লাউ গ্রীন সুপার ব্যাপক আবাদ হচ্ছে।

মন্তব্য