যশোর পৌরসভা নির্বাচনে দলের মনোনয়নে আশাবাদী সবাই

যশোর পৌরসভা নির্বাচনে দলের মনোনয়ন পেতে প্রার্থীরা মরিয়া

পার্থ প্রতীম দেবনাথ রতি:

আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যশোর পৌরসভা নির্বাচন। আর এই নির্বাচনকে ঘিরে যশোরে প্রদান দুইটি রাজনৈতিক দলের দশ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য সকল প্রার্থীরাই নির্বাচনকে ঘিরে পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ন স্থানে ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড, ব্যানার ও পোষ্টার টাঙিয়েছেন। প্রার্থীদের পক্ষে লিফলেটও বিতরণ করছেন। অনেক প্রার্থী দলের মনোনয়ন নেওয়ার জন্য হাইকমান্ডের সাথে লেয়াজু করে চলেছেন। ১৮৬৪ সালে গঠিত যশোর পৌরসভা। দেড়শ বছরেরও বেশি পুরাতন এই পৌরসভায় মেয়র পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ন হওয়ায় অনেকেই চেষ্টা করছেন প্রার্থী হওয়ার। দলের মনোনয়ন পেতে নিজেকে যোগ্য প্রমান করতে মরিয়া প্রার্থীরা।

এখন পর্যন্ত দশজন নিজেকে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দিয়েছেন। তারা সকলেই যশোরে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে পরিচিত। প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান মেয়র, যশোর জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম চাকলাদার রেন্টু, জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী, যশোর জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ এবং জেলা ফুটবল এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আসাদুজামান মিঠু, জেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক শিল্প ও বাণিজ্যিক বিষয়ক সম্পাদক হুমায়ূন কবীর কবু, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা হায়দার গণি খান পলাশ ও জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক শ্রম সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুস সবুর হেলাল আওয়ামীলীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নৌকা মার্কার প্রার্থী হতে চান। অপরদিকে, সাবেক পৌর মেয়র ও নগর বিএনপির সভাপতি মারুফুল ইসলাম মারুফ, নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহমেদ সিদ্দিকী বাচ্চু ও জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে মুল্লুক চাঁন বিএনপি মনোনিত ধানের শীষের প্রার্থী হতে চান।

জানতে চাইলে বর্তমান মেয়র জহিরুল ইসলাম চাকালাদার রেন্টু প্রজন্মের ভাবনা কে বলেন, দল যে আশা নিয়ে আমাকে নৌকা প্রতিক দিয়েছিল, তা আমি সফলভাবে পূরণ করতে সক্ষম হয়েছি। গত ৫ বছরে যশোর পৌরসভায় অভাবনীয় উন্নয়নমূলক কর্মযজ্ঞ চালানো হয়েছে। আমি পৌর শহরের রাস্তা-ঘাট নির্মান, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও মাদকমুক্ত পৌর শহর করেছি। আগামীতে এই ধারা অব্যহত থাকবে। এখনও অনেক উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। দল যদি আবারো আমাকে মনোনয়ন দেয় তাহলে যশোর পৌরসভাকে সারাদেশের মধ্যে মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো। এদিকে, সাবেক পৌর মেয়র মারুফুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত যশোর পৌরসভায় উন্নয়ন কাজ শুরু করেছিলাম আমি দায়িত্বে থাকাকালে। কালো তালিকায় থাকা যশোর পৌরসভাকে উন্নত পৌরসভায় তালিকায় অর্ন্তভূক্ত করেছি। তৎকালীন সময়ে পরিকল্পনা করা কাজই বর্তমানে চলমান রয়েছে। যার ক্রেডিট নিচ্ছেন বর্তমান মেয়র।

তিনি আরও বলেন, এখনও নানাভাবে অবহেলিত পৌরসভার সাধারণ মানুষ। তারা তাদের সুখ-দুঃখের কথা মেয়রকে বলার সুযোগ পান না। অথচ, তাদের সুবিধা-অসুবিধাগুলো দেখভাল করাই পৌর পিতার কাজ। আমি নির্বাচিত হলে জন-মানুষের প্রত্যাশা পূরণে কাজ করবো। একইসাথে উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনার পাশাপাশি যশোর পৌরসভাকে নাগরিকদের জন্য আস্থার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলবো।

সম্ভাব্য প্রার্থী মোস্তফা ফরিদ আহম্মেদ চৌধুরী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলের নিবেদিত কর্মী হিসেবে কাজ করে যাচ্ছি। একজন পরীক্ষিত নেতা হিসেবে দলের কাছ থেকে আমি কিছুই পাইনি। আমি মনে করি দলের হাইকমান্ড বিবেচনা করে আমার হাতে নৌকা তুলে দিলে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে যশোরবাসীকে সম্পৃক্ত করতে পারবো। সেই সাথে জনমনে এ সরকারের জন্য আস্থা তৈরি করতে সক্ষম হবো। পৌরবাসীর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে শতভাগ নাগরিক সুবিধা নিশ্চিতে কাজ করবো। গত নির্বাচনেই আমি দলের মনোনয়ন পাবো আশা করেছিলাম। পাই নি। দলের সিদ্ধান্তের বাইরে কোনদিন যাইনি। এটাকে বিবেচনায় রেখে আমার নেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে এবার মনোনয়ন দেবে এটা আমার বিশ্বাস।

যশোর পৌরসভার ইতিহাসে এবারই প্রথম কোনো নারী মেয়র প্রার্থী হিসেবে নিজেকে প্রকাশ করেছেন জেলা যুব মহিলা লীগের সভাপতি মঞ্জুন্নাহার নাজনীন সোনালী। তিনি বলেন, ব্রিটিশ ভারতের দ্বিতীয় ও বাংলাদেশের প্রথম পৌরসভা যশোর পৌরসভা। এই পৌরসভায় কখনো কোন নারী নেতৃত্ব দেয়নি। বর্তমান সরকার ও আওয়ামীলীগের দলীয় প্রধান নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। দলের একজন পরীক্ষিত কর্মী হিসেবে দলীয় প্রধান আমাকে মনোনয়ন দেবেন এটাই আমার প্রত্যাশা। দলীয় মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচিত হলে আমি যশোর পৌরসভার উন্নয়নে দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাই।

জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি আসাদুজামান মিঠু বলেন, আমি দলের একজন পরীক্ষিত কর্মী। তাছাড়া, সামাজিক কাজকর্ম ও দেশের যুব সমাজকে মাদকসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড থেকে বিরত রাখতে ক্রীড়া ক্ষেত্রে ব্যপক কাজ করছি। সবকিছু বিবেচনায় রেখে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে প্রত্যাশা করছি। দলীয় মনোনয়ন পেলে ও নির্বাচিত হলে উন্নয়ন, আধুনিকায়ন, নাগরিক সেবা বৃদ্ধি, দুর্নীতিমুক্ত এবং জবাবদিহিমূলক পৌরসভা গড়ে তুলবো।

হুমায়ূন কবীর কবু বলেন, আমি রাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে মানুষের জন্য কাজ করি। সাধারণ মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমি তৃপ্ত হই। আমার প্রতিষ্ঠান কুইন্স হসপিটালে অসহায় মানুষের চিকিৎসা করাতে টাকার চিন্তা করি না। সমাজের একজন ছোটখাট সেবক ও দলের পরীক্ষিত একজন কর্মী হিসাবে আমাকেই মনোনয়ন দেওয়া উচিত। আমি ও আমার পুরো পরিবার আওয়ামীলীগের চেতনায় বিশ্বাস করি। অবশ্যই দলের হাইকমান্ড সবকিছু বিবেচনায় রেখে আমাকেই মনোনয়ন দেবেন। আমি মেয়র নির্বাচিত হলে যশোর পৌরসভাকে একটি উন্নত ও মানসম্মত পৌরসভা গড়ে তুলবো।
কাজী আব্দুস সবুর হেলাল বলেন, আমি ১৯৯১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত জাতীয় শ্রমিকলীগের সহ-সভাপতি ও ২০০৫ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত সভাপতি ছিলাম। সদ্য বিলুপ্ত জেলা আওয়ামীলীগের শ্রম সম্পাদক ছিলাম।

পরিবারে আমি সহ আমরা তিন ভাই মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা যশোর জেলা ইউনিট কমান্ডের সাবেক অর্থ কমান্ডার ছিলাম। আওয়ামীলীগে আমার এই দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবন বিবেচনায় রেখে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে বলে আমি আশাবাদী। মনোনয়ন পেয়ে মেয়র নির্বাচিত হলে আমি পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন ও পৌরবাসীর নাগরিক সেবা নিশ্চিত করবো। আওয়ামীলীগ নেতা হায়দার গনি খান পলাশ বলেন, আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা ও দলের পরীক্ষিত কর্মী। দল আমাকে কোনো কিছু দেয়নি। আমি আশাবাদী এবার দল আমাকেই মনোনয়ন দেবে।

নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুনির আহম্মেদ সিদ্দিকী বাচ্চু ও বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে মুল্লুক চাঁনের বক্তব্য প্রায় একই। তারা বলেন, বর্তমান প্রেক্ষাপটে কী নির্বাচন হবে সেটা সবার জানা। যদি নির্বাচনের সুষ্ঠ পরিবেশ সৃষ্টি হয় এবং দল মনোনয়ন দেয় তাহলে নির্বাচন করতে আগ্রহী। মেয়র হিসাবে প্রথম কাজটি হবে নাগরিক সুবিধাগুলোর বাস্তবায়ন

মন্তব্য