গুরুতর করোনা রোগী ভর্তিতে ২ লাখ টাকা নিচ্ছে ইবনে সিনা

প্রজন্ম রিপোর্ট

রাজধানীর কল্যাণপুরে ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনাভাইরাস আক্রান্ত গুরুতর রোগী ভর্তিতে জামানত হিসেবে ২ লাখ টাকা আদায় করা হচ্ছে। তবে ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে কিছুটা ছাড় দেয়া হয় বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দেশে করোনা মহামারির শুরুর পরই ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কোভিড-১৯ ইউনিট স্থাপন করা হয়। সেখানে কেবিনে ৫৬টি ও ওয়ার্ডে ২৫টি বেড রয়েছে। প্রতিদিন কেবিন ভাড়া ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা। রোগীপ্রতি ওয়ার্ডের ভাড়া ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। বর্তমানে উভয় স্থানে প্রায় সবগুলো বেডে রোগী ভর্তি রয়েছেন।

এছাড়া ইবনে সিনার এই শাখায় ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) ৯টি বেড রয়েছে। সেখানে থাকা করোনা রোগীদের প্রতিদিন প্রায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা গুনতে হচ্ছে।

ইবনে সিনায় কেবিনে ভর্তি থাকা এক রোগীর স্বজন বলেন, সম্প্রতি আমার মামার করোনা পজিটিভ ধরা পড়ে। তার বয়স বেশি হওয়ায় ঝুঁকিমুক্ত থাকতে আমরা হাসপাতালে ভর্তি করানোর সিদ্ধান্ত নিই। আমাদের বাসা কল্যাণপুর হওয়ায় মামাকে ইবনে সিনা হাসপাতালে ভর্তি করি।

তিনি বলেন, ‘মামাকে ভর্তির আগে হাসপাতালের কাউন্টার থেকে দুই লাখ টাকা অগ্রিম জামানত দিতে বলা হয়। জামানত দিলে রোগী ভর্তি নেয়া হবে বলে জানানো হয়। আমাদের রোগী তেমন গুরুতর অবস্থা নয় জানালেও তারা সেটা মানতে রাজি হয়নি। রোগীর জন্য মেডিসিন, অক্সিজেন, আইসিইউ সাপোর্টের কথা বলে দুই লাখ টাকা আদায় করা হয়েছে।’

বিষয়টি স্বীকার করে হাসপাতালের কাস্টমার কেয়ারে দায়িত্বরত মো. মহিবুল্লাহ বুধবার বলেন, ‘যেসব রোগী গুরুতর অবস্থা নিয়ে ভর্তি হচ্ছেন, যাদের আইসিইউ সাপোর্ট প্রয়োজন হয়, সেসব রোগীকে ভর্তির ক্ষেত্রে তাদের চিকিৎসার জন্য ২ লাখ টাকা চাওয়া হয়। তবে কেউ যদি সে অর্থ দিতে না পারে, তাহলে রোগী যে ভর্তি করা হয় না, তা সত্য নয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওয়ার্ডে ভর্তি করোনা রোগীদের ওষুধ, অক্সিজেন ও সিট ভাড়া বাবদ অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নেয়া হয়। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে এ অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এ অর্থ দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীর ব্যয় বহন করা হচ্ছে। জামানতের অর্থ শেষ হওয়ার পর পুনরায় অর্থ নেয়া হয়। অর্থ ব্যয় না হলে রোগী চলে যাওয়ার সময় তা ফেরত দেয়া হচ্ছে।’

ইবনে সিনার গাইনি বিভাগের এক চিকিৎসক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘কিছু দিন ধরে ২ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়েও রোগীরা ভর্তি হতে পারছেন না। কারণ, বর্তমানে করোনা রোগীর চাপ বেড়ে গেছে। কোনো বেড খালি থাকছে না। তাই অনেক সময় অগ্রিম টাকা নিয়ে সিরিয়ালে রাখা হচ্ছে। পরে বেড খালি হলে রোগী ভর্তি করা হচ্ছে। এছাড়া নানা ধরনের তদবির আসলে সেটা বিবেচনা করে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা করছে।’

মন্তব্য