বাড়ি ফিরে পানি ছাড়া কিছুই খাননি আবু ত্ব-হা

প্রজন্ম রিপোর্ট

আলোচিত ধর্মীয় বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনান উদ্ধার হয়েছেন। উদ্ধারের পর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্যক্তিগত কারণে গাইবান্ধায় বন্ধুর বাসায় আত্মগোপনে ছিলেন ত্ব-হা। পরে তিনি রংপুরে প্রথম স্ত্রীর বাসায় চলে আসেন। সেখান থেকেই তাকে উদ্ধার করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ জুন) বিকেলে রংপুরে ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানানো হয়। বিকেল পৌনে ৫টার দিকে এ সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়। তার আগে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আবু ত্ব-হাকে ডিবি কার্যালয়ে নেয়া হয়।

এদিকে উদ্ধারের পর আবু ত্ব-হার ভাই তারেক বলেন, ত্ব-হা শারীরিক এবং মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। বাড়ি ফিরে পানি ছাড়া কিছু খাওয়ারও সুযোগ পাননি। ত্ব-হার শারীরিক অবস্থা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তার সঙ্গে কথা বলার সময় পাইনি। সে আসলো, আমরা তাকে রিসিভ করলাম। তাকে নিজ হাতে যে একমুঠ ভাত খাওয়াব, সে সুযোগও পাইনি। পানি খাইল। এরপর ওসি সাহেব এসে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে গেল। তাকে যে ট্রিটমেন্ট করাব, সে সুযোগও পাইনি। তবে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। তারেক আরও বলেন, সবাই দোয়া করবেন। আপনাদের দোয়ায় সে ফিরে এসেছে। সে সুস্থ হয়ে আবার যেন দ্বীন প্রচার করতে পারে।

পরিবারের ভাষ্য মতে- গত বৃহস্পতিবার (১০ জুন) দিনগত রাতে রংপুর থেকে ঢাকার ফেরার পথে রাজধানীর গাবতলী পৌঁছানো মাত্র ত্ব-হা তার গাড়ির চালক মো. আমির, সফরসঙ্গী মো. মুহিদসহ মোট ৪ জন নিখোঁজ হন।

নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে সারা দেশেই চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ত্ব-হাকে ফিরে পেতে তার পরিবার সংবাদ সম্মেলন করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ভক্তরা বিভিন্ন পোস্ট দেন। যেখানে বারবারই তাকে ফিরে পেতে দাবি জানানো হচ্ছিলো।

এ ঘটনায় গত বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন ত্ব-হার স্ত্রী সাবেকুন নাহার। তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী যদি কোন অন্যায় করে থাকেন তাহলে তাকে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করা হোক। সে নিখোঁজ কেন? আমি শুধু তার সন্ধান চাই। তাকে যদি আমার কাছে এনে দিতে না পারেন তাহলে আমাকে তার কাছে নিয়ে যান। আমি একজন স্ত্রী হিসেবে জানি না আমার স্বামী কোথায়। আমি আপনাদের কাছে হাত জোর করে মিনতি করতেছি আপনারা আমার স্বামীকে ফিরিয়ে দিন। এর বেশি কিছু চাই না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার স্বামী রংপুর থেকে রওনা দিয়েছিলেন বগুড়ার উদ্দেশ্যে। সেখানে তার একটা প্রোগ্রাম ছিলো। কোনও কারণে সেই প্রোগ্রাম না হলে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হন। পথে মোবাইল ফোনে তিনি (ত্ব-হা) আমাকে জানিয়েছিলেন দুইটি বাইক তাদের বহন করা কারটি অনুসরণ করছিলো। শেষ পর্যন্ত আমাকে তিনি তার গুগল ম্যাপ শেয়ার করেছিলেন সেখানে আমি জানতে পেরেছি মিরপুরের আমার বাসা থেকে তিনি আর ১৭ মিনিটের দূরত্বে আছেন। তখন সময় ছিল রাত ২টা ৩৭ মিনিটের কাছাকাছি।’

তার নিখোঁজ হওয়া নিয়ে আলোচনার মধ্যে শুক্রবার ত্ব-হার খোঁজ মেলে। বিপ্লব মিয়া নামে এক প্রতিবেশী জানান, শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে আবু ত্ব-হাকে তার শ্বশুর আজহারুল ইসলাম মন্ডলের বাড়িতে ঢুকতে দেখেন তিনি। পরে তাকে রংপুর নগরের আবহাওয়া অফিস সংলগ্ন মাস্টার পাড়ার ওই বাড়ি থেকে নিয়ে যায় পুলিশ।

সংবাদ সম্মেলনে রংপুর মহানগর পুলিশের (আরএমপি) ক্রাইম ডিভিশনের উপ-কমিশনার আবু মারুফ হোসেন বলেন, মা ও ভাইয়ের জিডির সূত্রে আমরা (ত্ব-হার) অনুসন্ধান করতে থাকি। আজকে আমরা গোপন সূত্রে জানতে পারি ত্ব-হা তার (রংপুর নগরের) চারতলার মসজিদে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে আছেন। সেই সংবাদ পেয়ে আমরা তাকে নিয়ে আসি। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে আমরা অপর সঙ্গীদেরও সন্ধান পাই।

আবু মারুফ হোসেন বলেন, গাইবান্ধায় বন্ধু সিয়ামের বাসায় ব্যক্তিগত কারণে আত্মগোপনে ছিলেন চারজনেই। বন্ধু বাসায় না থাকলেও তার মায়ের কাছে ছিলেন এরা। ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে ত্ব-হা আত্মগোপনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। সফরসঙ্গীরাও তাদের ফোন বন্ধ করে ত্ব-হার কাছে রেখে দেন।

মন্তব্য