যশোরে নীলগঞ্জ মহাশ্মশান উচ্ছেদের পাঁয়তারা : মানববন্ধন,সংবাদ সম্মেলন,স্মারকলিপি প্রদান

যশোর নীলগঞ্জ মহাশ্মশান

প্রজন্ম রিপোর্ট

যশোরের ভৈরব নদের সংস্কার চলাকালীন দক্ষিনবঙ্গের সর্ববৃহৎ শ্মশান নীলগঞ্জ মহাশ্মশান এর উল্লেখযোগ্য পরিমান জমি ও স্থাপনার ক্ষতি হয়েছে। শ্মশানের দুইটি মাত্র দাহ করবার স্থান (চিতা) ছিলো তাও ধ্বংস করা হয়েছে ইতিমধ্যে। তবে আশেপাশের অনেক বাড়ি, স্থাপনা ও জমি বাদ রেখেই শুধুমাত্র শ্মশানের জমিতে এক্সেভেটর দিয়ে খোড়াখুড়ি করা হয়েছে হয়েছে। হিন্দু সম্প্রদায়ের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় এ স্থাপনাটিতে কোন প্রকার আলাপ আলোচনা না করে এবং মৃতদেহের সৎকার করবার কোন প্রকার বিকল্প ব্যবস্থা না করেই এ ধরনের ধ্বংসযজ্ঞ চালানা করায় সনাতন সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে চাপা ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে গতকাল বিকাল ৩টার সময় নীলগঞ্জ মহাশ্মশান রক্ষা কমিটির উদ্যোগে প্রেসক্লাব যশোরের সামনে মানববন্ধন করে সাংবাদিক সম্মেলন করে ।
মানববন্ধন শেষে র‌্যালী সহকারে জেলা প্রশাসক এর দপ্তরে গিয়ে তার বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করে নীলগঞ্জ মহাশ্মশান রক্ষা কমিটিসহ শতশত মানুষ।
যশোর নীলগঞ্জ মহাশ্মশান
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ভৈরব নদের দুই ধার দিয়ে অনেক অবৈধ স্থাপনা থাকলেও সেগুলি উচ্ছেদ না করে শুধুমাত্র মহাশ্মশানের জমিতেই মাটি খোড়ার কাজ চলছে। শুধু তাই নয় দুটি সৎকার্যের চিতাসহ বেশকিছু স্থাপনা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ন উদ্দেশ্য প্রণোদিত ভাবে করা হয়েছে এবং এর পেছনে কুচক্রি কোনো মহলের হাত থাকতে পারে বলে বক্তারা অভিযোগ করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রিয় কমিটির উপদেষ্টা ও সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মেহিত কুমার নাথ নীলগঞ্জ মহাশ্মশানের ইতিহাস তুলে ধরে বলেন, প্রায় ৩শ বছর পুরানো ঐতিহাসিক এই মহাশ্মশানটিকে ধ্বংসের দ্বরপ্রান্তে নিয়ে যাওয়ার পেছনে অত্যন্ত ষড়যন্ত্রমূলক পরিকল্পনা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান অবস্থায় যশোরে সনাতন ধর্মানুসারি কেউ মারা গেলে তার মরদেহের সৎকার করার কোন জায়গা নেই। ন্যাক্যারজনক এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়ে তিনি অবিলম্বে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানের আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারী দেন।
মানববন্ধনে সনাতন ধর্মানুসারি ছাড়াও সর্বস্থরের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। বেশ কয়েকটি সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন।
যশোর নীলগঞ্জ মহাশ্মশান
মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন শেষে নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের দপ্তরে গিয়ে তার নিকট স্মারকলিপি প্রদান করেন। নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে শ্মশানের এই অবস্থার কথা শুনে জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সেখানে গিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ দেখে মর্মাহত হন এবং দুঃখপ্রকাশ করেন। তিনি শ্মশান অংশে খনন কাজ স্থগিত রাখার জন্য তাৎক্ষনিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেন এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত “চিতা” অনতিবিলম্বে স্থাপন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন।
যশোর নীলগঞ্জ মহাশ্মশান

মানববন্ধনে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা ও যশোর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মোহিত কুমার নাথ,
যশোর নীলগঞ্জ মহাশ্মশান
হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রেসিডিয়াম মেম্বর যোসেফ সুধীন মন্ডল, জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সহ-সভাপতি দীপক রায়, বিষ্ণু সাহা, মহিলা পরিষদের জেলা সাধারণ সম্পাদক তন্দ্রা ভট্টচার্য্য, প্রেসক্লাব যশোরের সম্পাদক এস এম তৌহিদুর রহমান, জেলা শিল্পকলা একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহামুদ হাসান বুলু, শ্মশান রক্ষা কমিটির আহবায়ক ভোলা নাথ সাহা,
বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহি কমিটির সদস্য দিপংকর দাস রতন।

বেনাপোল পাটবাড়ি মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক ফণিভূষণ পাল, যশোর পূজা উদযাপন পরিষদের নেতা সুখেন মজুমদার, প্রদীপ নাথ বাবলু, বকচর লক্ষী নারায়ন মন্দিরের সাধারণ সম্পাদক উৎপল দত্ত, সনাতন ধর্ম সংঘের সভাপতি শ্রীভূষন ঘোষ, সহ-সভাপতি অধ্যাপক গোপীকান্ত সরকার, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক অখিল চক্রবর্ত্তী, বেজপাড়া পূজা সমিতি মন্দিরের সভাপতি মনি সুর, সাধারণ সম্পাদক যোগেশ পাল, সদস্য পলাশ দত্ত, সনাতন রায় বর্ডার। বেজপাড়া মাঠপাড়া পূজা সমিতির সভাপতি প্রশান্ত সরকার, সাধারণ সম্পাদক বিপ্লব রায়, সিটি কলেজ এলাকার পূজা সমিতির নেতৃবৃন্দ। বেজপাড়া শ্রীধর পুকুর পাড় পূজা সমিতির নেতৃবৃন্দ, নিউ বেজপাড়া পূজা সমিতির নেতৃবৃন্দ, চারখাম্বার মোড় পূজা সমিতির নেতৃবৃন্দ, বেজপাড়া স্বপন স্মৃতি সংঘের নেতৃবৃন্দ, বেজপাড়া মেইন রোড পূজা সমিতির সভাপতি সুশিল রায়, সাধারণ সম্পাদক অসিত বিশ্বাসসহ যশোরের সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
যশোর নীলগঞ্জ মহাশ্মশান

মন্তব্য