নারীদের কু-নজর থেকে বাঁচতে বোরকা পড়লেন স্বামী !

নারীদের কু-নজর থেকে বাঁচতে বোরকা পড়লেন স্বামী !

প্রজন্ম জেস্ক

স্বামী-স্ত্রীর বন্ধন খোদা প্রদত্ত। যে ধর্মের হোক না কেন, এই বন্ধনে ওপরওয়ালার রহমত বিদ্যামান। তবে একেক স্ত্রী অথবা একেক স্বামীর ভালোবাসা একেক ধরণের। কেউ ভালোবাসা দেখাতে জানে আবার কেউ জানে না। তবে ভালোবাসা দেখাক অথবা করুক, এই ভালোবাসায় কিন্তু কোন ধরণের অপূর্ণতা থাকে না। এই ভালোবাসায় খোদার পূর্ণ রহমত বিদ্যামান। তবে আধুনিক যুগে এসে সে ভালোবাসার অনেকটা পরিবর্তন এসেছে। এখন প্রযুক্তির সঙ্গে সঙ্গে অনেকটা ভালোবাসাটাও ডিজিটাল হিসেবে রূপ নিয়েছে। আগে স্বামী এবং স্ত্রীদের মধ্যে এক ধরণের বন্ধন ছিল, যার জোর ছিল অনেক বেশী। তবে এখন সে জোরটাও দেখানো।

বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবর পড়ে এই ধরণের ধারণা শুধু আমার নয় আপনারও আসতে। কিছুদিন আগে, একটি খবরে দেখলাম, স্ত্রীকে রেখে শালীকে নিয়ে পালালেন স্বামী!, এর আগে আরো একটি খবর চোখে পড়েছে। সেখানে বলা হয়, স্বামীকে খুন করে প্রেমিকার কাছে ফিরে গেলেন স্ত্রী! মূলত এই সময়ে এসে আগেকার প্রেম ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। তার মানে কী এখন খোদার রহমত নেই? নিশ্চয় আছে। তবে মানুষের মধ্যে এখন নিজেদের ধর্মের বিশ্বাস কমে গেছে। যে ধর্মের মানুষ হউক না কেন, প্রত্যেক ধর্মে কিন্তু শান্তির কথা, ভালো কাজের কথা উল্লেখ আছে। উত্তপ্ত কোন বিষয় কিন্তু কারো ধর্ম হতে পারে না। হোক সে মুসলমান অথবা হিন্দু, হোক সে বৌদ্ধ অথবা খ্রিস্টান। সব ধর্ম কিন্তু নিজেদের জন্য শান্তির।

তবে এই মহিলার ভালোবাসা একটু বেশী? পাঠক হয়ত অবাক হচ্ছেন, এতক্ষণ প্রেম ভালবাসার কথা বলে হঠাৎ মহিলা আসলো কোত্থেকে? আসলে এই ভালোবাসা দেখে অনেকটা সেই ভালোবাসার, সে সময়ের কথা মনে পড়ে গেল। তাই এতটা কথা আমাকে বলতে হল। ঘটনা হলো, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে এক তরুণী তার স্বামীকে বোরকা পরিধান করে রেস্তোরাঁয় নিয়ে গেছেন। ‘দ্য মিউলি ওয়েডস’ নামে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে ওই দম্পতি ছবি পোস্ট হয়েছে আরো কয়েকদিন আগে। তবে সে ছবি এখন নেট দুনিয়ায় ভাইরাল।

ছবিটির ক্যাপশনে তরুণী (স্ত্রী) লিখেছেন, এই আমার সুন্দরী স্বামী। তাকে হয়ত আপনারা সরাসরি দেখতে পাচ্ছেন না, কত সুন্দর সে! কেননা তার সৌন্দর্য ঢেকে রাখা হয়েছে। কারণ আমিই তার একমাত্র হকদার। তার সাফল্য, স্বপ্ন, জীবন আমার কাছে বন্দি রাখা আছে। তার দিকে কু-নজর দেয়াটা অন্য মেয়ে বা মহিলার জন্য পাপ। তবে তার ঘরে থাকাটাই আমার একমাত্র পছন্দের। কারণ, এ দুনিয়াটা তো ভালো নয়। সবদিকে কু-নজর আর কু-নজর। যাই হোক, ও যখন আমার সঙ্গে বাইরে বের হয় তখন অবশ্য ঠিক আছে। আর আমরা সবসময় শুধু এই জায়গাতে (রেস্টুরেন্ট) খেতে আসি। কারণ এখানে মজার মজার চিকেন পাওয়া যায়।

তার একটা দিক আমার বেশ ভালো লাগে, সেটি হল, বাইরে বের হলে সবসময় যে নিজেকে লুকিয়ে রাখে, এটা সত্যি আমার দারুণ লাগে। কেননা ও তো ‘খোলা সিন্দুক’। আর আমি চাই না যে, ও যৌন হয়রানির শিকার হোক। যদি তাই হয়, তবে ভাগ্যের পরিহাস। সেই সঙ্গে আশা করব, হেনস্থাকারীদের যেন শেষ পর্যন্ত সাজা হয়।

পাঠক হয়ত এখনো পুরো বিষয়টি আপনাদের কাছে ধোঁয়াশা। একটু খোলাসা করি। এই স্ত্রী তার স্বামীকে এতটাই ভালোবাসেন যে, তিনি চান না তার স্বামীকে দেখে কোন মেয়ে চাহিদা হোক। আর তার স্বামীও স্ত্রীকে এতটা ভালোবাসেন যে, তিনি কোথাও গেলে মুখ বেঁধে যান। তাই স্বামীর প্রতি সে ভীষণ খুশি।

এদিকে, ওই সময় মেয়েটি সমাজে নারীর ক্ষমতায়নের অভাবে যেসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হয় তা নিয়ে বিস্তর সমালোচনাও করেছেন। এছাড়া সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গিকে নিয়েও মশকারা করেছেন তিনি। আর ইনস্টাগ্রামে ছবিটি অনেক দম্পতিরা এখন শেয়ার করছেন। এতে পরিচিতদের লাইক-কমেন্টও পড়েছে অসংখ্য। তবে, এমন পোস্টে সমালোচনা করেছেন অনেকে। আবার প্রশংসাও করেছে অনেকে। আর আপনারাও করুন, আপনাদের নিজস্ব মতামত।

মন্তব্য