যশোর সিটি প্লাজায় অবৈধ লটারি বাণিজ্য : প্রতারনার ফাঁদ পেতে পকেট কাটা হচ্ছে ক্রেতাদের

প্রজন্ম রিপোর্ট

“কেউ দেখে না চোখে, কেউ শোনে না কানে” যশোরের সিটি প্লাজা মার্কেটে লটারির ফাঁদ, অনুমোদন বিহীন র‌্যাফেল ড্র ও লটারি করে দ্বিগুন দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগ।

প্রতি বছর লটারির নামে প্রতারণা চললেও যশোরের প্রশাসনের নিরব ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষ অবাক। প্রতিদিন লটারির নামে লক্ষ লক্ষ টাকা সাধারণ মানুষের পকেট থেকে যাচ্ছে মার্কেট কমিটির পকেটে। মার্কেটটিতে চলছে মগের মুল্লুক!

প্রতিবছর ঈদ বা পূজা আসলেই শুরু হয় সিটি প্লাজার র‌্যাফেল ড্র ও লটারি ফাঁদ ! এর আগেও লটারীর নামে ক্রেতাদের সাথে প্রতারনার অভিযোগ হয়েছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।

পরে সেটির একটি ভিডিও ফুটেজ স্যোসাল মিডিয়াতে ভাইরাল হলে, কর্তৃপক্ষ তাতক্ষনিক লটারীর টাকা দিয়ে কম্বল কিনে গরীবদের মাঝে বিতরনের ঘোষনা দেন। কিন্তু আজ অবধী বিতরন করা হয়নি সেই কম্বলগুলি।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লটারি নিয়ে যশোরের বৃহৎ শপিং মল সিটি প্লাজা প্রশ্নবিদ্ধ। লটারীর ঘোষনা দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করছেন তারা। সমাজের বিবেকবান মানুষেরা দেখেও না দেখার ভান করছেন !

আর সাধারণ মানুষের লটারির ফাঁদে এই উচ্চমূল্যের কারণে নাভিঃশ্বাস উঠছে, কিন্তু কেউই নেই এর লাগাম টেনে ধরার মতো। কিন্তু কারো যেন নজর নেই এদিকে।

যথারীতি প্রশাসনের বিনা অনুমতিতেই চলছে এই লটারি। গতকাল সরেজমিনে শপিং মলটি ঘুরে দেখা যায়, পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হওয়া এই লটারি চলবে দূর্গা পূজা অবধী।

ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে শহরব্যাপি মাইকিং ও করা হচ্ছে মাইকিং এ প্রথম পুরস্কার একটি ৮০০ সিসি প্রাইভেট কার, ২য় পুরস্কার একটি ১৫০ সিসি হাংক মোটরসাইকেল ও ৩য় পুরস্কার একটি স্কুটি মোটরসাইকেল ও ৪র্থ পুরস্কার হিসেবে বলা হচ্ছে স্বর্নের চেইন।

এমন আরো হরেক রকমের পুরস্কারের ঘোষনা দিয়ে দেদারসে বেশী দামে পন্য বিক্রয় করে চলেছে। মার্কেটে আগত অনেক ক্রেতারা বলেছেন, “মার্কেটে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলাম কিন্তু অন্য মার্কেটের তুলনায় এই মার্কেটে লটারির প্রলোভন দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছে সবকিছুই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে মার্কেট কর্তৃপক্ষ কারো কোন অনুমতি ছাড়াই চালিয়ে যাচ্ছে এই লটারি। এ বিষয়ে দৈনিক প্রজন্মের ভাবনা পত্রিকার পক্ষ থেকে যশোর সিটি প্লাজা মার্কেট কমিটির সভাপতি ও ক্যাফে ডিলাইটের মালিক শফিকুর আজাদ এর কাছে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন,

আমাদের মার্কেটে লটারি হচ্ছে এটা সত্য তবে কোন দোকানদার যদি বেশি দামে পন্য বিক্রয় করে থাকে তবে ক্রেতা আমাদের কাছে সরাসরি অভিযোগ করলে তার ব্যবস্থা আমরা নিব।

প্রশাসনের অনুমতিপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি প্রথমে বলেন, আমরা ঢাকা থেকে লটারির অনুমোদন নিয়েছি। যশোরের জেলা প্রশাসক এর কাছে অনুমতি নিয়েছেন কিনা বা জানতে চাইলে তিনি বলেন,

যশোর জেলা প্রশাসক অফিসের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েই আমরা এই লটারি পরিচালনা করছি। একপর্যায়ে তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট না করার জন্য অনুরোধ করেন। এ বিষয়ে যশোর এর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম জানান,

সিটি প্লাজা মার্কেটে যে চলমান লটারি তার জন্য মার্কেট কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি নিয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই। আগামিকাল অফিস চলাকালিন সময় ফাইল দেখে জানাতে পারবো। যশোর জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা’র ডি.আই.ওয়ান এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,

সিটি প্লাজায় যে লটারি চলছে তার কোন অনুমতি পত্র আছে কিনা আমার জানা নেই।

যশোরের অন্যান্য মার্কেটের ব্যবসায়ীরা বলছে, এভাবে যদি প্রত্যেক বছর সিটি প্লাজা মার্কেট প্রশাসনের বিনা অনুমতিতেই এমন প্রলোভন দেয় তবে আমাদের কাছে ক্রেতা আসবে কেন ?

তাহলে কি আমাদেরকেও এই ধরণের চালাকির আশ্রয় নিতে হবে ? আর সিটি প্লাজা যদি গ্রাহকদের সাথে এমন প্রতারণা করে তাহলে যশোর মার্কেটের গ্রাহকরা খুলনা বা অনত্র কেনাকাটা করবে ।

এ বিষয়ে তারা প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

মন্তব্য