যশোর সিটি প্লাজা মার্কেটে অনুমোদন বিহীন লটারি এখনও অব্যহত:ডিসি’র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

যশোর সিটি প্লাজা মার্কেটে অনুমোদন বিহীন লটারি এখনও অব্যহত:ডিসি’র দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস

প্রজন্ম রিপোর্ট

কাউকে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করেই দেদারসে চলছে যশোর সিটি প্লাজা মার্কেটের অনুমোদন বিহীন লটারি। বারবার বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশের পরও থেমে নেই মার্কেট কমিটি। এদিকে প্রশাসন ও রয়েছে নিরব ভূমিকায়।

যশোরের সাধারণ মানুষের মনে জন্ম নিচ্ছে অনেক ধরণের প্রশ্ন। এদের খুটির জোর কোথায় ? কাদেরকে ম্যানেজ করে চলছে এমন অনিয়ম ! অবৈধ লটারি,দ্বিগুন দামে পন্য বিক্রয় ও নামিদামি পন্যের ব্রান্ড ট্যাগ লাগিয়ে প্রতারণা অব্যহত রেখেছে মার্কেট কমিটি।

যশোরের সিটি প্লাজা মার্কেটে লটারির ফাঁদ, অনুমোদন বিহীন র‌্যাফেল ড্র ও লটারি করে দ্বিগুন দামে পণ্য বিক্রির অভিযোগের ব্যাপারে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় রিপোর্ট ও ছাঁপা হয়েছে অনেক । তারপরও প্রতি বছর লটারির নামে চলে এই ধরণের প্রতারণা। প্রতিবছর ঈদ বা পূজা আসলেই শুরু হয় সিটি প্লাজার র‌্যাফেল ড্র ও লটারি ফাঁদ !

এর আগেও লটারীর নামে ক্রেতাদের সাথে প্রতারনার অভিযোগ হয়েছে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। পরে সেটির একটি ভিডিও ফুটেজ স্যোসাল মিডিয়াতে ভাইরাল হলে, কর্তৃপক্ষ তাতক্ষনিক লটারীর টাকা দিয়ে কম্বল কিনে গরীবদের মাঝে বিতরনের ঘোষনা দেন। কিন্তু আজ অবধী বিতরন করা হয়নি সেই কম্বলগুলি।

প্রতি বছরের ন্যায় এবারও লটারি নিয়ে যশোরের বৃহৎ শপিং মল সিটি প্লাজা প্রশ্নবিদ্ধ। লটারীর ঘোষনা দিয়ে ক্রেতা আকর্ষণ করছেন তারা। এমন অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় একের পর এক সংবাদ প্রকাশ হলেও প্রশাসনের বিশেষ কোন নজর নেই ! যথারীতি প্রশাসনের বিনা অনুমতিতেই এখনও চলছে এই লটারি।

গতকাল সরেজমিনে শপিং মলটি ঘুরে দেখা যায়, পবিত্র রমজান মাসের প্রথম দিন থেকেই শুরু হওয়া এই লটারি চলছে এখনও। পত্র পত্রিকায় এ সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশের পর এবার মার্কেট কর্তৃপক্ষ মার্কেটের সামনে একটি ব্যানার ঝুলিয়েছে, তাতে লেখা আছে সিটি প্লাজার ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে লাকি কুপন।

এক এক বছর এক এক রকম ঘোষনা দিয়ে তারা সাধারণ মানুষের চোঁখে ধূলো দিয়ে লটারির নামে প্রচুর টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা। ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষন করতে শহরব্যাপি মাইকিং ও করা হচ্ছে মাইকিং এ প্রথম পুরস্কার একটি ৮০০ সিসি প্রাইভেট কার, ২য় পুরস্কার একটি ১৫০ সিসি হাংক মোটরসাইকেল ও ৩য় পুরস্কার একটি স্কুটি মোটরসাইকেল ও ৪র্থ পুরস্কার হিসেবে বলা হচ্ছে স্বর্নের চেইন।

এমন আরো হরেক রকমের পুরস্কারের ঘোষনা দিয়ে দেদারসে বেশী দামে পন্য বিক্রয় করে চলেছে। এমনকি মাইকিং এর ও অনুমোদন নেই বলে অভিযোগ আছে তাদের বিরুদ্ধে। মার্কেটে আগত ক্রেতা উপশহরের আমিনুল ইসলাম বলেন, “মার্কেটে পরিবার নিয়ে ঈদের কেনাকাটা করতে এসেছিলাম কিন্তু অন্য মার্কেটের তুলনায় এই মার্কেটে লটারির প্রলোভন দিয়ে চড়া দামে বিক্রি করছে সবকিছুই।

আবার নামিদামি পন্যের ট্যাগ লাগিয়ে বিক্রি করা হচ্ছে ননব্রান্ড পন্য। যশোরের কালেকটরেট মার্কেটে গিয়ে দেখেছি একই জামা কাপড় অনেক কমদামে।এ বিষয়ে পত্রিকার পক্ষ থেকে যশোর জেলা প্রশাসকের কাছে জানতে চাইলে, তিনি বলেন, সিটি প্লাজা মার্কেটে যে চলমান লটারি তার জন্য মার্কেট কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছ থেকে কোন অনুমতি নেয়নি।

আর ব্যস্ততার কারণে এ বিষয়ে পত্রপত্রিকার রিপোর্ট দেখা সম্ভব হয়নি। আমি দ্রুত এর ব্যবস্থা নিব।যশোর সিটি প্লাজা মার্কেট কমিটির সভাপতি শফিকুর আজাদ বলেন, যশোর জেলা প্রশাসক অফিসের কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়েই আমরা এই লটারি পরিচালনা করছি।

একপর্যায়ে তিনি এ বিষয়ে রিপোর্ট না করার জন্য অনুরোধ করেন। এর আগে এই বিষয়ে যশোর এর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম ও জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা’র ডি.আই.ওয়ান কে পত্রিকার পক্ষ থেকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছিল।

মন্তব্য