পেছানো হলো মনিরামপুর বিএনপি’র সন্মেলন তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দেওয়ার আশ্বাস

মনিরুজ্জামান টিটো

অবশেষে পিঁছিয়ে দেওয়া হলো মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি’র কাউন্সিল। আসন্ন কাউন্সিলে নেতা নির্বাচন নিয়ে দৈনিক প্রজন্মের ভাবনা পত্রিকায় গত ২৮ সেপ্টেম্বর শনিবার,

তৃণমূল নেতাদের মতপ্রকাশের দাবি শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর জেলা বিএনপি’র নীতিনির্ধারকরা পিছিয়ে দিলেন সম্মেলনের দিনক্ষণ। আজ ৩০ সেপ্টেম্বর সন্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও তা পরিবর্তন হয়েছে বলে জানা গেছে ।

আগামী ১০ অক্টোবর কাউন্সিলের পরবর্তী তারিখ বলে জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। দলীয় একাধিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় দশ বছর পর আজ সোমবার মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি’র সন্মেলনের দিন ধার্য্য ছিলো। এ সন্মেলনকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রাণচাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

আগামী কমিটিতে পদ প্রত্যাশীরা দলীয় হাইকমান্ডসহ তৃণমূল নেতা-কর্মীদের সাথে যোগাযোগ ও দোয়া-আর্শিবাদ নিতে থাকেন। নিজ নিজ বলায় থেকে পদ প্রত্যাশীরা গ্রুপিং-লবিং চালিয়ে যেতে থাকেন। স্থানীয় বিএনপি’র চির পরিচিত দু’টি গ্রুপের মধ্যে বলয় সৃষ্টিতে চলতে থাকে বহর-মহড়া।

সন্মেলনে বহর দেখিয়ে, প্রভাব খঁাটিয়ে পদ বাগিয়ে নিতে উভয় গ্রুপই তৎপর হয়ে ওঠে। সুত্রমতে, বহরে কাজ না হলে সন্মেলন ভন্ডুল করতেও প্রস্তুতি নিতে থাকে পদ প্রত্যাশী কতিপয় নেতা। স্থানীয় বিএনপি’র একাধিক দ্বায়িত্বশীল নেতা জানান, সন্মেলনে বহর প্রদর্শণ করে বা বিশৃংখলা সৃষ্টি করা হলে নেতা-কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সেটাকে ভালো ভাবে নিবে না। এমনকি বিশৃংখলা হলে প্রশাসন নেতা-কর্মীদের ওপর শক্ত অবস্থানেও যেতে পারে। তাতে আগামী দিনের জন্য বিএনপির সকল কার্যক্রম বাঁধাগ্রস্ত হতে পারে।

তবে কাউন্সিলরদের নিয়ে ও তাদের মতামতের প্রাধ্যান্য দিয়ে সন্মেলন করলে হয়তো সকলের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে বলেও আশা প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এরই মধ্যে তৃণমূল থেকে সরাসরি কাউন্সিলরদের মতামতে নেতা নির্বাচনের জন্য জোর দাবি ওঠে।

স্থানীয় বিএনপির একাধিক প্রবীন ও ত্যাগী নেতা-কর্মীরা জানান, সামনে নেত্রীর মুক্তির আন্দোলন, সুতরাং এবারের কাউন্সিল খুবই গ্ররুত্বপূর্ণ। গতানুগতিক ভাবে নেতৃত্ব চাঁপিয়ে দিলে তা আর মেনে নেওয়া হবে না বলেও অনেকে মন্তব্য করেন।

তাদের দাবি, স্থানীয় নেতত্ব বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাদের মতামত নিতে হবে। কোন প্রকার চাঁপিয়ে দেওয়া কমিটি মানতে নারাজ তারা। সে দিকটা বিবেচনা করেই আজকের সন্মেলনকে পিছিয়ে দিয়েছেন জেলা নেতৃবৃন্দ। শুধুমাত্র কাউন্সিলরদের অংশগ্রহনেই সুষ্ঠ ও সুন্দর পরিবেশে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে গণতান্ত্রিক চর্চার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয় নেতা-কর্মীদের ধারনা।

জেলা কমিটির এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে স্থানীয় নেতা-কর্মীরা। এব্যাপারে জেলা বিএনপির সন্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সদস্য সচিব এ্যড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু জানান, বিএনপি গণতান্ত্রিক চর্চার কালচার অব্যহত রাখতে তৃণমূলের মতামতকে প্রাধান্য দিবে।

তবে এই মূহুর্তে পূর্ণাঙ্গ কমিটি নয়, মণিরামপুরের সকল ইউনিয়ন, পৌর ও ওয়ার্ড কমিটি পুনরুজ্জীবিত করে সন্মেলন প্রস্তুতির লক্ষ্যে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হবে।

জেলা বিএনপির সন্মেলন প্রস্তুতি কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপিকা নার্গিস আক্তার বলেন, আগামী ১০ অক্টোবর মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সন্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। কাউন্সিলরদের মতামতকেই বিএনপি প্রাধান্য দিবে বলেই তিনি জানান।

মন্তব্য