ছিনতাই আতঙ্কে যশোরবাসী

ছিনতাই আতঙ্কে যশোরবাসী

প্রজন্ম রিপোর্ট

যশোর শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় হটাৎ করে ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ব বেড়েছে। রাস্তার পাশে ঘাপটি মেরে অথবা মোটরসাইকেলে চেপে ছিনতাই সংগঠিত হচ্ছে একেরপর এক। সর্বশেষ ১১ই অক্টোবর শুক্রবার দুপুরে শহরের জেলা ও দায়রা আদালত মোড়ে উড়ন্ত ছিনতাইকারী অর্থাৎ মোটরসাইকেল আরোহী ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে রিকশা থেকে কোলে থাকা শিশু সন্তানসহ রাস্তার ওপর ছিটকে পড়ে আহত হয়েছেন দিপালী বিশ্বাস নামে এক নারী।

পরে তাদেরকে যশোর ২৫০ শয্যা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দিপালি বিশ্বাস জানান, তার বাড়ি মাগুরা শহরের নতুন বাজার এলাকায়। তার স্বামী উত্তম বিশ্বাস। তার বাবার বাড়ি মণিরামপুর উপজেলার মশ্মিমনগর গ্রামে। ২২ দিন আগে তার বাবা হরিপদ হালদার মারা গেছেন। এ খবর পেয়ে তিনি মশ্মিমনগর গ্রামে বাবার বাড়িতে গিয়েছিলেন। গত শুক্রবার মাগুরায় বাড়ি যাবার উদ্দেশ্যে রাজগঞ্জের একটি বাসে করে সেখান থেকে যশোরে আসেন। সাথে ছিলো তার ছেলে রিকো বিশ্বাস, আপন বিশ্বাস (১০) ও ছোটভাই মিঠু হালদার। দুপুর পৌনে ১ টার দিকে চাঁচড়া চেকপোস্ট থেকে তারা রিকশায় চেপে উপশহরস্থ খাজুরা বাসস্ট্যান্ডে যাচ্ছিলেন বাসের জন্য।

পথে জেলা ও দায়রা আদালত মোড়ে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে আসা দুই জন আরোহীদের মধ্যে একজন আচমকা তার ভ্যানেটি ব্যাগ ধরে টান দেয়। এ সময় কোলে বসা ছিলো ছেলে রিকো বিশ্বাস। ছিনতাইকারীরা ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে সন্তানসহ তিনি নিচে পড়ে যান। তাদের চিৎকার চেঁচামেচিতে পথচারীরা ছুটে গিয়ে তাদের উদ্ধার করেন। পড়ে গিয়ে মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায় ওই শিশু। দিপালী বিশ্বাস হাটুতে আঘাত পান।


একজন প্রতক্ষ্যদর্শী জানান, ছিনতাইকারীদের একজন হেলমেট পরেছিলো। অপরজনের মুখে মাক্স লাগানো ছিলো। তারা একটি হ্যাঙ্ক মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলো। তারা মোটরসাইকেলটি জোরে চালিয়ে দড়াটানার দিকে পালিয়ে যায়।
এর আগেরদিন গত বৃহস্পতিবার রাতে যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে উড়ন্ত ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন চাঁচড়া ডালমিল এলাকার টুকু হোসেনের মেয়ে, এমএম কলেজের ছাত্রী উষা আক্তার। তিনি জানান, তার বোনের বাড়ি মিশন পাড়ায়।

বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯ টার দিকে চাঁচড়া ডালমিলের বাড়ি থেকে রিকশায় করে তিনি বোনের সাথে মিশন পাড়ায় তার বাড়ি যাচ্ছিলেন। পথে পৌর কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি বাজাজ পালসার মোটরসাইকেলে ২ যুবক এসে আচমকা তার ভ্যানেটিব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। ব্যাগে তার একটি মোবাইল ফোন সেট ও ৪-৫শ’ টাকা ছিলো।

ছিনতাইকারীরা আচমকা তার ব্যাগ ধরে টান দেওয়ায় ভারসাম্য হারিয়ে তিনি চলন্ত রিকশা থেকে পড়ে যান। পুরাতন কসবা ফাঁড়ি পুলিশের এসআই সুকুমার কুন্ডু ওই যুবতীকে উদ্ধার করে রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
এর ঠিক ৩ দিন আগে শহরের লোহাপট্টি এলাকার ইভা খাতুন নামে এক যুবতী ও তার এক বান্ধবীসহ রিকশাযোগে সরকারি মোমিন গার্লস স্কুলের সামনে পৌছালে তাদের সাথেও ঘটে এই একই ঘটনা।


উল্লেখ্য যে, এর আগে গত ৮ই আগস্ট তালবাড়িয়ায় এনজিও কর্মী অনুপমা বিশ্বাসের টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনতাই হয়।
১৯ আগস্ট রাতে শহরের ঈদগাহ ময়দানের পাশে সাহাবুদ্দিন খান নাসিম নামে এক ব্যক্তির ব্যাগ উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। ২৯ আগস্ট দিনদুপুরে শহরের ষষ্ঠীতলায় মহিদুজ্জামান লিটন নামে এক যুবকের ২ লাখ টাকা ছিনতাই করে নিয়ে যায় মোটরসাইকেল আরোহী উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা। ১লা অক্টোবর বিকেলে শহরের মণিহার এলাকায় চলন্ত ইজিবাইক থেকে সবিতা রানী নামে একজন স্কুল শিকিক্ষার গলার সোনার চেইন ছিনিয়ে নিয়ে যায় এক দুর্বৃত্ত।

সবিতা রানী বালিয়াডাঙ্গার প্রগতি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা। ঘটনার সময় তিনি নীলগঞ্জের বাড়ি থেকে ইজিবাইকযোগে শংকরপুরস্থ বাসটার্মিনালে যাচ্ছিলেন।
৩ অক্টোবর রাতে যশোর সিটি কলেজ গেটে ছিনতাইকারীর কবলে পড়েন বকচর হুশতলা ও উপশহর এলাকার ২ যুবক। পূজা মন্ডপে লাইটিংয়ের কাজ শেষে ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা তাদের গতিরোধ করে একটি মোবাইল ফোন সেট ও ১ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। অবশ্য পরে স্থানীয় লোকজন ছিনতাই ঘটনায় জড়িত ঘোপের রানা হোসেন জনি ও তার এক সহযোগীকে আটক করে পুলিশে দেন।


শুধু এই ঘটনাগুলো নয়, যশোরের বিভিন্ন রাস্তায় ও অলিগলিতে অহরহ ঘটছে ছিনতাই ও চুরির ঘটনা। ছিনতাইকারী ও চেরদের তৎপরতাও বেড়ে গেছে অনেকগুন। প্রায়ই প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও চুরি বা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। তবে মোটরসাইকেলে আগত উড়ন্ত ছিনতাইকারীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু এই ছিনতাইকারীদের বেশীরভাগ এখনো রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।

আর এ কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ ছিনতাইকারীদের সনাক্ত করে আটক করতেও খুব একটা সক্ষম হচ্ছে না বলে অনেকে অভিযোগ করেছেন। যশোর কোতয়ালির ওসি মো. মনিরুজ্জামান এ বিষয়ে সাংবাদিকদের বলেন, দিপালী বিশ্বাস এর কাছ থেকে ছিনতাই চেষ্টার ব্যাপারে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন।

ফুটেজ দেখে ছিনতাইকারীদের শনাক্তের চেষ্টা করা হচ্ছে। পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের আটক করতে নানাভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। একই সাথে তিনি ছিনতাইকারীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে সাধারণ জনগণের সহযোগিতাও কামনা করেছেন।

মন্তব্য