মেহেরপুর হাসপাতালে উপচেপড়া ভিড়

প্রজন্ম ডেস্ক

আবহাওয়া পরিবর্তনের সাথে সাথে মেহেরপুর হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। ১০০ শয্যার বিপরীতে ভর্তি রয়েছে ৫ শতাধিক। আর বর্হিবিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছে হাজারেরও বেশি প্রতিদিন।

এ অবস্থায় স্বল্প জনবল দিয়ে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কতৃপক্ষকে। সাথে দেখা দিয়েছে ওষুধ সংকটও।

কাগজে কলমে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল হলেও এখানে শয্যা আছে ১০০টি। শয্যা না পেয়ে অনেকেরই ঠাঁই হয় বারান্দায়। ফলে চিকিৎসা নিয়ে একটি রোগ নিরাময় হলেও আরো একটি রোগে আক্রান্ত হবার শংকা থেকেই যায়।

দেখা যায়, মা ও শিশু ওয়ার্ডে ২০ শয্যার বিপরীতেই এখানে ভর্তি রয়েছে শতাধিক রোগী। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে এখন শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে ঠান্ডা, জ্বর, নিউমোনিয়া, ব্রঙ্কাইটিস ও ডায়রিয়ায়। আর বড়রা বেশি আক্রান্ত হচ্ছে শ্বাসকষ্টজনিত রোগে।

এখানে বর্হিবিভাগে প্রতিদিনই চিকিৎসা নিতে আসেন হাজারেরও বেশি রোগী। ৪২ চিকিৎসকের বিপরীতে হাসপাতালে কর্মরত আছেন ১৭ জন চিকিৎসক। ফলে আন্তঃবিভাগ ও বর্হিবিভাগে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হয় চিকিৎসকদের।

আবার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরও সংকট রয়েছে এখানে। অনেক সময় মেডিকেল এ্যাসিস্টেন্ট দিয়ে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে রোগীদের। পাশপাশি দেখা দেয় ওষুধ সংকটও। কারণ ১০০ শয্যা অনূযায়ী এখানে সরকারিভাবে ওষুধ বরাদ্দ দেওয়া হয়। ফলে বছর পেরোনোর আগেই শেষ হয়ে যায় ওষুধ।

এ ছাড়া বর্হিবিভাগে রোগীর চাপ বেশি হওয়ায় দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করতে হচ্ছে রোগীদের। এতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।

গাংনী উপজেলার বামুন্দী গ্রামের আম্বিয়া খাতুন জানান, এক সপ্তাহ ধরে এখানে তার বাচ্চাকে নিয়ে এসে ভর্তি রয়েছেন। বিপুল রোগীর চাপে চিকিৎসা নিতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। একজন মাত্র শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রয়েছে। অথচ এখানে ভর্তি রয়েছে শতাধিক রোগী।

সদর উপজেলা কোলা গ্রামের রোগীর স্বজন জানান, প্রায় দুই ঘন্টা ধরে বর্হিবিভাগে অপেক্ষা করছেন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের জন্য। তিনি হাসপাতালে ভর্তি শিশু রোগী দেখে আউটডোরে বসবেন। ফলে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে তাদের।

হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ তাহাজ্জেল হোসেন জানান, অতিরিক্ত রোগীর চাপে মাঝে মাঝেই ওষুধেও সংকট দেখা দেয়। তবে এখন হাসপাতালে পর্যাপ্ত ওষুধ রয়েছে। জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা দিতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামাল দিতে তাদের বেগ পেতে হচ্ছে। বার বার উধ্র্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েও কোন সমাধান হচ্ছে না।

মন্তব্য