বিএনপি থেকে পদত্যাগ করছেন আরো সাত সিনিয়র নেতা!

প্রজন্ম ডেস্ক

 বিএনপি থেকে পদত্যাগ করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান। এই জ্যেষ্ঠ নেতার পদত্যাগের পরদিনই দল ছাড়ার ঘোষণা দেন স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান। এখন আরো অন্তত  সাত সিনিয়র নেতার বিএনপি ছাড়ার গুঞ্জন শোনা যাচ্ছেন, যাদের পাঁচ জনই ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন।

বিগত কয়েক বছরে বিএনপির সিনিয়র নেতাদের মধ্যে ভাইস চেয়ারম্যান শমসের মবিন চৌধুরী, মোসাদ্দেক আলী ফালু, ইনাম আহমেদ চৌধুরীর পর মঙ্গলবার বিএনপি ছাড়েন আরেক ভাইস চেয়ারম্যান এম মোরশেদ খান। মাহবুবুর রহমানের পদত্যাগের মধ্য দিয়ে বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরামের কেউ প্রথমবারের মতো দল ছাড়লেন।

জানা যায়, বিএনপি ছাড়ছেন বলে যাদের কথা শুনা যাচ্ছে তাদের মধ্যে আছেন শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী। এছাড়া আরেক ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান দলে স্থায়ী কমিটির সদস্যপদ না পেয়ে হাইকমান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ আছেন। দলের নীতিনির্ধারণী ফোরামে জায়গা না হলে তিনিও পদত্যাগ করতে পারেন বলে শোনা যাচ্ছে।

সবশেষ বিএনপির স্থায়ী কমিটির শূণ্য পদে জায়গা হয়েছে সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান টুকুর। স্থায়ী কমিটিতে উল্লেখিত নেতাদের নাম বহু দিন ধরেই ঘুরেফিরে আসছিল। কিন্তু তাদের সেই মূল্যায়ন এখনও করা হয়নি। এ কারণে তারা দলের হাইকমান্ডের ওপর ক্ষুব্ধ।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, অবমূল্যায়নের কারণে চট্টগ্রামের আরও একজন নেতা ও বরিশালের এক নেতাও পদত্যাগ করতে পারেন। তারা দু’জনই বিএনপির কেন্দ্রীয় সিনিয়র নেতা। তবে পদত্যাগের বিষয়টি উড়িয়ে দিয়ে এসব নেতা বলেন, এটা গুঞ্জনই। এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে দল পরিচালনায় স্থায়ী কমিটির নেতা ছাড়া ভাইস চেয়ারম্যান ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টাদের সঙ্গে কোনো আলোচনাও হয় না। যদিও স্থায়ী কমিটির পর ভাইস চেয়ারম্যানরাই বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদ। বিএনপির দুই ভাইস চেয়ারম্যান নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ বিষয়ে বলেন, দলের কোনো সিদ্ধান্তই জানতে পারি না। প্রতিদিন শুনতে পাই নয়াপল্টনে স্কাইপে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের নিয়ে ডেকে ডেকে কথা বলেন। কী বলেন, কী সিদ্ধান্ত নেন তাও জানি না। দলে আছি কী নেই তাও জানি না।

এ বিষয়ে আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘আরও অনেক সাংবাদিক আমাকে ফোন দিয়েছিলেন। এরপর আমি নিজে থেকে অনেক নেতার সঙ্গে কথা বলেছি। সবাই বলেছে ‘এটি ভুয়া খবর।’

দলের মধ্যে যে ক্ষোভ বিরাজ করছে তা কীভাবে দূর করা সম্ভব জানতে চাইলে তিনি বলেন, ক্ষোভ দূর করা সম্ভব নয়; ক্ষোভের কারণ দূর করতে হবে।

মন্তব্য