চুনোপুঁটি ধরে জনগণের দৃষ্টি আড়ালের চেষ্টা: ফখরুল

প্রজন্ম ডেস্ক

দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলমান শুদ্ধি অভিযানে যাদের ধরা হচ্ছে তাদেরকে ‘চুনোপুঁটি’ হিসেবে দেখছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এর মাধ্যমে সরকার প্রকৃত দুর্নীতিবাজদের না ধরে জনগণের দৃষ্টির আড়াল করতে চাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। 

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে ‘৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সরকারের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘চুনোপুঁটি ধরে আর ক্যাসিনো গল্প সাজিয়ে সরকার তাদের দুর্নীতি আড়াল করতে চায়। তাদের দুর্নীতি এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে ফলে তাদের চুনোপুঁটিগুলোকে ধরতে হচ্ছে। একটা কথা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই চুনোপুঁটি ধরে আর ক্যাসিনো গল্প সাজিয়ে মূল দুর্নীতি থেকে আপনি (প্রধানমন্ত্রী) জনগণের দৃষ্টি আড়াল করতে পারবেন না।’

প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করেছেন, এর হিসাব কোথায়? শেয়ারবাজার থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট করে নিয়েছেন, তার হিসাব কোথায়? তার হিসাব থাকবে না এ কারণেই যে, তার কেউ আপনাদের মন্ত্রী, কেউ আপনাদের উপদেষ্টা, আবার কেউ আপনাদের আপনজন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘গতকাল সারাদিন সাদেক হোসেন খোকার বিভিন্ন জানাজা ছাড়া আর কোনো খবর ছিল না। আজ আমাদের পত্র-পত্রিকাগুলোকে লক্ষ্য করবেন, এটাকে বেশির ভাগ পত্রিকা ভেতরের ও পেছনের পেইজে দিয়েছে। আমি জানি মিডিয়াগুলোকে প্রশ্ন করলে তারা বলবে, আমাদের করার কিছু নেই। আমাদেরকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কেউ নির্দেশে করছে আবার কেউ স্বপ্রণোদিতভাবে করেছে, কারণ এটা ছাপলে হয়তো বা তার ব্যবসা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। যারা কথা বলেন তাদের টেলিভিশনে ডাকা হয় না, যারা লেখেন তারা ঘর থেকে বের হতে পারেন না।’

সরকারে যারা আছেন তারা ৭ নভেম্বরকে স্বীকার করেন না মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘তারা স্বীকার করবে কেন? তারা তো দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বিশ্বাস করেন না। যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বে বিশ্বাস করে, বাংলাদেশকে সারা পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেখতে চায়, তারা অবশ্যই ৭ নভেম্বরকে বিশ্বাস করে।’

নেতাকর্মীদের উদ্দেশে ফখরুল বলেন, ‘দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি করতে হলে, গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে হলে, আমার অধিকারগুলোকে ছিনিয়ে আনতে হলে আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে, রাস্তায় নামতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’

প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানীর সঞ্চালনায় সভায় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, নিতাই রায় চৌধুরী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ, ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাশার, যুবদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি সুলতান সালাউদ্দিন টুকু প্রমুখ বক্তব্য দেন।

মন্তব্য