বাঘারপাড়ায় স্ত্রী হত্যা মামলাঃ স্বামী জুলফিকারের আদালতে আত্মসমর্পণ

প্রজন্ম রিপোর্ট

যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় গৃহবধু জিনিয়া ইয়াসমিন তুলি হত্যা মামলায় তার স্বামী এজাহারভূক্ত আসামি ঢাকা বিমান বাহিনীর কর্পোরাল জুলফিকার আলী (বিডি-৪৭০০৩১) আদালতে আত্মসমর্পণ করেছে। গতকাল সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গৌতম মল্লিক জুলফিকার আলীর জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

জুলফিকার বাঘারপাড়া উপজেলার পান্তাপাড়া গ্রামের মৃত মোশারফের ছেলে। এর আগে এই মামলা তদন্ত শেষে তিনজনকে আসামি করে করে আদালতে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। চার্জশিটে প্রধান আসামি জুলফিকারের ভাই যশোর বিমান বাহিনী কর্পোরাল প্রভোস্ট (বিডি-৪৭০৭১৯) শাহাবুদ্দিনকে আটক ও অন্য দুজনকে পলাতক দেখানো হয়। এরপর জুলফিকার আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও তার মা ফরিদা বেগম রয়েছে এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

গত ১৩ই এপ্রিল স্বামী জুলফিকার তার স্ত্রী তুলির সাথে ঘরের মধ্যে মোবাইলে কথা বলতে থাকে এমন সময় মা ফরিদা দরজা আটকে দেয়। পরে শাহাবুদ্দিন ঘরের ভিতরে তুলিকে ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়িভাবে কুপিয়ে জখম করে। তুলিকে প্রথমে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরে সিএমএইচ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে ১৪ এপ্রিল তিনি মারা যায়। একই সাথে দুই বছরের শিশু আলিফ ও এক বছরের শিশু হামজা মা হারা হন। এ ঘটনায় নিহত তুলির পিতা ঝিকরগাছা উপজেলার মোবারকপুর গ্রামের শহিদুল বাদী হয়ে মামলা করেন।

কিন্তু ওই মামলায় এজাহারে অজ্ঞাত কারনে স্বামীর নাম বাদ দেয়া হয়। পুলিশ ঘাতক শাহবুদ্দিনকে আটক করে আদালতে সোপর্দ করে। পরে বাঘারপাড়া থানার এস আই রফিকুল ইসলাম মামলাটি তদন্ত করে জুলফিকারের সম্পৃক্ততার প্রমান পান। একই সাথে চার্জশিটে তিনজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে উঠে আসে স্ত্রী তুলি ও দুই শিশু পুত্র থাকলেও তাদেরকে ফেলে জুলফিকার আরেকজনকে বিয়ে করে ঢাকায় সংসার পাতে।

এ নিয়ে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে চরম দন্দ্বের সৃষ্টি হয়। এরপর জুলফিকারের পরিকল্পনায় তারই ভাই শাহবুদ্দিন হত্যা করে তুলিকে। আর এ হত্যায় সহযোগিতা করে জুলফিকারের মা ফরিদা বেগম।

মন্তব্য