মুশফিক-মুমিনুলদের স্পিন সামলানোর শিক্ষা ম্যাকেঞ্জির

প্রজন্ম ডেস্ক

স্পিনাররা যে নেটে বোলিং করছেন, সেখানে আম্পায়ারের জায়গায় দাঁড়ানো নিল ম্যাকেঞ্জি। নতুন ব্যাটসম্যানের খেলা প্রথম কয়েকটি বল নিজের ক্যামেরায় রেকর্ড করে নিচ্ছেন। পরে বিশ্লেষণ করবেন। কিছুক্ষণ সেখানে দাঁড়িয়েই ব্যাটসম্যানকে দিলেন নির্দেশনা। পরে গিয়ে দাঁড়ালেন কিপারের জায়গায়। কোনো ভুল শট খেললেই বলছেন, কোথায় কি ভুল হচ্ছে। এভাবেই টেস্ট দলের সঙ্গে কাজ শুরু হলো বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচের।

চুক্তি ছিল কেবল সীমিত ওভারের দলের সঙ্গে কাজ। কিন্তু ম্যাকেঞ্জিতে মুগ্ধ ছাত্ররা তাকে চাইতেন টেস্টে। বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটে দক্ষিণ আফ্রিকার সাবেক ব্যাটসম্যানের পরামর্শ যে আরও বেশি দরকার তাদের। প্রথমবারের মতো টেস্ট্ দলের অনুশীলনে যোগ দিয়ে মুশফিকুর রহিম-মুমিনুল হকদের স্পিন সামলানোর কৌশল শেখালেন ম্যাকেঞ্জি। 

ইন্দোরে আগামী বৃহস্পতিবার শুরু হবে দুই টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। হলকার স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার পাশাপাশি দুটি নেটে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ। একটি নেটে বোলিং করলেন কেবল পেসাররা। সেটা ছিল পুরোপুরি পেস বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টের তত্ত্বাবধানে। আরেকটি নেটে ছিলেন শুধু স্পিনাররা। সেটা ছিল স্পিন বোলিং কোচ ড্যানিয়েল ভেটোরির তত্ত্বাবধানে।

প্রথম দিন অনুশীলনে ম্যাকেঞ্জির মনোযোগের কেন্দ্রে ছিল স্পিন বোলিংয়ের নেট। সবার আগে নেটে ব্যাটিং করেন মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ। মুশফিকের ব্যাটিং রেকর্ডিং দিয়ে শুরু হয় ম্যাকেঞ্জির কাজ।

স্পিন বোলিং নেটে চারটি স্টাম্প দিয়ে শর্ট লেগ ও সিলি পয়েন্ট চিহ্নিত করা ছিল। ব্যাটসম্যানদের প্রতি নির্দেশনা ছিল কোনোভাবে এই দুই জায়গায় ক্যাচ দেওয়া যাবে না।

এতো দিন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দ্রুত রান তোলার কৌশল শেখাতেন ম্যাকেঞ্জি। এবার শেখাচ্ছেন রক্ষণের কৌশল। ক্ষত-বিক্ষত উইকেটে কিভাবে আগলে রাখতে হয় নিজেকে। কোন বল খেলার সময় মাথা কোথায় থাকবে, ব্যাটের ব্লেড কোন দিকে থাকবে দেখিয়ে দিচ্ছিলেন ব্যাটিং কোচ।

ক্রিজের অনেক বেশি গভীরে গিয়ে খেলার পরামর্শ দিতে দেখা যায় ম্যাকেঞ্জিকে। কখনও নিজেই দেখান পিচ ব্যবহার করে কিভাবে নিজেকে দেওয়া যায় বাড়তি সময়। 

মুশফিকের ব্যাটিংয়ের শেষ দিকে প্রায় প্রতি বলেই তার সঙ্গে কথা বলছিলেন ম্যাকেঞ্জি। বোঝাই যাচ্ছিল বল মাটিতে নামিয়ে রাখার কৌশল নিয়ে কথা বলছেন দুই জনে। একই জায়গা থেকে আচমকা লাফিয়ে ওঠা কিংবা নিচু হয়ে যাওয়া বল কিভাবে সামলানো যায় তার কৌশল দেখাচ্ছিলেন ম্যাকেঞ্জি।

ক্ষত-বিক্ষিত উইকেটে অনিশ্চিত টার্নের সময় কিভাবে যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত থাকা যায় সেটা নিয়ে মুশফিকের সঙ্গে কথা বলছিলেন তিনি। পিচের একটা জায়গা বল খেলে কোনো দিকে বল টার্ন করলে, কিভাবে খেলতে হবে জিজ্ঞেস করছিলেন ব্যাটিং কোচ, কখনও সামনের দিকে এগিয়ে, কখনও পিছিয়ে গিয়ে খেলছিলেন মুশফিক।

এক পর্যায়ে এই নেটে মাহমুদউল্লাহকে ডেকে নিয়ে আসেন ম্যাকেঞ্জি। দুই ব্যাটসম্যানকে নিজেই শ্যাডো করে দেখান, কোন বল কিভাবে খেলতে হবে, কোন বল সামনে গিয়ে খেলতে হবে, কোনটায় পেছনে যেতে হবে। 

এরপর নেটে আসেন ইমরুল কায়েস ও মুমিনুল। মুশফিকের পর অধিনায়ক মুমিনুলের সঙ্গে কাজ করেন ম্যাকেঞ্জি। টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানের হেড পজিশন দুয়েকবার ঠিক করে দিতে দেখা যায় তাকে।

ইমরুল-মুমিনুলের ব্যাটিং সেশন শেষে তাদের সঙ্গে আলাদা করে কথা বলেন ম্যাকেঞ্জি। একই চিত্র দেখা যায় মোহাম্মদ মিঠুন ও লিটন দাসের বেলাতেও। পরে নেটে আসেন সাদমান হোসেন ও মোহাম্মদ সাইফ। নেট সেশনের পর তাদের সঙ্গেই সবচেয়ে বেশি সময় কথা বললেন।

শরীরী ভাষাতেই অনেকটা বোঝা যাচ্ছিল রবিচন্দ্রন অশ্বিন, রবীন্দ্র জাদেজা, কুলদীপ যাদবকে সামলানোর উপায় নিয়ে বেশি কথা হচ্ছিল। সংবাদ সম্মেলনে তাতে সায় দিলেন মিঠুন। তবে বিস্তারিত বলতে রাজি হলেন না।

“এটা টেকনিক্যাল ব্যাপার, দলের ভেতরে থাকাই ভালো। এটা আসলে সবাইকে বলার মতো বিষয় নয়। এটা টিম প্ল্যানের মধ্যেই পড়ে।”

ইন্দোর টেস্টে ভারতের স্পিন আক্রমণকে সামলানো সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মনে করছে বাংলাদেশ। মিঠুন জানান, তাই প্রথম দিনের অনুশীলনে স্পিন সামলানো পেয়েছে বাড়তি গুরুত্ব।

“ওদের স্পিনের বিপক্ষে কিভাবে ব্যাটিং করব সেটা নিয়ে বেশি ভাবছি। পেস বোলারদের চেয়ে ওদের স্পিনারদের সামলানো বেশি কঠিন হবে, এমনটাই মনে হচ্ছে। কারণ, পিচ প্রথম এক-দুই দিন ব্যাটিংয়ের জন্য সহায়ক থাকে। তৃতীয় দিন থেকে স্পিনারদের সহায়তা থাকে। সেটা কিভাবে সামলাতে পারি এর জন্য টেকনিক্যাল ব্যাপারগুলো নিয়ে কাজ করছি আমরা।”

মন্তব্য