যশোর সদর ও শহর আ.লীগের সন্মেলনে শাহীন চাকলাদার সমর্থিত প্রার্থী সদরে মোহিত নাথ, শাহারুল এবং শহরে আসাদ ও বিপু জয়ী

যশোর সদর ও শহর আ.লীগের সন্মেলনে শাহীন চাকলাদার সমর্থিত প্রার্থী সদরে মোহিত নাথ, শাহারুল এবং শহরে আসাদ ও বিপু জয়ী

প্রজন্ম রিপোর্ট

কাউন্সিলরদের গোপন ব্যালটের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন যশোর সদর উপজেলা ও শহর আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব। ত্রি-বার্ষিক এই নির্বাচনে কাউন্সিলরদের ভোটে যশোর সদর উপজেলা আওয়ামীলীগে ফের সভাপতি হন মোহিত কুমার নাথ ও নতুন সাধারণ সম্পাদক নির্বাহিত হন শাহারুল ইসলাম। অপরদিকে কাউন্সিলরদের ভোটে যশোর শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন এ্যাড: আসাদুজ্জামান আসাদ ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মাহমুদ হাসান বিপু। গতকাল এই দুই ইউনিটের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয় শহরের ঈদগাহ ময়দানে এরপর বিকাল ৩ টা থেকে পৌর কমিউনিটি সেন্টারে সরাসরি কাউন্সিলরদের ভোটের মাধ্যমে কাউন্সিল সম্পন্ন হয়।

এই সন্মেলনে যশোর আওয়ামীলীগের দুইটি পক্ষ থেকে সদর ও শহরে দুইটি প্যানেলকে সমর্থন দেওয়া হয়। এর মধ্যে একটি পক্ষ জোর চেষ্টা করে। যাতে ভোট না করেই সিলেকশনের মাধ্যমে তাদের সমর্থিত প্যানেল প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করা যায়। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের কাউন্সিলরদের দাবির প্রেক্ষিতে যশোর জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে গঠনতন্ত্র অনুযায়ি ভোটের মাধ্যমে নেতা নির্বাচন করবার ব্যাপারে কথা বলেন।

কেন্দ্রীয় নেতারা নেতা নির্বাচনে কাউন্সিলরদের গোপন ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে রায় প্রদানের ব্যবস্থা করেন। পূর্ব থেকে প্রস্তুত করা যশোর পৌর কমিউনিটি সেন্টারের ভোট বুথে বিকাল ৩টার পর থেকে শুরু হয় যশোর সদর উপজেলা ও শহর আওয়ামীলীগের নেতা নির্বাচনে ভোট গ্রহণ কার্যক্রম।

নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আব্দুর রহমান প্রধান নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও খুলনা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের মাননীয় হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন নির্বাচন কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

নির্বাচনে সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ৫৪৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৫৩৩ জন তাদের ভোাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে যশোর আওয়ামীলীগে বিদ্যমান দু‘গ্রুপের সমর্থনে সভাপতি পদে মূলত ২ জন ও সাধারণ সম্পাদক পদে ২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্বিতা করেন। ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রধান নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমান বাকি দুই সদস্যকে সাথে নিয়ে ফলাফল ঘোষনা করেন।

এই নির্বাচনে ২৯০ ভোট পেয়ে মোহিত কুমার নাথ সভাপতি পদে আবারও নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বদ্বিতা মেহেদী হাসান মিন্টু পান ২৩৬ ভোট। সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারুল ইসলাম ৩০৪ ভোট পেয়ে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। নির্বাচনে তার নিকটমত প্রতিদ্বন্দিতা করেন লেবুতলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলিমুজ্জামান মিলন পেয়েছেন ২২০ ভোট। সদর উপজেলা আওয়ামীলীগের ৫৪৬ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ৫৩৪ জন তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।

অপরদিকে যশোর শহর আওয়ামীলীগের ২৫২ জন কাউন্সিলরের মধ্যে ২৪০ জন কাউন্সিলর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। নির্বাচনে ১৪৬ ভোট পেয়ে জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা এ্যাড: আসাদুজ্জামান আসাদ সভাপতি পদে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দিতা কামাল হোসেনের প্রাপ্ত ভোট ৯৭ । এদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জেলা আওয়ামীলীগের দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ হোসেন বিপু ১১৬ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন।

নির্বাচনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দি লুৎফুল কবির বিজুর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যা ৭৭। এছাড়া এই পদের অপর প্রার্থী আজহার হোসেন স্বপন পেয়েছেন ৪৯ ভোট।
উল্লেখ্য এই নির্বাচনের মাধ্যমে যশোর সদর উপজেলা ও শহর আওয়ামীলীগের সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে যারা জয় লাভ করেছেন তারা সকলেই জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহীন চাকলাদার সমর্থিত প্রার্থী।

অপরদিকে এই নির্বাচনে যারা পরাজিত হয়েছেন তারা সকলেই যশোর-৩ সদর আসনের এমপি কাজী নাবিল আহমেদ এর সমর্থিত প্রার্থী হিসেবে জানা যায়। ফলে এই নির্বাচনের মাধ্যমে জেলার রাজনীতিতে শাহীন চাকলাদার প্রার্থীদের জয়জয়াকার। একই সাথে জেলার রাজনীতিতে শাহীন চাকলাদারের প্রভাব আরো এক ধাপ এগিয়ে গেলো। এদিকে নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর বিজয়ী প্রার্থীদের অনুসারিরা তাৎক্ষনিক শহরে আনন্দ মিছিল বের করে। এই মিছিল থেকে বিজয়ী প্রার্থীরা নির্বাচনে তাদের পক্ষে রায় দেওয়ার জন্য সকল কাউন্সিলরদের অভিনন্দন জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মন্তব্য