পরিবহন সেক্টরে অরাজকতার বিরুদ্ধে ১২ দফা দাবি শ্রমিক লীগের

প্রজন্ম ডেস্ক

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন জেলার পরিবহন ইউনিয়নগুলি শ্রম আইন পরিপন্থীভাবে কর্মবিরতির নামে ধর্মঘট ডেকে জনদুর্ভোগ ও পরিবহন সেক্টরে অরাজকতা সৃষ্টি করছে। এ চক্রের বিরুদ্ধে শ্রম আইন মোতাবেক ব্যবস্থাগ্রহণসহ ১২ দফা দাবি জানিয়েছে সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগ।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের আব্দুস সালাম হলে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এ দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মো. ইনসুর আলী বলেন, ফেডারেশনের কর্মকর্তারা ধর্মঘট আহ্বান করে জনগণ ও রাষ্ট্রকে জিম্মি করে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরী করেছেন। আমরা তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ শাস্তি জানাচ্ছি।  

তিনি আরো বলেন, এ ফেডারেশন বিগত ১২ বছরে শ্রম পরিপন্থীভাবে কর্মবিরতির নামে অসংখ্য ধর্মঘট আহ্বান করে বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাকে নস্যাৎ করার চেষ্টায় রয়েছে।

শ্রমিক লীগের নেতা ইনসুর আলী বলেন, পরিবহন খাত দীর্ঘদিন একক নেতৃত্বে ছিল। এখানে নানা অপকর্ম হয়েছে, চাঁদা আদায় হয়েছে এবং সেই চাঁদা সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে।

ইনসুর আলী বলেন,  আপনারা জানেন শাহজাহান খান মন্ত্রী থেকেও ধর্মঘট ডেকে সারাদেশকে অচল করে দিয়েছিল। এ জটিল অবস্থার সাথে তিনি সরাসরি জড়িত ছিলেন। আমাদের দাবি  যেই এ ধরনের বিশৃঙ্খলা তৈরী করুক না কেন তাদেরকে আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

শ্রমিক লীগের এ নেতা ১২ দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- 

১. সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ অনুযায়ী স্ব স্ব মালিক কর্তৃক চালকদের নিয়োগ দান, নূন্যতম মাসিক বেতন ৩০ হাজার টাকা প্রদান ও ৮ ঘণ্টা কর্মবিরতি নির্ধারণ করতে হবে।

২. সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের মালিক কর্তৃক খোরাকি, চিকিৎসা ভাতা, দুই ঈদ ও পূজার বোনাস দিতে হবে।

৩. সড়ক দুর্ঘটনাজনিত আহত-নিহত শ্রমিকদের পরিবার-পরিজনকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

৪. সকল ফিটনেসবিহীন যানবাহন বন্ধ করতে হবে।

৫. বিভিন্ন ফেরিঘাটে বাস, ট্রাক ও কাভার্ডভ্যান সিরিয়ালের নামে অবৈধ চাঁদা আদায় বন্ধ করতে হবে।

৬. বিআরটিএ কর্তৃক পরিবহন চালকদের লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে রিটেস্ট প্রথা বাতিল ও সহজ পদ্ধতিতে লাইসেন্স দিতে হবে।

৭. অহেতুক পুলিশের হয়রানি বন্ধ করতে হবে।

৮. সীমাহীন যানজট নিরসনে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

৯. শ্রমিকদের জন্য কল্যাণ তহবিল গঠন করতে হবে।

১০. নাইট কোচ যাত্রীদের ডাকাতির হাত থেকে রক্ষা করতে প্রতিটি পরিবহন মালিক কর্তৃক দুইজন আনসার পুলিশ নিয়োগ দিতে হবে।

১১. ভূমিহীন পরিবহন শ্রমিকদের সরকারি খাস জমিতে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

১২. যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকা সকল বাস ও নাইটকোচ কাউন্টার অবিলম্বে আন্তঃজেলা টার্মিনালে স্থানান্তর করতে হবে।

এই ১২ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ২৪ নভেম্বর সকাল ১১ টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন করবে বলে জানিয়েছেন এ নেতা।

  

মন্তব্য