উপকূলের ৯৬ দস্যু ও অস্ত্র কারিগরের আত্মসমর্পণ

প্রজন্ম ডেস্ক 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামালের হাতে অস্ত্র জমা দিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার প্রত্যয় ব্যক্ত করলেন কক্সবাজার উপকূলের ৯৬ জন দস্যু ও অস্ত্র কারিগর।

এদের মধ্যে রয়েছেন উপকূলের ত্রাস জিয়া, আইয়ুব, সিরাজ, কালু এবং হামিদসহ ১৮টি বাহিনীর ৯৬ জন সদস্য। এসময় তারা ১৫৫টি দেশি অস্ত্র, ২৭৫ রাউন্ড কার্তুজ ও অস্ত্র তৈরির নানা সরঞ্জাম জমা দেন।

শনিবার দুপুরে মহেশখালী উপজেলার কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠে কক্সবাজারে জেলা পুলিশ আয়োজিত আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন।

কক্সবাজার পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার ছিলেন পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আশেক উল্লাহ রফিক, কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য সাইমুম সরওয়ার কমল, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক, কক্সবাজারের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. আশরাফুল আবসার, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ‌্যাডভোকেট সিরাজুল মোস্তফা ও সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান।

অনুষ্ঠানে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আশায় আত্মসমর্পণকারী ৯৬ জলদস্যুকে ৫০ হাজার টাকা করে অনুদান দেয়া হয়।

আত্মসমর্পণের বিষয়টি ব্যক্ত করতে এসে সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের হাত থেকে বাঁচার জন্য ২০০৩ সালে আমি সিরাজ বাহিনী গঠন করি। এরপর থেকে কখনো সাগরে বোট ডাকাতি, কখনো মানুষের বাড়িঘরে ডাকাতিসহ নানা অপরাধমূলক কাজ করেছি। যে কারণে আমার জীবনটাই অস্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। আমি পরিবারকে সময় দিতে পারিনি। এই অন্ধকার জীবন আর ভালো লাগে না। আমি স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চাই। পরিবার-পরিজনের সঙ্গে, ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে সময় কাটাতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাই। ’

এসময় মঞ্চে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর আত্মসমর্পণকারী রুহুল আমিন বলেন, ‘আমি জামিনে মুক্ত হয়ে এখন স্বাভাবিক জীবনযাপন করছি। মন্ত্রী মহোদয়ের কাছে অনুরোধ, আমাদের মামলাগুলো প্রত্যাহার করা হোক।’

এর আগে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর সশস্ত্র ৪৩ জন জলদস্যুর আত্মসমর্পণের পর এবার কক্সবাজারের সন্ত্রাস কবলিত মহেশখালীতে আত্মসমর্পণ করলো ১২টি বাহিনীর ৯৬ জলদস্যু ও অস্ত্র কারিগর। এছাড়া, চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি টেকনাফে আত্মসমর্পণ করেন ১০২ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী।

যারা আত্মসমর্পণ করলেন : আইয়ুব বাহিনীর প্রধান আইয়ুব, আব্দুল করিম বদিয়া বাহিনীর প্রধান আব্দুল করিম বদিয়া, গুরা কালু বাহিনীর প্রধান মোহাম্মদ কালু, হামিদ বাহিনীর প্রধান আব্দুল হামিদ, কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর আলম, জিয়া বাহিনীর প্রধান জিয়াউর রহমান জিয়া, করিম বাহিনীর প্রধান মাহমুদুল করিম, সিরাজ বাহিনীর প্রধান সিরাজদৌল্লাহ চৌধুরী,

স্বপন বাহিনীর প্রধান মান্না দে স্বপন, মিন্টু বাহিনীর প্রধান আব্দুল্লাহ মিন্টু এছাড়াও শিকদার বাহিনীর দুইজন, আঞ্জু বাহিনীর একজন, জুনায়েদ বাহিনীর দুইজন, কালা জাহাঙ্গীর বাহিনীর একজন, কালা বদা বাহিনীর একজন, জিয়া বাহিনীর দুইজন, গুরা কালু বাহিনীর একজন এবং ৯জন অস্ত্রের কারিগর ও অন্যান্য ১৫ জনসহ ১৮টি বাহিনীর ৯৬ জন সন্ত্রাসী।

তারা যে অস্ত্র জামা দিলেন : ১৩টি থ্রি নট থ্রি রাইফেল, একটি দেশীয় তৈরি দো নলা বন্দুক, ১৪১টি এক নলা বন্দুকসহ ১৫৫টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২৮টি থ্রি নট থ্রি রাইফেলের গুলি, ২৫৫টি বন্দুকের কার্তুজ এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম।

মন্তব্য