হেট পলিটিক্স ধারণা বদলাতে চান পরশ

শেখ ফজলে শামস পরশ

প্রজন্ম ডেস্ক  

দেশের রাজনীতি নিয়ে যুবসমাজের মধ্যে যে নেতিবাচক ধারণা আছে, সেখান থেকে রাজনীতিকে ইতিবাচক ধারায় আনতে কাজ করার কথা জানিয়েছেন যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে যুবলীগের সপ্তম কংগ্রেসে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কথা জানান।

‘আমি যুবলীগের সভাপতি হিসেবে নয়, যুবলীগের একজন কর্মী হিসেবে সততার সাথে দায়িত্ব পালন করব। আমার চেষ্টা থাকবে যুব সমাজ যেন- আই হেটস পলিটিসক থেকে বেরিয়ে এসে জয়বাংলা, জয়বঙ্গবন্ধু বলে দেশের কাজে নিজেদের নিয়োজিত রাখে’ বলেন পরশ।

শেখ ফজলে শামস পরশ মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা শেখ ফজলুল হক মনির বড় ছেলে এবং সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের বড় ভাই। এতদিন সরাসরি রাজনীতিতে না জড়ালেও সংগঠনের দুঃসময়ে বাবা শেখ ফজলুল হক মনির হাতে গড়া সংগঠনের দায়িত্ব পেলেন তিনি। এর আগে দলীয় রাজনীতিতে যুক্ত না হলেও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির ব্যক্তিত্ব হিসেবে বেশ আস্থাভাজন ছিলেন পরশ। গত ১০ বছর ধরে তিনি রাজধানীর ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন।

বক্তব্যের শুরুতে পরশ সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ট বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসাকে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে ত্রিশ লাখ শহীদ, ১৫ আগষ্টে নিহতদের, জাতীয় চার নেতা এবং বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে নিহত যুবলীগ নেতাদের স্মরণ করেন।

পরশ তার বক্তব্যে আওয়ামী লীগের প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, ‘তিনি বলেছিলেন, আওয়ামী লীগ শহীদের রক্ত দিয়ে তৈরি একটি অনুভূতির নাম। আমি একজন শহীদের সন্তান। ছোট বেলায় আমি এবং আমার ভাই শেখ ফজলে নূর তাপসের কাছ থেকে রাজনীতি অনেক কিছু বলতে গেলে সবকিছুই নিয়েছে। আমরা ছোটবেলায় হারিয়েছি আমার মা-বাবাসহ অন্যান্য স্বজন। আমাদের দুঃখ শুধু বঙ্গবন্ধু কন্যাদ্বয় শেখ রেহেনা এবং প্রধানমন্ত্রী ও বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা উনারা অনুধাবন করতে পারেন।’

রাজনীতি থেকে দূরে থাকার কারণ তুলে ধরে যুবলীগের নতুন চেয়ারম্যান বলেন, “যে মানুষ জাতির জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করেছে, তাকে যখন এমন নির্মমভাবে ষড়যন্ত্রকারীরা হত্যা করতে পারল, আশাহত হওয়াটাই স্বাভাবিক। বঙ্গবন্ধুর ত্যাগ এবং তার কন্যার দেশের প্রতি উদার ভালবাসা থেকে আমি সাহস পাই।’

‘তাই আজ আমি আপনাদের সামনে বলতে চাই, আমার উপর যে দায়িত্ব অর্পিত হচ্ছে আমি সম্পূর্ণ সততার সঙ্গে দায়িত্বগুলো পালন করব। যুবলীগের একজন সভাপতি হিসেবে নয়, একজন কর্মী হিসেবে আপনাদের পাশে থেকে কাজ করব। আপনারা আমার শক্তি হবেন, আমাদের শক্তি হবেন। ”

তিনি বলেন, ‘আমার বাবা মনি বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের পক্ষে যুব সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখার জন্য এই সংগঠন করেছিলেন। স্বাধীনতার পর পর দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছিল, তা প্রতিহত করার জন্যই এই সংগঠন কাজ করেছে।’

পরশ বলেন, “বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে দ্বিতীয় বিপ্লবের ডাক দিয়েছিলেন, কিন্তু ১৫ আগস্টের ষড়যন্ত্রের কারণে সে বিপ্লব সম্পূর্ণ হয় নাই। আজকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতির বিরুদ্ধে যে জিরো টলারেন্স কর্মসূচি নিয়েছেন, সেই কর্মসূচিকে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লবের একটি কর্মসূচি হিসেবে দেখি।’

‘তাই আমিসহ যুবলীগের সকল কর্মীদের একটাই দায়িত্ব, আমরা আমাদের সম্পূর্ণ উদ্দিপ্ত দিয়ে বঙ্গবন্ধু কন্যার কর্মসূচি সফল করার জন্য কাজ করব। দেশের সাধারণ মানুষ বঙ্গবন্ধু কন্যার ওপর আস্থাশীল, তারা দেখেছে তিনি গত কয়েক বছরের কীভাবে দেশকে আর্থ সামাজিকভাবে দাঁড় করিয়েছে। তারা দেখেন কীভাবে এদেশের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করেন। তাই আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে আমরা যেন আমাদের কর্মের মাধ্যমে এই বিশ্বাসের বন্ধনকে আরো সুদৃঢ় করতে পারি।”

যুবলীগের কংগ্রেসের দ্বিতীয় পর্বে সংগঠনটির চেয়ারম্যান প‌দে পর‌শের নাম প্রস্তাব করেন ‘সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি’র আহ্বায়ক চয়ন ইসলাম। চেয়ারম্যান পদে আর কো‌নো নাম না আসায় বিনা প্র‌তিদ্ব‌ন্দ্বিতায় চেয়ারম্যান নির্বা‌চিত হন পরশ।

মন্তব্য