জলজীবনে অস্থির সাতক্ষীরার পৌর এলাকাসহ আরো ২২ গ্রাম

প্রজন্ম ডেস্ক

সাতক্ষীরা সদরের তিন হাজারেরও বেশি পরিবার এখন জলজীবন কাটাচ্ছে। চরম দুর্ভোগে তাদের প্রতিটি দিন পার হলেও বিপদ থেকে বাঁচার কোন উপায় পাচ্ছেন না তারা।

প্রায় চার মাস ধরে পানির নিচে সাতক্ষীরা পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের একাংশসহ ২২টি গ্রামের অধিকাংশ এলাকা । পৌরসভার বদ্দিপুর কলোনি ও সরদার বাড়ি এলাকা এখন রীতিমতো জলে ভাসছে।

অন্যদিকে ২২ টি গ্রামের মানুষের জীবনও জলবন্দী দুর্বিষহ। পানি জমে থাকার কারণে এসব গ্রামের বিল গুলোতে হুমকির মুখে পড়েছে বোরোর আবাদ।

ঘূর্ণিঝড় বুলবুল চলে গেলেও প্রবল বর্ষণে রেখে যাওয়া পানি এখনো হয়ে আছে সাতক্ষীরার কয়েক হাজার পরিবারের চরম দুর্ভোগের কারণ। সঙ্গে যোগ হয়েছে নিকটস্থ নদী বেতনা ও মরিচ্চাপের পানি। পলিযুক্ত হয়ে ধারণ ক্ষমতা হারানো নদীর পানি এখন ভাসাচ্ছে জনপদ। ফলে পানির আগ্রাসনে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধ হয়ে পড়া বাসিন্দারা স্থায়ী সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। স্থানীয় জনসাধারণ ও নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ- সাতক্ষীরার আয়োজনে শনিবার বদ্দিপুর কলোনি মোড়ে উক্ত মানববন্ধন কর্মসুচি পালিত হয়েছে।

এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় পানি কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ এ.বি.এম শফিকুল ইসলাম জানান, বিগত প্রায় ২৫ বছর যাবত সাতক্ষীরাসহ পার্শ্ববর্তী জেলার ২০ লাখ মানুষ জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে আছে। এর সাথে যুক্ত হলো সাতক্ষীরার আরও ২২ টি গ্রাম। এসব গ্রামে নিরাপদ খাবার পানি সংকটের পাশাপাশি স্যানিটেশন ব্যবস্থা বিপর্যস্ত।

সরকারি ব্যবস্থাপনায় কয়েকটি পাম্প বসিয়েও একই এলাকার ২৬ টি বিলের পানি নিষ্কাশন করা যাচ্ছে না। এরই মধ্যে পানিতে দুর্গন্ধের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবেশ দূষণ শুরু হয়েছে। এই পানি ব্যবহারের ফলে গ্রামবাসীর দেহে চর্মরোগ ছড়িয়ে পড়ছে।

এসব গ্রামের মধ্যে রয়েছে- সাতক্ষীরা সদর, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের গদাই বিল,রাজারবাগান প্রামানিক পাড়া, কুলিনপাড়া, বদ্দিপুর তালতলা, কলোনি পাড়া, বসতিপাড়া, শাল্যে, বেড়াডাঙ্গি, মাছখোলা পূর্ব, মাছখোলা পশ্চিম, চেলেরডাঙ্গা, ওমরাপাড়া, মল্লিকপাড়া, জেয়ালা, গোবিন্দপুর, ধুলিহর সানাপাড়া, বাঁধনডাঙ্গা, রামচন্দ্রপুর, দহাখোলা, দামারপোতা, বড়দল ও বালুইগাছা গ্রাম।

সাতক্ষীরা শহরের বদ্দিপুর কলোনি সমিতির সভাপতি লুৎফর রহমান জানান, দীর্ঘ ৪-৫ মাস ধরে এই এলাকার মানুষ জলাবদ্ধতার মধ্যে দূর্বিষহ জীবন যাপন করছেন। তার উপর সাম্প্রতিক ঘর্ণিঝড় বুলবুলের সময় অতিবৃষ্টিতে এখানকার আরো অনেক নতুন নতুন এলাকা পানিতে নিমজ্জিত হয়। এতে এই এলাকার শত শত বিঘা মৎস্য ঘের, পুকুর, রাস্তাঘাট ও ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে রয়েছে।

পুরাতন সাতক্ষীরার এ, করিম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নাসরিন খান লিপি জানান, এই এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা পানির উপর দিয়ে পায়ে হেঁটে স্কুল কলেজে যাচ্ছে।

নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ- সাতক্ষীরার সভাপতি অ্যাডভোকেট ফাহিমুল হক কিসলু ও সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রহমান মাসুম জানান, জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয় পানি নিষ্কাশনের পরিকল্পনা কিন্তু এখনও তার কোন সুফল পায়নি ভুক্তভোগীরা। জীবিকার তাগিদে জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান জরুরী।

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামন খান জানান, সাতক্ষীরা জেলার জলাবদ্ধতা নিরসনে ভরাট হয়ে যাওয়া নদী ও খাল খননের জন্য ৪৯৭ কোটি টাকার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি চালু হলে জলাবদ্ধতা স্থায়ী ভাবে নিরসন করা সম্ভব হবে।

সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এস.এম মোস্তফা কামাল জানান, জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য একটি নদী বিশেষজ্ঞ টিমের মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য