মাটির নিচে বিদ্যুৎ লাইন বসাতে চায় চীন

মাটির নিচে বিদ্যুৎ লাইন বসাতে চায় চীন

প্রজন্ম ডেস্ক

কেরানীগঞ্জে মাটির নিচ দিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ লাইন বসানোর প্রস্তাব দিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় কোম্পানি স্টেট গ্রিড করপোরেশন অব চায়না (এসজিসিসি)। সম্প্রতি কোম্পানিটির প্রেসিডেন্ট ডান ডেক্সি এক প্রস্তাবে ঢাকার বাইরের একটি এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়নের এই প্রস্তাব দেন।

স্টেট গ্রিড বলছে, চীনের ৮৮ ভাগ এলাকায় কোম্পানিটি বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণের দায়িত্বে রয়েছে। চীনের ৩৪ প্রদেশের ২৬টিতেই তারা কাজ করছে।

রাজধানী ঢাকা, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে আধুনিক বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি) এবং ঢাকা ইলেক্ট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)। কিন্তু এই দুই কোম্পানির বাইরে আর কোনও বিতরণ এলাকায় মাটির নিচ দিয়ে বিতরণ লাইন বসানো হয়নি। এই প্রথম বিদেশি কোম্পানি এই খাতে আগ্রহ দেখালো।

প্রসঙ্গত, ‘পাওয়ার সিস্টেম মাস্টার প্ল্যান-২০১৬’তে বলা হয়েছে, বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহে আধুনিক বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বিতরণ লাইন মাটির ওপরে থাকলে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে বিপত্তি ঘটে। অনেক ক্ষেত্রে ঝড় ঝঞ্ঝায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য মাটির নিচ দিয়ে বিতরণ লাইন বসানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। তবে আর্থিক জোগানকে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হয়।

জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘এসজিসিসি বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তারা নিজেদের দেশের কোম্পানিরই অর্থায়নের কথা বলছে। ফলে, তাদের কাজটি দিলে অর্থায়নের চিন্তা তাদের। বাংলাদেশের নয়।’

আরইবি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মঈন উদ্দিনকে দেওয়া চিঠিতে এসজিসিসি জানিয়েছে, তারা চীনে কীভাবে এ ধরনের বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলেছে, তা পরিদর্শনের ব্যবস্থা করতে আগ্রহী তারা।

আরইবির পদস্থ একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা চাই বিতরণ এলাকাকে উন্নত করতে। নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে বিতরণ লাইন মাটির নিচে নেওয়ার কোনও বিকল্প নেই। কিন্তু আর্থিক কারণে সম্ভব হচ্ছে না।’ তিনি বলেন, ‘যেসব সমিতি সচ্ছল, তাদের বলা হয়েছে বিতরণ ব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে।’

এসজিসিসি-এর প্রস্তাবের বিষয়ে জানতে চাইলে এই কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে কিছুই করতে পারি না। এই প্রস্তাবটি বিদ্যুৎ বিভাগে পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে যে সিদ্ধান্ত আসবে, আমরা শুধু তা বাস্তবায়ন করবো।’

এসজিসিসির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) অধীন ৪ নম্বর সমিতিতে ৩৩ কেভি (কিলো ভোল্টেজ), ১১ কেভি এবং শূন্য দশমিক ৪১৫ কেভি ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনের কাজটি করতে চায় তারা। কেরানীগঞ্জ এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ করে এই সমিতি। ঢাকার পাশেই রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) ছাড়াও কয়েকটি বেসরকারি হাউজিং কোম্পানি এখানে আবাসন ব্যবস্থা গড়ে তুলছে।

ঢাকা সিটির পাশে রাজউকের সবচেয়ে বড় ফ্ল্যাট প্রকল্পও হবে এখানে। ফলে ১০ বছরের মধ্যে এই এলাকায় নতুন করে অনেক মানুষ বসবাস শুরু করবে। পদ্মা সেতুর কারণে নতুন শহর নির্মাণ প্রকল্প আরও গতি পাচ্ছে। এখন থেকেই আধুনিক বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজ করতে হবে বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্তব্য