অনুমতি নেব না, যখন প্রয়োজন তখনই সভা করব: ফখরুল

ভবিষ‌্যতে অনুমতি ছাড়াই যখন খুশি তখন দলের সভা-সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

রোববার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলের এক সমাবেশে একথা বলেন তিনি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এর পর আমরা কোন সভা সমাবেশ করার জন্য কোন ধরনের অনুমতি নেব না। এর পর থেকে আমাদের যখন প্রয়োজন হবে, তখনই সভা-সমাবেশ করব।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নি:শর্ত মুক্তির দাবিতে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

অনুমতি না পাওয়ায় শনিবারের সমাবেশ রোববার করে বিএনপি। রোববার সকাল দশটায় ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছ থেকে দুপুর দুইটায় সমাবেশের অনুমতি পায় বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার নয়। এই সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তারা দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে নির্বাচিত হয়নি। তাদের সমর্থন দেশের কাছে নয়, তাদের সমর্থন দেশের মানুষের কাছে নয়

তাদের আনুগত্য ভিন্নখানে, যারা তাদের ক্ষমতায় রেখেছে। আমরা দেখেছি, এই সরকার আমাদের ভোটের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আমাদের কথা বলার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আজকের এই সমাবেশ করা জন্য সকাল দশটায় অনুমতি দেয়া হয়েছে। ‘

রাজপথে নামার হুশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে হলে আমাদের রাজহপথে নামতে হবে। দেশের সমস্ত মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করতে হবে। দুর্বার গণআন্দোলন সৃষ্টি করতে হবে। এই গণআন্দোলন মাধ্যমে এই সরকারকে উৎখাত করতে হবে।’

স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়াকে যে কারণে আটকে রাখা হয়েছে, এটা সম্পূর্ণ মনগড়া এবং বানোয়াট। যে মামলায় উনার কোন সম্পৃক্ততা নেই, কোথাও উনার কোন স্বাক্ষর নেই, সেই মামলায় উনাকে শাস্তি দেয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘শুধু আমাদের নেত্রী নয়, সারাদেশে আমাদের লাখ লাখ নেতাকর্মীদের মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে আটকে রাখা হয়েছে। আসামি করে বাড়িছাড়া করে রেখেছে।’

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘সরকারের অনুমতি বা পুলিশের অনুমতি নিয়ে সরকারবিরোধী আন্দোলন হয় না। আমাদের এখন মানসিক প্রস্তুতি থাকতে হবে, আর কোনো অনুমতি নয়। আমাদের অধিকার আন্দোলনের আমাদের অধিকার সমাবেশের, আমাদের অধিকার মিছিলের, আমরা কার কাছে অনুমতি চাইব?’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবুল বাশার।

আরো বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, মির্জা আবাবাস, ড. আব্দুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বেগম সেলিমা রহমান প্রমূখ।

মন্তব্য