বাংলাদেশকে নিয়ে সিরিজ আয়োজনে অবিচল পাকিস্তান

প্রজন্ম ডেস্ক

দেশের মাটিতে ক্রিকেট ফেরাতে উঠে পড়ে লেগেছে পাকিস্তান। যেখানে ২০০৯ সালে লাহোরে শ্রীলঙ্কান টিম বাসের ওপর সন্ত্রাসীদের হামলার পর প্রায় এক দশক দেশটি ক্রিকেট আয়োজনে নির্বাসিতই ছিল। সর্বশেষ সেই শ্রীলঙ্কাই ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছে পাকিস্তানের মাঠে। যদিও এর আগে বিশ্ব একাদশ ও জিম্বাবুয়ের মতো দলগুলো নামে মাত্র খেলে গিয়েছিল।

২০০৯ সালের পর পাকিস্তান সংযুক্ত আরব আমিরাতে শারজা, দুবাই ও আবুধাবির মতো শহরে নিজেদের হোম সিরিজ আয়োজন করে।

আসছে ডিসেম্বরেই আবার শ্রীলঙ্কান দল দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলতে পাকিস্তান সফর করবে। আর এই সিরিজের পরই বাংলাদেশের বিপক্ষে হোম সিরিজ আয়োজনে বদ্ধপরিকর পাকিস্তান। জিও নিউজকে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) এক মুখপাত্র বলেন, ‘বিদেশের মাটিতে আমরা আর কোনো হোম সিরিজ আয়োজন করবো না, এমন নীতিতে আমরা অটল।’

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের বিপক্ষে আসছে সিরিজের বিষয়ে আমরা তাদের (বাংলাদেশ ম্যানেজমেন্ট) পরিকল্পনা পাঠিয়েছি। যদিও ভেন্যু ও তারিখ এখনও নিশ্চিত হয়নি।’

জানা যায়, পূর্ণাঙ্গ এই সফরটি দুই ভাগে বিভক্ত হবে। যেখানে প্রথমভাগে দুটি টেস্ট ও পরেরবার তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। আর এই সফরগুলো ২০২০ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে হবে।

এর আগে সম্প্রতি বাংলাদেশের নারী দল ও অনূর্ধ্ব-১৬ পুরুষ দল পাকিস্তানে সিরিজ খেলে এসেছে। যেখানে নারীরা ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলেছিল লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে। আর তরুণরা খেলে রাওয়ালপিন্ডিতে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করতে আগেই অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের কর্মকর্তারা দেশটিতে ভ্রমণ করে এসেছে। পরে এই তিনটি সিরিজের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেয় বলে জানায় পাকিস্তানের গণমাধ্যম দ্য নিউজ।

পিসিবির সেই মুখপাত্রটি আরও যোগ করেন, ‘সিরিজের অর্ধেক এক জায়গায় আর আরেক ধাপ অন্য জায়াগায় আয়োজন হবে, এটা কোনো ভাবেই সম্ভব না। এটা চিন্তা করাও সম্ভব না, কেননা এমনটি যদি হয় তবে আমাদের পাকিস্তান সুপার লিগ ও ভবিষ্যৎ সিরিজগুলো দেশের মাটিতে আয়োজনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।’

‘পিসিবি মনে করে তাদের পুরুষ দলের এই সফরে না আসার কোনো কারণ নেই। কারণ তারা (বাংলাদেশ) ইতোমধ্যে আমাদের নিয়ে সিরিজ আয়োজন করেছে। এই মুহূর্তে আমরা বিদেশে সিরিজ আয়োজন করলে, আমাদের সব পরিকল্পনা ভেস্তে যাবে।’

ফিউচার ট্যুর প্রোগ্রাম এর আওতায় বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের এই দুটি টেস্ট আইসিসির বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মধ্যে পড়ে। ফলে কেউ যদি খেলতে অস্বীকৃতি জানায় তবে তার পয়েন্ট কাটা যাবে।

মন্তব্য