পেট্রোল পাম্প ধর্মঘটে ক্ষতি ১২২ কোটি টাকা

প্রজন্ম ডেস্ক

রংপুর বিভাগে জ্বালানি তেল বিক্রির কমিশন ও ট্যাংক লরির ভাড়া বৃদ্ধিসহ ১৫ দফা দাবিতে একদিন পেট্রোল পাম্প বন্ধ থাকায় পাম্প মালিকের ক্ষতি হয়েছে ১২২ কোটি টাকা। সেই সাথে সরকার ৩ কোটি টাকার বেশি ভ্যাট হারিয়েছে।

এছাড়া শতাধিক যানবাহনের মালিকের ক্ষতি হয়েছে ৩০ লাখ টাকার ওপর। কয়েক হাজার কৃষক জমিতে সেচ দিতে পারেনি তেল না পাওয়ার কারণে।

পাম্প মালিকদের ধর্মঘটে অনেকেই গাড়ি রাস্তায় বের করতে পারেনি। হাজার হাজার মোটরসাইকেল চালক পড়েছিল বিপাকে। সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়ে কৃষকরা। তারা তেল না পাওয়ার কারণে শীতকালীন সবজি ও বোরো খেত পরিচর্যা করতে পারেনি। তবে একদিনের ব্যবধানে ধর্মঘট প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত আসায় সবার মাঝে স্বস্তি এসেছে।

সূত্রে জানা গেছে, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, নীলফামারী, লালমনিরহাট, দিনাজপুর, পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও বিভাগের ৮ জেলার  বিভিন্ন উপজেলা সদরসহ হাট-বাজার ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা কোম্পানির জ্বালানি তেল সরবরাহের জন্য প্রায় ৪০০টি ফিলিং স্টেশন রয়েছে।

এসব ফিলিং স্টেশনে বোরো ফসলের এই ভরা মৌসুমের প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ লিটার জ্বালানি তেল ডিজেলের প্রয়োজন হয়ে থাকে। বোরো মৌসুম শুরু হয় ডিসেম্বর থেকে। একদিন খেত পরিচর্যা করতে না পারায় প্রায় ৫০ লাখ লিটার জ্বালানি থেকে বঞ্চিত হয়েছে কৃষক।

ডিপো ও পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, রংপুর বিভাগে প্রতিদিনের পেট্রোল পাম্পগুলোর চাহিদা প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ লিটার ডিজেল, প্রায় ২৮ লাখ লিটার পেট্রোল এবং ৫ লাখ লিটারের মতো অকটেন প্রয়োজন।  সেই হিসেবে একদিন ডিজেল বিক্রি হয়নি ৯৩ কোটি টাকার, পেট্রোল বিক্রি হয়নি  প্রায় ২৬ কোটি টাকার এবং অকটেন বিক্রি হয়নি প্রায় ৪ কোটি টাকার।

ডিপো থেকে পাম্প মালিকরা ডিজেল সংগ্রহ করে ৬২ টাকা ৫১ পয়সা, পেট্রোল ৮২ টাকা ১০ পয়সা, অকটেন ৮৪ টাকা ৪৬ পয়সা। প্রতি লিটারে গড়ে প্রায় ২ টাকা ভ্যাট দিতে হয় পাম্প মালিকদের। সেই হিসেবে প্রায় ৩ কোটি টাকা ভ্যাট হারিয়েছে সরকার।

পীরগাছার কল্যানি ইউনিয়নের বোরো চাষি বুলবুল, কাউনিয়ার সবজি চাষি আফজালসহ অনেকেই জানালেন, একদিন তেল না পাওয়ার কারণে তারা ঠিকমত খেত পরিচর্যা করতে পারেননি। ফলে তাদের কৃষিতে কিছুটা ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মাইক্রোবাসের মালিক মোহাম্মদ আলী জানান, তেল না পাওয়ার কারণে তার মাইক্রো চলেনি। এতে তার ক্ষতি হয়েছে ৪ হাজার টাকার ওপর। তার মতে একদিনে শতাধিক বাস, ট্রাক ও মাইক্রোবাস রাস্তায় চলেনি। এতে যানবাহন মালিকদের ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

আব্দুল্লাহ ফিলিং স্টেশনের স্বত্বাধিকারী ও পেট্রোল পাম্প ওনার অ্যাসোসিয়েশনের বিভাগীয় কোষাধ্যক্ষ আতিকুল্লাহ আতিক বলেন, ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা ধর্মঘট স্থগিত করেছি। এসময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে পুনরায় আমরা ধর্মঘট করব। একদিনের ধর্মঘটে শতকোটি টাকার ওপর ক্ষতি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমরা এমনিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে আসছি।  প্রয়োজনে আরো ক্ষতি স্বীকার করব।’

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-অতিরিক্ত পরিচালক আবু সায়েম জানান, এখন বোরো মৌসুম শুরু হয়েছে। জমিতে সেচ দিতে জ্বালানি তেলের প্রয়োজন। একদিন সেচ দিতে না পারলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য