আওয়ামী লীগ নেতা এনামুলের ১০ কোটি টাকা ফ্রিজ

প্রজন্ম ডেস্ক

অবৈধ সম্পদের মামলার আসামি গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনুর বেসরকারি ৬টি ব্যাংকে জমাকৃত ১০ কোটি ৬ লাখ টাকা ফ্রিজ করা হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অনুরোধে সম্প্রতি মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আদালতের আদেশ সূত্রে বিষয়টি জানা গেছে।

যে সব ব্যাংকে ওই টাকা গচ্ছিত আছে তা হলো- ঢাকা ব্যাংকের বংশাল শাখা, ইস্টার্ন ব্যাংকের ইংলিশ রোড শাখা, মার্কেন্টাইল ব্যাংকের ধোলাই খাল শাখা, প্রিমিয়ার ব্যাংকের বংশাল শাখা, প্রাইম ব্যাংকের বংশাল শাখা এবং ডাচ বাংলা ব্যাংকের নয়াবাজার শাখা।

এসব শাখায় এফডিআর, ডিবিডিএস ও চলতি হিসাবে মোট ১০ কোটি ৬ লাখ ৬৫ হাজার ৩৬৫ টাকা জমা ছিল। আদালতের আদেশের পর এখন থেকে ওই টাকা উত্তোলন কিংবা স্থানান্তর করা যাবে না। তবে টাকা জমা হতে আইনত কোনো বাধা নেই বলে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

২৩ অক্টোবর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এনামুল হক এনু ও তার দুই সহযোগীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে দুদক। মামলায় এনামুল হক এনু ও তার দুই সহযোগীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে ২১ কোটি ৮৯ লাখ ৪৩ হাজার টাকার সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে হারুনুর রশীদ ও আবুল কালাম আজাদ প্রায় চার কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহযোগিতা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

তাদের বিরুদ্ধে দুদক আইন ২৭(১) এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ এনে দুদকের সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরি বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

একই দিন এনামুলের ভাই গেন্ডারিয়া থানা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রূপন ভূঁইয়া বিরুদ্ধেও মামলা করে দুদক। সংস্থাটির সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১ এ  দায়ের করা মামলায় তার বিরুদ্ধে ১৪ কোটি ২১ লাখ টাকার জ্ঞাত আয় বহিভূর্ত সম্পদের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সংস্থাটির উপ-সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন।

গত ১৮ই সেপ্টেম্বর থেকে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ক্যাসিনোর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা গ্রেপ্তার হন। এর ধারাবাহিকতায় ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ক্যাসিনোর মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনকারীদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে। শুদ্ধি অভিযান শুরুর পর অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে এ পর্যন্ত ১৬টি মামলা দায়ের করে দুদক।

যাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে তারা হলেন ঠিকাদার জি কে শামীম, বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতা খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়া, আওয়ামী লীগ নেতা এনামুল হক এনু ও তার ভাই রুপন ভূইয়া, অনলাইন ক্যাসিনোর হোতা সেলিম প্রধান, বিসিবি পরিচালক লোকমান হোসেন ভূইয়া, কলাবাগান ক্লাবে সভাপতি শফিকুল আলম ফিরোজ, কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান মিজান, তারেকুজ্জামান রাজীব, ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট, এনামুল হক আরমান, যুবলীগ নেতা জাকির হোসেন, কাউন্সিলর এ কে এম মমিনুল হক সাঈদ, যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান।

তাদের বিরুদ্ধে পৃথক পৃথক মামলা করে দুদক। কমিশনের পরিচালক সৈয়দ ইকবালের নেতৃত্বে সাত সদস্যের একটি টিম অনুসন্ধানের দায়িত্ব পালন করছেন। অপর সদস্যরা হলেন, উপ-পরিচালক মো. জাহাঙ্গির আলম, সালাহউদ্দিন আহমেদ, সহকারী পরিচালক মামুনুর রশীদ চৌধুরি, সাইফুল ইসলাম, আতাউর রহমান ও মোহাম্মদ নেয়ামুল আহসান গাজী।

মন্তব্য