যশোর ইজতেমা মাঠে লাখো মুসল্লিদের মাঝে নিষিদ্ধ ঔষধ বিতরণ

প্রজন্ম রিপোর্ট

যশোরের উপশহরে অনুষ্ঠিত গত ৩ দিনে ইজতেমা চলাকালীন সময়ে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প এর নামে লাখো মুসল্লিদের মাঝে সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ রেনিটিডিন ঔষধ বিতরন করলো এপেক্স ক্লাবের ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প।

বাংলাদেশের বাজারে রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর। একই সাথে রেনিটিডিন ঔষধে ক্যান্সারের জিবাণু থাকায় এই রেনিটিডিন ওষুধের কাঁচামাল আমদানি, উৎপাদন ও বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করে সরকার।

এদিকে কোন রকম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার এর পরামর্শ বাদেই ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের মাঝে বিভিন্ন ধরণের ঔষধ বিতরন করে তারা। গতকাল সকালে ইজতেমার শেষদিনে এ্যাপেক্সের মেডিকেল ক্যাম্পে গিয়ে দেখা যায় শত শত রেনিটিডিনের খালি প্যাকেট পড়ে আছে নিচে, যেগুলো ইতোমধ্যে বিতরন করেছে তারা।

টেবিলের উপরেও ছিলো রেনিটিডিনের বাক্স। নিষিদ্ধ এই ঔষধ বিতরনের ব্যাপারে জানতে চাইলে সাংবাদিকদের উপর তেড়ে আসেন এ্যাপেক্স ক্লাবের দায়িত্বরত কর্তারা। কোন ডাক্তার এর পরামর্শে ওষুধগুলো বিতরণ হচ্ছে তা জানতে চাইলে পরিচয় দেন, হোমিও ডাক্তার আব্দুল মতিন, একজন হোমিও ডাক্তার কিভাবে এই নিষিদ্ধ ঔষধ বিতরন করবার পরামর্শ দিলেন তার ব্যাখ্যা জানতে চাইলে এ্যাপেক্স ক্লাবের নেতা শওকত আলী পিন্টু উপস্থিত সাংবাদিকদেরকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করে চড়াও হন।

এই ঘটনার পর যশোরের জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ কে বিষয়টি অবহিত করার ১০ মিনিটের মধ্যে র‌্যাবের একটি টিম ইজতেমা ময়দানে যায়, র‌্যাব আসবার পূর্বেই এপেক্স ক্লাবের দ্বায়িত্বরত কর্তারা রেনিটিডিন ঔষুধের খালি বক্স এবং কার্টুন করা বক্সগুলো দ্রুত সরিয়ে ফেলে। সাথে সাথে তারা মেডিকেল ক্যাম্পটিও বন্ধ করে দেয়।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে হোমিও ডাক্তার মতিন বলেন, বাজারে এই ঔষধ অহরহ পাওয়া যাচ্ছে। এ বিষয়ে যশোরের জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ বলেন, এ্যাপেক্স ক্লাব নিষিদ্ধ রেনিটিডিন ঔষধ কেন সাধারণ মানুষের মাঝে বিতরন করলো ? তারা এইটা করতে পারে না, আর কোন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার ছাড়া ঔষধ বিতরন করা আরো বেশি অন্যায়।

তিনি আরো বলেন, আমি ইতোমধ্যে যশোরের সিভিল সার্জনের সাথে কথা বলেছি, এ্যাপেক্স ক্লাবের কর্তাদেরকেও ডাকা হবে।

উল্লেখ্য ইজতেমা ময়দানে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পটির আয়োজন করে, এ্যাপেক্স ক্লাব অব যশোর, এ্যাপেক্স ক্লাব অব রজনীগন্ধা, এ্যাপেক্স ক্লাব অব নাভারন, এ্যাপেক্স ক্লাব অব যশোর সিটি, এ্যাপেক্স ক্লাব অব কপোতাক্ষ, এ্যাপেক্স ক্লাব অব বীর শ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ এবং এ্যাপেক্স ক্লাব অব মুন্সী মেহেরুল্লা।

মন্তব্য