বরিশালে ৩ হত্যার নেপথ্যে পরকীয়া

প্রজন্ম ডেস্ক

বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার সলিয়াবাকপুর ইউনিয়নের সাখারী গ্রামে প্রবাসীর স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশু ও ঘা’তক জাকিরের প্রেমের সম্পর্ক দেখে ফেলায় এ ট্রিপল হত্যাকা’ণ্ড সংঘটিত হয়েছে। গ্রে’প্তারকৃত জাকির ও তার সহযোগী জুয়েলের ১৬৪ ধারার জবান বন্দিতে এ বিষয়টি পরিস্কার হয়েছে।

গ্রে’প্তারকৃত জাকির হোসেন ও জুয়েল হাওলাদার হত্যার দায় স্বীকার করে রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে রাত সাড়ে ৯টা পর্যন্ত বরিশাল সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ’দালতের বিচারক মো. এনায়েত উল্লাহ’র খাস কামরায় জবান বন্দি দেয়।

এরপর হত্যার সঙ্গে জ’ড়িত থাকার অ’ভিযোগে বাড়ির মালিক প্রবাসী আব্দুর রবের স্ত্রী’ মিশরাত জাহান মিশুকেও গ্রে’প্তার করে পুলিশ।

তবে এই হ’ত্যাকা’ণ্ডে আরও কেউ জ’ড়িত আছে কিনা ত’দন্তের স্বার্থে তা বলতে অ’পারগতা প্রকাশ করেন বানারীপাড়া থানার ওসি শিশির কুমা’র পাল।

র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা ওই ৩জনকে হ’ত্যার কথা স্বীকার করে। শনিবার রাতেই প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের ভাই সুলতান মাহমুদের দায়ের করা হ’ত্যা মা’মলায় গ্রে’প্তার দেখিয়ে রোববার বিকেলে ওই দুইজনকে আদালতে সোপর্দ করে পু’লিশ। পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবান বন্দি দেয়ার পর তাদের প্রেরণ করা হয় বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে।

পু’লিশ জানায়, প্রায় ৩ বছর আগে জাকির ওই বাড়ির নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করার সময় কুয়েত প্রবাসী হাফেজ আব্দুর রবের স্ত্রী মিশরাত জাহান মিশুর সাথে পরিচয়ের সূত্র ধরে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। এরপর থেকে ওই বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিলো। তাদের অ’নৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জেনে যায় প্রবাসী আব্দুর রবের মা মরিয়ম বেগম এবং খালাতো ভাই ইউসুফ। এ কারনে তাদের হ’ত্যার পরিকল্পনা করে জাকির ও মিশু।

পরিকল্পনা অনুযায়ী গত শুক্রবার রাতে বাসার অন্যান্যরা ঘুমিয়ে পড়লে ঘরের প্রধান দরজা খুলে রাখে মিশু। ওইদিন রাত ১১টার পর জাকির ও জুয়েল ওই বাসায় ঢুকে প্রথমে ইউসুফের পা বেঁধে তাকে শ্বা’সরোধ করে হ’ত্যা করে। পরে তারা পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা মরিয়ম বেগমকেও একইভাবে শ্বা’সরোধে হত্যা করে। দুই হত্যাকাণ্ডের পর ইউসুফের লাশ বাড়ির সামনে পুকুরের পানিতে ভাসিয়ে দেয় এবং মরিয়ম বেগমের লা’শ কক্ষ থেকে বেলকনিতে নিয়ে রাখে।

মিশন শেষ করে তারা মিশুর কক্ষে গিয়ে মিশুর বিবস্ত্র ছবি তোলে। হ’ত্যার ঘটনা ফাঁ’স করলে ওই ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেয়ার ভ’য় দেখানো হয় মিশুকে। এ সময় পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা প্রবাসীর ভগ্নিপতি শফিকুল আলম ঘুমের মধ্যে কাশি দেয়। শফিকুল দুই হত্যার বিষয়টি টের পেতে পারে সন্দেহে তাকেও শ্বা’সরোধে হ’ত্যা করে ঘা’তকরা।

শনিবার ভোরে ফজরের নামাজের সময় ম’রিয়মের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা প্রবাসী রবের ভাতিজি আছিয়া আক্তার ঘুম থেকে জেঁগে দাদিকে খুঁজতে গিয়ে বেলকনিতে লা’শ পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার দেয়। প্রতিবেশীরা এসে ওই বাড়ি থেকে আরও দুটি লা’শ আবিস্কার করে। খবর পেয়ে পু’লিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৩টি লাশ উদ্ধার করে বরিশাল মর্গে প্রেরণ করে। ময়নাত’দন্ত শেষে রোববার নামাজে জানাজা শেষে তাদের ম’রদেহ বাড়িতে দাফন করা হয়।

প্রসঙ্গত, বরিশালের বানারীপাড়ার সলিয়াবাকপুর এলাকার কুয়েত প্রবাসী আব্দুর রব হাওলাদারের বাড়িতে শুক্রবার মধ্যরাতের পর যে কোনো সময় তিনজনকে হ’ত্যা করা হয়। এরা হলেন – প্রবাসীর মা ম’রিয়ম বেগম, তার বোনের ছেলে মো: ইউসুফ এবং বোন জামাই শফিকুল আলম। আব্দুর রব ১১ বছর যাবৎ কুয়েতে একটি ম’সজিদে ই’মামতি করেন। তার স্ত্রী’ ও সন্তান বাড়িতে থাকেন। নি’হত তিনজনের মধ্যে ইউসুফ এবং শফিকুল আলম দুই দিন আগে বেড়াতে এসেছিলেন।

মন্তব্য