‘বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করতে পারি না’

প্রজন্ম ডেস্ক

আমাদের সকলের প্রেরণা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ ‍মুজিবুর রহমান। আমরা তাকে জাতির পিতা হিসেবে মেনে নিয়েছি। পিতার ভুল-ত্রুটি থাকতে পারে, তার সমালোচনা করতে পারি না। আমরা বঙ্গবন্ধুর বিষয়ে কোনো সমালোচনা করব না

সোমবার রাজধানীর কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার আসর মিলনায়তনে জাতীয় কৃষক পার্টির দ্বিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অ‌তি‌থির বক্ত‌ব্যে এসব কথা বলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধী দলীয় উপ-নেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

জি এম কাদের বলেন, ওনার দলের লোকজনের কোনো ত্রুটি থাকলে আমরা সমালোচনা করতে পারি, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর সমালোচনা করতে পারি না।

কৃষক‌রা এখ‌নো অব‌হে‌লিত, এ অ‌ভি‌যোগ ক‌রে জাপার চেয়ারম্যান ব‌লেন, কৃষকরাই সবচেয়ে অবহেলিত। কৃষি খাত এখনো অলাভজনক। কৃষি ক্ষেত্রে সরকারের ভর্তুকি প্রকৃত কৃষকদের হাতে পৌঁছে না।

তি‌নি ব‌লেন, কৃষকদের হাতে যখন ধান থাকে, তখন ধানের দাম থাকে না। কিন্তু কৃষকরা ধান বিক্রি করলেই চালের দাম বেড়ে যায়। মধ্যস্বত্বভোগীদের কারণে কৃষকরা তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আবার সরকারিভাবে যখন কৃষিপণ্য ক্রয় করা হয়,

তখন কিছু অসাধু রাজনৈতিক নেতার লোক প্রভাব বিস্তার করে কৃষকদের প্রাপ্য অধিকার কেড়ে নেয়। অথচ শুধু কৃষকদের জন্যই বাংলাদেশ বলতে পারে, সারা পৃথিবী আমাদের বর্জন করলেও আমাদের উৎপাদিত পণ্য দিয়েই বেচেঁ থাকতে পারব। যা পৃথিবীর অনেক দেশই বলতে পারে না।

জি এম কাদের বলেন, অধিকার আদায়ের জন্য কৃষকদের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। নি‌জে‌দের স্বা‌র্থে কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।

‘হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কাজ দিয়ে প্রমাণ করেছেন, তিনি কৃষকদের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন। বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে জাতীয় পার্টির বীজ বপন করা আছে। শুধু কৃষকদের ঐক্যবদ্ধ করতে পারলেই জাতীয় পার্টির উজ্জ্বল সম্ভাবনা আছে,’ বলেন জি এম কাদের।

জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ কৃষকের প্রকৃত বন্ধু ছিলেন। তিনি ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছিলেন। এরশাদের আমলে চালের কেজি ৬ টাকা ছিল, কৃষকরাও সুখে ছিল। কিন্তু এখন চালের দাম ধরাছোঁয়ার বাইরে। কৃষকরা ভা‌লো নেই। কৃষকরা পণ্যের দাম পায় না।

জাতীয় কৃষক পার্টির সভাপতি আলহাজ সাহিদুর রহমান টেপার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক এ বি এম লিয়াকত হোসেন চাকলাদারের সঞ্চালনায় সম্মেলনে আরো বক্তব্য রাখেন- জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, এস এম ফয়সল চিশতী, মীর আবদুস সবুর আসুদ ও হাজী সাইফুদ্দিন আহম্মেদ মিলন।

সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- জাতীয় পার্টির ভাইস চেয়াম্যান আরিফুর রহমান খান, আহসান আদেলুর রহমান আদেল এমপি, ইসহাক ভুইয়া, সুলতান মাহমুদ, এম এ রাজ্জাক খান, সুজন দে, অ‌্যাডভোকেট আবু তৈয়ব, ফরিদা শিকদার, মিনি খান, প্রিয়াংকা, তাসলিমা আকবর রুনা, জেলা কমিটির নেতা মো. দুলু, রমজান আলী ভুইয়া,

মহতি চাকমা, জালাল উদ্দিন, আসমা সুলতানা, মেজবাহ উল হক, মিজানুর রহমান, অ‌্যাডভোকেট এমদাদুল হক, এনামুল হক, মাইন উদ্দিন খান, মোহাম্মদ পারভেজ শেখ হৃদয়, আবুল কাশেম, হাজী মো. শাহাবুদ্দিন, আওয়াল হোসেন আবাদী, আব্দুল আলীম মন্টু, মোশারফ হোসেন দুলাল, বাদশা মিয়া, মোবারক হোসেন, আব্দুল আলীম প্রমুখ।

মন্তব্য