অবশেষে আওয়ামীলীগ নেতা মিঠু’কে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ: পরিবারে স্বস্তি

অবশেষে আওয়ামীলীগ নেতা মিঠু’কে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ: পরিবারে স্বস্তি

প্রজন্ম রিপোর্ট

গত ৪ দিন আগে ইছালী ফাঁড়ির পুলিশের হাতে আটক হওয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুর রহমান মিঠু কে গতকাল বিকালে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করে ডিবি পুলিশ।
গত ৪ দিন আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় যশোর সদরের ইছালী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা হাশিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা আমিনুর রহমান মিঠু কে গ্রেফতার করে ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

সেইদিন স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও মিঠু’র পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, আমিনুর রহমান মিঠু, পিতা: মৃত লুৎফর রহমান, গ্রাম: ফুলবাড়ী, পোঃ হাশিমপুর কে গতকাল সন্ধ্যা ৭টার দিকে সদরের মনোহরপুর বাজারে মিজানের চায়ের দোকানে দাড়িয়ে থাকা অবস্থায় ইছালী পুলিশ ফাঁড়ির বেশকিছু পুলিশ সদস্য তাকে ইছালী ফাঁড়িতে নিয়ে যায়।

এরপর ১০ মিনিটের মধ্যে একটি সিলভার কালারের হায়েক্স মাইক্রো, যার নং- ঢাকা মেট্রো (চ-১৫৬৩১৯) ইছালী ফাঁড়ির সামনে এসে দ্বাড়িয়ে আমিনুর রহমান মিঠুকে অত্র মাইক্রো তে উঠিয়ে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে জানতে চাওয়া হয় মিঠু কে পুলিশ কেন এবং কি কারনে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং তাকে ঐ মাইক্রো তে উঠিয়ে কোথায় নিয়ে গেছে ।

এ বিষয়ে আমিনুর রহমান মিঠু’র স্ত্রী বলেন, গত ৪ দিন যাবৎ আমি ও আমার পরিবার চরম আশংঙ্কার মধ্যে কাটিয়েছি। কেন, কি কারণে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছেন এবং তাকে কোথায় নিয়ে রাখা হয়েছে তা জানবার জন্য আজ ৪ দিন যাবৎ পুলিশের বিভিন্ন দপ্তরে ও আদালতে গিয়েছি বারবার।

তবে পুলিশ আমাকে এ বিষয়ে কিছুই বলেননি। এরপর গতকাল আমার স্বামীকে একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে ৫৪ ধারায় আদালতে সোপর্দ করেছেন। আমার স্বামী একজন ফিড ব্যাবসায়ী এবং আমাদের পুরো পরিবার আওয়ামীলীগের রাজনিতির সাথে জড়িত। আমার দুইটি সন্তান, আমার মেয়ে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিভাগে এবং আমার ছেলে ঝিনাইদহ ক্যাডেট কলেজে অধ্যানরত।

আমার স্বামী এবং আমাদের পুরো পরিবার বঙ্গবন্ধু’র আদর্শ বুকে ধারণ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী, দেশরতœ জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালি করবার লক্ষে সারাজীবন ধরে আওয়ামীলীগের রাজনিতির সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। আমার স্বামী ও আমাদের পরিবারের কোন সদস্য রাষ্ট্র বিরোধী কোন কাজের সাথে যুক্ত নাই।

এবং আমার স্বামী কোন সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সাথেও যুক্ত নন। আওয়ামীলীগের পক্ষে সক্রিয় রাজনিতি করবার কারণে তাকে বিরোধী পক্ষের বিভিন্ন সাজানো মামলা দিয়ে হয়রাণী করা হয়েছে বিভিন্ন সময়।

তবে আওয়ামীলীগ সরকার রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতে এখন কেন আমাদের পরিবারের সাথে এমন হবে । আমার শ্বশুর মৃত লুৎফর রহমান, দীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ ৩নং ইছালী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

এবং আমার পিতা বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ সাহাবার রহমান বৃহত্তর যশোর জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি ছিলেন, ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার কিছুদিন পর আমার পিতাকে তৎকালিন সেনাবাহিনী ধরে নিয়ে গিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে। আমি চাই আমার স্বামী ন্যায় বিচার পাবেন।

এর আগে গত দুইদিন আগে স্বামী মিঠু’র সন্ধান চেয়ে যশোরের বিভিন্ন পত্রিকা দপ্তরে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রেরণ করেন মিঠু’র স্ত্রী শেলিনা পারভিন।

মন্তব্য