ডুবন্ত বাস থেকে যাত্রীদের বাঁচাতে ঝাঁপ দিলেন ওসি

প্রজন্ম ডেস্ক  

ডুবন্ত বাস থেকে – শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার খেজুরতলা নামক স্থানে মঙ্গলবার ৩০ জন যাত্রী নিয়ে একটি বাস খাদে পড়ে যায়।

এসময় ঘটনাস্থালের অনেকেই তাদের উদ্ধারে পানিতে নেমে পড়েন। এরইমধ্যে খবর দেয়া হয় পুলিশকে। তার একটু পরেই ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান ঘটনাস্থালে এসেই যাত্রীদের বাঁচাতে পানিতে ঝাঁপ দেন।

এমন একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়েছে। অনেকে নিজের টাইমলাইনে ছবিটি শেয়ার দিয়ে প্রশংসামূলক বাক্য লিখছেন। পানিতে নেমে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়া বাসের যাত্রীদের উদ্ধার করেন। দুর্ঘটনার পর জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অন্তত ১০ থেকে ১৫ জনকে পানির নিচ থেকে উদ্ধার করায় জনগণের বন্ধু বলে তার প্রশংসায় পঞ্চমুখ সবাই।

ফেসবুকে অনেকেই এ কাজের জন্য তার পদোন্নতি ও পুলিশের পক্ষ থেকে পুরস্কারের ব্যবস্থা করার দাবি করছেন।

স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে ওসি মেহেদী হাসান যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে যাত্রীদের উদ্ধার করেন তা অবিশ্বাস্য। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ময়লা পানিতে নামেন। এ বীরত্বের জন্য উপস্থিত হাজারো মানুষ তাকে এবং পুলিশ প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান।

ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান বলেন, যারা দুর্ঘটানাকবলিত হয়েছে তারাতো মানুষ। মানুষতো মানুষের জন্য। সেই চিন্তা করেই ঝাঁপিয়ে পড়ি যাত্রীদের বাঁচাতে। এটাতো আমার কর্তব্য ছিল।

এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোসাইরহাট সার্কেল) মো. মোহাইমিনুল ইসলাম বলেন, যাত্রীদের জীবন বাঁচাতে আমাদের মেহেদী হাসান জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যা করেছেন তা পুলিশ বিভাগের জন্য সত্যিই প্রশংসনীয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বাসটি খাদে পড়ে যাওয়ার খবর পেছে ছুটে আসেন ডামুড্যা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ময়লা খাদের পানিতে লাফিয়ে পড়েন। তার লাফিয়ে পড়া দেখে স্থানীয় লোকজনও লাফিয়ে পড়েন। গাড়ির জানালার গ্লাসগুলো ভেঙে দেন।

যাতে সহজে গাড়ির ভেতরে থাকা যাত্রীরা বেরিয়ে আসতে পারেন। গাড়ির ভেতর আটকা পড়া ছয় নারীসহ ১০ থেকে ১৫ জন যাত্রীকে উদ্ধার করেন ওসি নিজেই। পরবর্তীতে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন। সংবাদ পেয়ে একে একে ছুটে আসে ফায়ার সার্ভিসসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

এ সময় কামরুজ্জামান মাহমুদ মুন্সী (৪৫) ও ইয়াকুব পাইককে (৮০) উদ্ধার করা গেলেও বাঁচানো যায়নি। এ দুর্ঘটনায় আহত হন ছয় নারীসহ অন্তত ২৫ জন যাত্রী।

মন্তব্য