ছদ্মবেশে বক্ষব্যাধিতে দুদক, ৬ জনের শাস্তি

প্রজন্ম ডেস্ক

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে ছদ্মবেশে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

অভিযানে সিট বুকিংসহ নানা সেবায় ওয়ার্ড বয়, সিসটার, আয়া, সুইপার, ট্রলিবয়সহ স্টাফদের মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেনের তথ্য পায় দুদক টিম। যে অভিযোগে বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীকে শোকজ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

দুদকের জনসংযোগ দপ্তর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এছাড়াও আজ দুদক এনফোর্সমেন্ট ইউনিটে আগত অভিযোগের প্রেক্ষিতে সারাদেশে পাঁচটি অভিযান পরিচালিত হয়।

দুদক জানায়, দুদক অভিযোগ কেন্দ্রে হাসপাতালে পেয়িং এবং নন পেয়িং উভয় ক্যাটাগরির সিট বুকিংয়ের জন্য স্টাফদের মোটা অঙ্কের ঘুষ দিতে হয়। নন পেয়িং সিট খালি থাকা সত্ত্বেও বরাদ্দ দেয়া হয় না। বরং এজন্য কমপক্ষে দুই থেকে তিন হাজার টাকা প্রদান করতে হয়।

এছাড়া হাসপাতালের ওয়ার্ড বয়, সিসটার, আয়া, সুইপার, ট্রলিবয়- প্রত্যেককে পৃথকভাবে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা বকশিশ দিতে হয়; যা না দিলে নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয় রোগী এবং তার স্বজনদের।

আগত অভিযোগসমূহের প্রেক্ষিতে সহকারি পরিচালক শারিকা ইসলাম এবং উপসহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত পুলিশসহ পাঁচ সদস্যের টিম রাজধানীর মহাখালীতে বক্ষব্যাধি হাসপাতালে অভিযান পরিচালনা করে।

দুদক আরো জানায়, টিমের একজন সদস্য নিজে রোগীর স্বজন পরিচয়ে হাসপাতালে সিট বুকিং করতে চাইলে তার নিকট বাড়তি অর্থ চাওয়া হয়। অভিযানকালে দুদক টিম ছদ্মবেশে হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে। অভিযোগসমূহের বিষয়ে প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

সদস্যগণ তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালের পরিচালককে বর্ণিত পরিস্থিতি অবগত করেন। হাসপাতালের পরিচালকের উপস্থিতিতে এক ওয়ার্ড বয়ের নিকট বেশ কিছু পরিমাণ অনৈতিক উপায়ে অর্জিত অর্থ পাওয়া যায়।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যক্ষ ডা. মোহাম্মদ সাহেদুর রহমান খান জরুরী সভার মাধ্যমে প্রাপ্ত অনিয়মসমূহের বিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণ করার বিষয়ে দুদক টিমকে আশ্বস্ত করেন। যাদের সরাসরিভাবে দুর্নীতির সাথে সম্পৃক্ত পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, আউটডোর ও ইমারজেন্সিকে দুর্নীতিমুক্ত রেখে স্বচ্ছ করার অঙ্গিকার করেন হাসপাতাল পরিচালক।

এছাড়াও সিলেটে ভূমির পর্চা প্রদানে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে, কাশিমপুর কারাগার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে নানাবিধ দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগে, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার ক্রয় ও মেরামত খাতে বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এবং বন বিভাগ, গাজীপুর এর এক বন প্রহরীর বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও রাজস্বের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে- যথাক্রমে সমন্বিত জেলা কার্যালয়, সিলেট এবং সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা-২ হতে চারটি পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।

মন্তব্য