মাদকের থাবা

অপরাধ ডায়েরী

রবিবারের বিশেষ প্রতিবেদনঃ- অপরাধ ডায়েরীঃ- পর্বঃ ১০

শরিয়তউল্লাহ শুভ

যশোরের একটি মাত্র পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। স্বাভাবিক ভাবেই সকল মেধাবীরা পড়াশোনা করে এখানে। কলেজটিতে যশোর বাদেও দেশের বিভিন্ন জেলা হতে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে।

শিক্ষার্থীদের জন্য থাকা কয়েকটি হলের মধ্যে শহীদ মসিয়ূর রহমান হল অন্যতম। ঐ হলের প্রভোস্ট আমজাদ হোসেন। একদিন রুটিন কাজের অংশ হিসেবে সে তার অন্যান্য সহকারী প্রভোস্টদের সাথে হল পরিদর্শনে যান। এ সময় তারা হলের ৪১২ নম্বর কক্ষে চার ছাত্রকে মাদক সেবনরত অবস্থায় দেখতে পান।

এরপরের দিন হলের ১১০ নম্বর কক্ষে প্রভোস্ট বডির সদস্যরা গাঁজা সেবনের বিভিন্ন উপকরণ দেখতে পান। এছাড়া ওই কক্ষের শিক্ষার্থীরা সারারাত ড্রাম ও উচ্চস্বরে সাউন্ডবক্স বাজিয়ে পড়াশোনার পরিবেশ বিনষ্ট করছে বলে অভিযোগ পান। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। গঠিত তদন্ত কমিটিও এসব ঘটনার সত্যতা পায়।

পরে কমিটি ওই ছাত্রদের এক বছরের জন্য বহিষ্কারাদেশ দেওয়া যেতে পারে বলে সুপারিশ করে। তবে শিক্ষার্থীদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ বিবেচনা এবং শোধরানোর শেষ সুযোগ দিতে আট শিক্ষার্থীকে ছয় মাসের জন্য হল থেকে বহিষ্কার এবং তিন ছাত্রকে এক হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নেয়।”

বহিষ্কৃত ছাত্ররা হলেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র তানভীর মাহমুদ ফয়সাল ও তানীম আহমেদ, একই বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. আক্তারাজ্জামান আপন, ইংরেজি বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র শাহেদ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র মো. ইখতিয়ার ইমাম আনান, বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ছাত্র দেবায়ন দাস জয়, অভিক মজুমদার ও নিলয়।

কলেজ থেকে বহিষ্কার না হতে হলেও ছয় মাস তাদেরকে কলেজের হল থেকে বের করে দেওয়া হয়। ঘটনাটি চলতি বছরের ১২ ও ১৩ ফেব্রুয়ারীতে।মহেশপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ের কারিগরি বিষয়ের শিক্ষক মর্জিনা বেগম। ২০০৪ সালে তার স্বামীর সাথে বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর তার সন্তান ইমরান ও তার মা শামসুন্নাহারকে নিয়ে মহেশপুরের পৌর এলাকার নওদাপাড়ায় বসবাস করতেন।

তবে এত কষ্টের মধ্যেও মর্জিনা বেগমের আরো একটি কষ্ট ছিল। তার ছেলে ইমরান ছিল মাদকাসক্ত। মাদক কেনার টাকার জন্য বিভিন্ন সময় ইমরান তার মা ও নানীকে নির্যাতন করত। নেশা করতে করতে সে একেবারে মানষিক রোগীর মত হয়ে যায়। অনেকেই তাকে মানষিক রোগী মনে করতো।

কিন্ত মাদকের টাকা না পেলে তার দিগি¦দিক জ্ঞান শূণ্য হয়ে যেত। একদিন রাতে ইমরান তার মায়ের কাছে টাকা চান মাদক কেনার জন্য। মাদক কেনার টাকা না দিতে চাইলে মাদকাসক্ত ইমরান ক্ষিপ্ত হয়ে তার মা ও নানীকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে।

এসময় প্রতিবেশীরা চিৎকার শুনে বাড়িতে গিয়ে দেখতে পান ইম,রানের মা ও নানী দুইজনই ঘরের মেঝেতে পড়ে আছেন। এলাকাবাসী সেখান থেকে তাদের উদ্ধার করে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করলেও পরেরদিন ভোরে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। এঘটনায় স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো ঝিনাইদহ।

শুধু ঝিনাইদহ নয়, স্তম্ভিত হয়েছিল পুরো বাংলাদেশ। আজকে বাংলাদেশের সবথেকে বড় একটি সমস্যা হল মাদক। এর বিরুদ্ধে সরকারের গ্রহন করা জিরো টলারেন্স নীতিও যেন পেরে উঠছে। রাস্তার গলি থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুম সর্বস্তরে আজ মাদকের ছড়াছড়ি।

মায়ানমার থেকে আসা ইয়াবা আর ভারত থেকে আসা ফেনসিডিলিসা আরো নানা ধরনের মাদক বর্তমান যুবসমাজকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছে। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে প্রতিনিয়ত পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হচ্ছে মারা যাচ্ছে অনেক মাদক ব্যবসায়ী। অনেক যুবকের অকাল মৃত্যুও যেন লাগাম টানতে পারছে না।

আজকের এই যুবসমাজই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তাই যদি মাদকের থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করতে না পারা যায় তাহলে আগামী দিনে আমরা সকলেই হবো এর শিকার। আমাদের সন্তানদের শরীরে যাতে আর মাদকের নীল ছোবল লাগতে না পারে সেজন্য রুখে দাড়াতে হবে আমাদেরকেই। তাই সতর্ক থাকুন, সাবধান থাকুন। সচেতনতা রুখে দিক সকল অপরাধ।

মন্তব্য