নড়াইল সদর হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রউফ হাতে পেয়েছেন আলাউদ্দিনের চেরাগ!

নড়াইল সদর হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রউফ হাতে পেয়েছেন আলাউদ্দিনের চেরাগ!

যশোর, নড়াইল, সাতক্ষীরা ও ঢাকায় জমি, বাড়ি, গাড়ীসহ কোটি কোটি টাকার মালিক

প্রজন্ম রিপোর্ট

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সোনাপুর বাঁকড়া গ্রাম থেকে আসা কৃষক পরিবারের সন্তান আব্দুর রউফ আলাউদ্দিনের চেরাগ হাতে পেয়েছেন। স্বাস্থ্য বিভাগে চাকুরী করার সুবাদে এখন সে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন।

তাছাড়া তিনি একটি নয় দু’টি নয় তারও অধিক বিয়ে করেছেন। বর্তমানে তিনি সর্ব কনিষ্ট সহ ধর্মিনীর সাথে থাকেন। চাকুরীর শুরু থেকে স্বাস্থ্য বিভাগের ষ্টোর কিপার থেকে প্রশাসনিক কর্মকর্তায় উঠে যশোর, ঢাকা, নড়াইল, সাতক্ষীরা জেলায় গড়ে তুলেছে নিজস্ব জমিতে বাড়ি ও গাড়ীসহ বিশাল ব্যাংক ব্যালেন্সের মালিক।

চাকুরীর পাশাপাশি তিনি যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাট বাজারে রড সিমেন্টসহ নানা ব্যবসার সাথে জড়িয়ে এখন তিনি সব সময় ধরা ছোয়ার বাইরে চলে গেছেন। বর্তমানে তার সম্পদের হিসাব নিলে তিনি সুষ্ঠুভাবে এর জবাব দিতে ব্যর্থ হওয়ার ভয়ে নিজের অবৈধভাবে গড়া সম্পদ স্ত্রীদ্বয়সহ তার আত্মীয়দের নামে ও বেনামে লিখে দিয়েছেন যা সুষ্ঠভাবে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে। বর্তমানে তিনি নড়াইল জেলার সদর হাসপাতালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা পদে চাকুরী করছেন।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার সোনাপুর বাঁকড়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুর রউফ স্বাস্থ্য বিভাগে চাকুরিতে যোগদান করেন। তিনি যোগদানের পর অবৈধভাবে সরকারী অর্থ তছরুপে মেতে উঠেন। তিনি সাতক্ষীরা জেলায় র্দীঘদিন চাকুরী করার সুবাদে সেখানে বিভিন্ন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের সাথে হাত মিলিয়ে অবাধে কামিয়েছেন কাড়িকাড়ি অর্থ।

যে অর্থ দিয়ে তিনি যশোর সদর উপজেলার পুলেরহাট এলাকার ৫টি প্লট বানিয়েছেন। এর মধ্যে একটি প্লটে তিনি তার মুন্সি ট্রেডার্স নামে একটি অফিস করেছেন। উক্ত অফিসে তিনি তার নিরাপত্তার জন্য সিসি ক্যামেরাও স্থাপন করেছেন।

আব্দুর রউফ স্বাস্থ্য বিভাগে চাকুরী করার সুযোগে বাঁকড়ায় ১ একর জমির উপর ২টি বাড়ি নির্মাণ, যশোর শহরের বেজপাড়ায় ২টি, বকচর হুশতলায় ১টি, নড়াইল জেলার লক্ষীপাশা এলাকায় ২টি বাগানবাড়ি , রাজধানী ঢাকা মালিবাগ সাফিনা হাসপাতালের বিপরীত পাশের্^ একটি বাড়ি, ঢাকা রমনা থানার পিছনে কাকরাইলে ১টি বাড়ি, ঢাকা এলিফ্যান্ট রোডে ১টি ও সাতক্ষীরায় ১টি বাড়ির মালিক হয়েছেন।

এছাড়া, যশোর সদর উপজেলার গাজীর দরগাহর পিছনে স্ত্রীর নামে ৫ বিঘা জমি রয়েছে তার। সূত্রগুলো আরো বলেছেন, আব্দুর রউফ যমুনা ও ফাষ্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের একাউন্টে টাকার লেনদেন করেন। তার ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি ৩টি ব্যক্তিগত গাড়ী ও ৪টি মোটরসাইকেল কিনে ব্যবহার করছেন।

আব্দুর রউফের ৩ বউয়ের মধ্যে দু’টি থাকেন নড়াইল জেলায় ও বর্তমানে কনিষ্ঠ স্ত্রীকে নিয়ে তিনি যশোর পুলের হাটের বাড়িতে বসবাস করছেন। সূত্রগুলো আরো অভিযোগ করেছেন, এই আব্দুর রউফ বছর কয়েক আগে বর্তমান স্ত্রীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক গড়তে গিয়ে ডিবি পুলিশের হাতে আটক হন।

পুলিশ নারীসহ আব্দুর রউফকে আটক করার পর উক্ত নারী তার স্ত্রী বলে দাবি করলে পুলিশ কাবিননামা দেখতে চান। তখন আব্দুর রউফ কাবিননামা দেখাতে ব্যর্থ হলে পুলিশ তাদেরকে আটক করেন। পরে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়ার প্রাক্কালে তিনি মোটা অংকের উৎকোচ দিয়ে ঐ যাত্রায় রক্ষা পান।

তিনি তার প্রতিষ্ঠানে যে সব লোক নিয়োগ করেছেন, তাদের কাছ থেকে আগাম ব্যংকের চেক নিয়ে রেখে দিয়েছেন। উক্ত ব্যাংকের চেকগুলো তিনি নিজের ইচ্ছেমতো টাকার অংক বসিয়ে ডিজঅনার করে মামলা করার হুমকী ধামকী দিয়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি করেন এবং বিভিন্ন লোকজনকে ব্লাক মেইলিং করায় এলাকাবাসীর সাথে প্রায়ই তার দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।

আব্দুর রউফের অত্যাচারে স্থানীয় লোকজন ও চাঁচড়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পর্যন্ত অতিষ্ট হয়ে গেছেন। বিভিন্ন সূত্রে থেকে জানা গেছে, তিনি হুন্ডি ব্যবসার সাথে জড়িত। পুলেরহাটে কয়েক কোটি টাকার সম্পদ ও দেশের বিভিন্ন জেলায় জমি কিনেছেন তিনি এবং বাড়ি নির্মাণ করেছেন তিনি। এই ব্যক্তির আয়ের উৎসহ’র বৈধতা নিয়ে নানা গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে পুলেরহাটসহ বিভিন্ন মহলে।

স্থানীয় লোকজন আব্দুর রউফের টাকা ও সম্পদের হিসাব কষতে সরকারের দূর্নীতি দমন কমিশন ও প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

মন্তব্য