প্রতিদিন এলাচি খাওয়ার ৮টি উপকারিতা

প্রজন্ম ডেস্ক

প্রতিদিন এলাচি খাওয়ার – রান্নায় এলাচির ব্যবহার অনেক দিন ধরেই হয়ে আসছে। এটি খাবারে স্বাদ ও সুগন্ধের যোগ করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যের নানা উপকার করে।

শরীরে চর্বি পোড়ানোর সক্ষমতা যুক্ত করে এই মসলা। এলাচিতে প্রচুর ম্যাংগানিজ আছে, যা শরীরে ক্ষতিকর উপাদানগুলো বিরুদ্ধে লড়ার এনজাইম তৈরি করে শরীরকে বিষমুক্ত রাখে।

শরীরে ক্যানসারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে পারে এলাচি। খাবারের পাশাপাশি চায়ের সঙ্গেও এলাচি খেতে পারেন, যা শরীরকে বিশেষ সুবিধা দেয়।

১. পরিপাকের উন্নতি ঘটায় এলাচির বায়ুনাশকারী গুণ আছে বলে পরিপাক প্রক্রিয়ায় সাহায্য করে। এটি পেটফাঁপা কমায় এবং শূলবেদনা নিরাময়ে সাহায্য করে। এটি পিত্তরসের প্রবাহ বৃদ্ধি করে চর্বি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের পরিপাকে সাহায্য করে। এজন্যই এলাচি পরিপাক তন্ত্রের সমস্যা যেমন- কোষ্ঠকাঠিন্য, আমাশয়, এসিডিটি, বদহজম এবং বিভিন্ন ধরণের পাকস্থলীর সংক্রমণ এর আদর্শ সমাধান হিসেবে কাজ করে। পরিপাকের সমস্যা সমাধানে শুধু এলাচি খেতে পারেন, এলাচি গুঁড়া খাবারে ছিটিয়ে দিতে পারেন অথবা এলাচির চা পান করতে পারেন। এলাচির তীব্র মিষ্টি গন্ধ থাকে বলে বেশিরভাগ মানুষ এমনকি শিশুরাও পছন্দ করে এলাচি।

২. নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করে যদি আপনার নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ থাকে এলাচি ব্যবহার করে দেখুন। এটি ব্যাকটেরিয়া নাশক উপাদানে ভরপুর থাকে বলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে।

এছাড়াও এর শক্তিশালী গন্ধ নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর করতে পারে। এলাচি বীজের তেল ও নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করতে পারে। প্রতিবার খাওয়ার পর এলাচি মুখে নিয়ে চাবাতে পারেন। এলাচ চা পান করতে পারেন অথবা দিনে দুই বার উষ্ণ এলাচ চা দিয়ে কুলকুঁচি করে নিতে পারেন। এটি কার্যকরী মুখ পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করবে।

৩. ক্ষুধার উন্নতি ঘটায় এলাচ উষ্ণ পরিপাক টনিক হিসেবে কাজ করে বলে বদহজম, পেটফাঁপা এবং এসিডিটির সমস্যা মোকাবেলায় সাহায্য করে ক্ষুধামন্দা দূর করতে পারে।

এছাড়াও এটি পরিপাক রসের নিঃসরণের উন্নতি ঘটায়। যদি আপনার ক্ষুধা কমে যায় তাহলে স্যুপে এলাচের গুঁড়া মিশিয়ে নিতে পারেন অথবা কয়েকটি এলাচি চিবিয়ে খেতে পারেন।

৪. ডিটক্সিফাই হতে সাহায্য করে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ হওয়ায় এলাচি ডিটক্সিফিকেশনের মাধমে শরীরকে বিষমুক্ত হতে সাহায্য করে। এটি ম্যাংগানিজের ও চমৎকার উৎস বলে এনজাইম উৎপাদনে সাহায্য করে এবং ময়লা সাফ করতে ও ফ্রি র‍্যাডিকেল ধ্বংস করতে সাহায্য করে। প্রতিদিন এককাপ এলাচ চা পান করলে আপনার শরীর সুস্থ ও পরিষ্কার থাকবে।

৫. কিডনির স্বাস্থ্যের উন্নতিতে সাহায্য করে এলাচ কিডনির জন্য ভালো, কারণ এটি মূত্র ত্যাগকে উদ্দীপিত করে এবং ব্লাড প্রেশার কমতে সাহায্য করে। এছাড়াও কিডনিতে জমা হওয়া ক্যালসিয়াম ও ইউরিয়া দূর করতেও সাহায্য করে। নিয়মিত এলাচ গ্রহণ করলে বিভিন্ন ধরণের কিডনির সমস্যা, মূত্র থলির সমস্যা, কিডনি পাথর, নেফ্রাইটিস, মূত্র ত্যাগের সময় জ্বালাপোড়া বা ব্যথা করা ও ঘন ঘন মূত্র ত্যাগের সমস্যা নিরাময়ে কাজ করে। এটি প্রায়ই মূত্র নালীর সংক্রমণের চিকিৎসায় ও ব্যবহার করা হয়।

৬. কার্বোহাইড্রেট, চর্বি ও ক্যালরি পোড়াতে এলাচির জুড়ি নেই। গরম দুধের মধ্যে দু-এক চামচ এলাচি গুঁড়া ও হলুদ গুঁড়া দিন। এতে একটু চিনি যোগ করতে পারেন। এতে শরীরের দুর্বলতা দূর হবে।

৭. গরম-গরম সবুজ চায়ের সঙ্গে এলাচগুঁড়ো মিশিয়ে খেলে বদহজম দূর হয়। যাঁরা অম্লের সমস্যার ভোগেন, তাঁরা খাবার শেষ করেই যেন বসে পড়বেন না। খাবার পর এক দানা এলাচ মুখে দিয়ে কিছুটা হাঁটাহাঁটি করুন। এতে সমস্যার সমাধান হবে।

৮. এলাচির অদ্ভুত ক্ষমতা আছে। যাঁরা ওজন কমাতে চান, তাঁদের জন্য এক চামচ এলাচি দারুণ কাজে লাগে। নতুন এক গবেষণায় দেখা গেছে, এলাচগুঁড়ো ওজন কমানোর পাশাপাশি শরীরের ক্ষতিকর চর্বি কমাতে ও অস্বাস্থ্যকর কোলস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে ফেলতে পারে।

গবেষকেরা বলছেন, যদিও ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি খুব সহজ নয়, তবে সঠিক ডায়েট প্রক্রিয়ায় এলাচি গুঁড়ো যোগ করে অতিরিক্ত ওজন কমিয়ে ফেলা যায়।

এছাড়াও এলাচি পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামে পরিপূর্ণ থাকে। পটাসিয়াম রক্ত, দেহের তরল ও কোষের প্রধান উপাদান যা হৃদস্পন্দন নিয়মিত রাখতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

এলাচি অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে সমৃদ্ধ বলে অ্যানেমিয়ার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করে, অ্যাজমা বা ব্রংকাইটিসের মত শ্বসনতন্ত্রের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে, ক্যান্সার বিশেষ করে কোলন ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে, হেঁচকি দূর করতে সাহায্য করে।

মন্তব্য