লক্ষ্মীপুরে চাকা ফেটে পিকআপ খাদে, প্রাণ গেল ৩ শ্রমিকের

প্রজন্ম ডেস্ক

পেটের দায়ে নির্মাণ শ্রমিকের কাজের জন্য সকালেই বাড়ি থেকে বের হয়ে ছিলেন ১৮ জন শ্রমিক। নির্মাণ ঢালাই কাজে ব্যবহৃত মেশিন নিয়ে ছোট্ট একটি পিকআপ ভ্যানে যাচ্ছিল কর্মস্থলে। কিন্তু হঠাৎ পথে চাকা পান্সার হয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িটি উল্টে পড়ে পাশে খাদে। এতে ঘটনাস্থলেই মেশিনের চাপা পড়ে তিন শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বাকীরা সবাই আহত হয়।

ঘটনাটি ঘটেছে আজ বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারী) সকাল ৮টার দিকে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের ঢাকা-রায়পুর সড়কের পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সংলগ্ন এলাকায়। আহতদের লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।

এদিকে তিন নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যুর খবরে নিহতদের পরিবার জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। তারা হাসপাতাল এলাকায় কান্নায় একাকার করে রাখে।

নিহতরা শ্রমিকরা হলেন, সদর উপজেলার টুমচর গ্রামের সায়েদুল হক পাটোয়ারীর ছেলে রফিক (৫৫), পৌর শহরের সমসেরাবাদ এলাকার নজির আহম্মদের ছেলে মফিজ উল্লাহ(৩০), আবির নগর গ্রামের নুরুল আমিনের ছেলে খোরশেদ (৩৫)।

এছাড়াও আহত হয়েছেন, আবদুল গফুরের ছেলে আবুল হোসেন, আবুল বাসার, দিদারের ছেলে ইয়াসিন, তসলিমের ছেলে রবিন, মজিবুল হকের ছেলে নজির, বাবুল, আবদুল মন্নানের ছেলে আবদুর নুর ও আজিজ উল্যার ছেলে সৈয়দ আহমেদসহ ১৫। তারা সবাই সদর উপজেলার আবিননগর গ্রামের বাসিন্দা।

প্রত্যক্ষদর্শী মো. সেলিমসহ নিহতের স্বজনরা জানায়, সকালে পৌর শহরের মিয়া রাস্তার মাথা এলাকা থেকে নির্মাণ কাজের কন্টেক্টর ইসমাইল মাঝির অধীনে নির্মাণ কাজের ঢালাই মেশিনসহ ১৮জন শ্রমিক একটি পিকআপ ভ্যান যোগে হাজীরপাড়া এলাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। পিকআপ ভ্যানটি ঢাকা-রায়পুর সড়কের পল্লীবিদ্যুৎ অফিস এলাকায় পৌছলে চাকা পান্সার হয়ে যায়।

এক পর্যায়ে ভ্যানটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে রাস্তার পাশে খাদে পড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই ঢালাই মেশিনের চাপা পড়ে রফিক, মফিজ ও খোরশেদ নামে তিন নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু হয়। বাকী শ্রমিকদের আহত অবস্থায় উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল সহ বিভিন্ন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। তবে ঘটনার পর থেকে পিকআপ ভ্যান চালক মো. লিটন পলাতক রয়েছে। সে আবির নগর গ্রামের রুহুল আমিনের ছেলে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ আনোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, হাসপাতালে আনার পূর্বেই তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকী শ্রমিকদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য