সোলাইমানির মৃত্যুতে ইদলিবে আনন্দ-উল্লাস, মিষ্টি বিতরণ

প্রজন্ম ডেস্ক

 শুক্রবার বাগদাদের এয়ারপোর্ট এলাকায় ড্রোন থেকে গাড়িতে মিসাইল হামলা চালিয়ে ইরানের শীর্ষ জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করা হয়। মার্কিন সামরিক সদর দফতর পেন্টাগন জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নির্দেশে এই মিশন পরিচালিত হয়েছে।

এদিকে সোলাইমানি নিহত হওয়ায় কয়েক হাজার সিরীয় নাগরিক মিষ্টি ও কেক বিতরণ করে উল্লাস প্রকাশ করেছেন। এদের বেশিরভাগই নিজেদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বিদ্রোহীদের শেষ ঘাঁটি ইদবিলে আশ্রয় নিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এখবর জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে ইরানের রেভ্যুলিউশনারি গার্ডস কর্পসের (আইআরজিসি) অভিজাত শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান জেনারেল কাসেম সোলাইমানি ও তার সাত সহযোগী নিহত হন।

ইরানি জেনারেলের হত্যাকাণ্ডের পর শুক্রবারজুড়ে সিরিয়ার ইদলিবে উল্লাস করতে দেখা গেছে। অনেক সিরীয় আরবের মিষ্টি ও কেক বিতরণ করে সোলাইমানির মৃত্যু উদযাপন করেছেন।

ইদলিবে আশ্রয় নেওয়া কয়েকজন সিরীয় মিডল ইস্ট আইকে বলেছেন, সোলাইমানির নির্দেশে সিরীয় সরকার সমর্থক বাহিনী বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অনেক শহর ও নগর অবরোধ করে। এতে তাদের অনেকেই অনাহারে পড়ে।

দামেস্ক থেকে ইদবিলে পালিয়ে আসা বুরহান বলেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় আমরা বিড়াল খেয়ে বেঁচেছিলাম। অনেকে নিজেদের প্রাইভেট কারের বদলে সামান্য চাল কিনতে বাধ্য হয়েছে। সোলাইমানি ও তার মিলিশিয়াদের কারণে আমাদের অনেককেই না খেয়ে মরতে হয়েছে। তাই আমরা তার মৃত্যুতে খুশি।

এদিকে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু করতে নয় বরং তা থেকে নিস্তার পেতেই কমান্ডার কাসেম সোলাইমানিকে মিসাইল ছুড়ে হত্যা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর মাধ্যমে সোলাইমানির ‘সন্ত্রাসবাদের যুগের’ সমাপ্তি হলো বলেও দাবি করেন তিনি।

ফ্লোরিডার মার-এ-লাগো রিসোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প বলেন, মার্কিন সেনারা নির্ভুল হামলা চালিয়ে পৃথিবীর এক নম্বর সন্ত্রাসী কাসেম সোলাইমানিকে হত্যা করেছে।

তিনি আরও জানান, সে নারকীয় আক্রমণ চালিয়ে মার্কিন কূটনৈতিক ও সেনাদের হত্যার ছক কষছিল। আমরা তার পরিকল্পনা ভণ্ডুল ও তাকে হত্যা করতে সক্ষম হই।

মন্তব্য