অস্ট্রেলিয়ার দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩

প্রজন্ম ডেস্ক

দাবানলের আগুনে দাউদাউ করে জ্বলছে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ বনাঞ্চল। সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই বিধ্বংসী দাবানলের জেরে পুড়ে গেছে প্রায় কয়েক লক্ষ একর জমি। ভস্মীভূত হয়েছে প্রায় দু’শরও বেশি বাড়ি। দাবানলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২৩ জনে দাঁড়িয়েছে।

এই পরিস্থিতির জেরে নিউ সাউথ ওয়েলসে সপ্তাহব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন। এর মাঝেই জানা গেল এই ভয়াবহ দাবানলের জেরে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বন্যপ্রাণীদেরও। মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৫০ কোটি জন্তুর। দাবানল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিন হাজার সেনা মোতায়ন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসন।

আজ দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়াতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। দাবানলে এ পর্যন্ত অন্তত দেড় হাজার বাড়িঘর পুড়ে গেছে।

এদিকে, ভিক্টোরিয়া রাজ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে তিনটি দাবানলে একরাতে ৬ হাজার হেক্টর এলাকা পুড়ে বিরান ভূমিতে পরিণত হয়েছে। বাড়ি ছাড়া হয়েছে এক লাখ মানুষ। ওই এলাকাকে এরই মধ্যে দুর্যোগপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করেছে ভিক্টোরিয়া রাজ্য সরকার। ভিক্টোরিয়ায় এখনও নিখৌঁজ রয়েছে ২১ জন।

যেসব কৃষক আগুন থেকে বাঁচার জন্য অন্য স্থানে আশ্রয় নিয়েছিলেন, তারা পরে বাড়ি ফিরে দেখেন পুড়ে ছাই হয়ে গেছে ফসলি জমি, গৃহপালিত ও বন্যপ্রাণী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য প্রাণী পুড়ে মরে গেছে। কাকাতুয়াসহ অন্য অনেক পাখি মরে গাছের নিচে পড়ে থাকতে গেছে।

পরিবেশ সংরক্ষণ পরিষদের পরিবেশবিদ মার্ক গ্রাহাম বলেন, ‘খুব উষ্ণ ও দ্রুত’ এ দাবানলে পুড়ে মরে গেছে অসংখ্য প্রাণী। বিশাল এলাকা এখনো জ্বলছে দাবানলে। এতে সামনের দিনগুলোতে আরও অনেক প্রাণী পুড়ে মরবে।

স্বেচ্ছাসেবী প্রাণী উদ্ধারকর্মী ট্র্যাসি বার্গেস বলেন, প্রত্যাশার চেয়ে খুব কম প্রাণীকে আহতাবস্থায় চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে, যা বেশ উদ্বেগজনক। আমাদের দুশ্চিন্তার কারণ এটাই যে, হয়তো তারা মরেই গেছে, তাই তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আনা হচ্ছে না।

মন্তব্য