৩৬ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষ করলেন সফল তত্বাবধায়ক ডাক্তার লিটু

৩৬ বছরের বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষ করলেন সফল তত্বাবধায়ক ডাক্তার লিটু

প্রজন্ম রিপোর্ট

গতকাল ৩৬ বছরের সরকারি চাকরি থেকে অবসরে গেলেন এবং সরকারি চাকরির বর্ণাঢ্য কর্মজীবন শেষ করলেন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু । তত্ত্বাবধায়ক পদে এক বছর ৮ মাস দায়িত্ব পালন করে গতকাল শনিবার শেষ কর্মদিবস অতিবাহিত করে অবসরোত্তর ছুটিতে গেলেন তিনি।

১৯৮৩ সালের ৮ নভেম্বর সরকারি চাকরিতে যোগদান করেন, ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু। সর্বশেষ তিনি যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ২৪তম তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দ্বায়িত্বে ছিলেন তিনি।

যশোর শহরের পাইপপট্টি এলাকায় কামাল উদ্দীন আহমেদ এর সন্তান ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু। ১৯৬১ সালের ৫ জানুয়ারি তার জন্ম। যশোর জিলা স্কুল থেকে ১৯৭৫ সালে প্রথম বিভাগে এসএসসি ও ১৯৭৭ সালে যশোর এমএম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। এরপর ভর্তি হন রাজশাহী মেডিকেল কলেজে।

এমবিবিএস পাস করেন ১৯৮৩ সালে। একই বছরের ৮ নভেম্বর রাজশাহী মেডিকেল কলেজে ইন সার্ভিস ট্রেনিংয়ে যোগদান করে সরকারি চাকরি জীবন শুরু করেন। ১৯৮৫ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি মণিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মেডিকেল অফিসার হিসেবে যোগ দেন। এরপর বিভিন্ন স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থেকে মানুষের চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন। যশোর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে মণিরামপুরেই কাটিয়েছেন চাকরি জীবনের ১১ বছর। সহকারী পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে।

২০১৮ সালের ৭ এপ্রিল তত্ত্বাবধায়ক পদে যোগদানের পর থেকে অবসর অবদী সাফল্যের সাথে দ্বায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এবং বেশকিছু ভালো পদক্ষেপ নেন তিনি। যে কারণে হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন হয়েছে অনেক।

তার উল্লেখযোগ্য কর্মকান্ডের মধ্যে ছিল হাসপাতালের নামে ওয়েবসাইট চালু, প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও এক্স-রে আল্ট্রাসনো বিভাগে ডিজিটাল মেশিন সংযোজন, রাজস্ব সঠিকভাবে আদায়ের লক্ষে ক্যাশ কাউন্টার চালু করা। প্যাথলজি বিভাগে রোগীর ডায়াবেটিসের মাত্রা তিন মাসের গড় হিসেব নির্ণয়ের জন্যে এইচবিএওয়ানসি মেশিন সংযোজনসহ আরো অনেক কিছু।

গতকাল জেলা হাসপাতাল স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা কমিটির সভার মাধ্যমে তিনি শেষ অফিস করেছেন। ডাক্তার আবুল কালাম আজাদ লিটু তার এযাবৎকালের কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা নিয়ে বলেন, এক বছর আট মাস তত্ত্বাবধায়কের দায়িত্ব পালনকালে হাসপাতালে ৫৫ ধরণের উন্নয়ন করেছেন তিনি। তার চেষ্টায় হাসপাতালে স্থাপন হয়েছে ডিজিটাল এক্স-রে। যার সুফল প্রতিণিয়ত পাচ্ছেন রোগীরা।

এছাড়া, অপারেশন থিয়েটারে আধুনিক যন্ত্রপাতি, জরায়ুর ক্যান্সার নির্ণয়ের মেশিন স্থাপন করেছেন তিনি। কয়েক মাসের মধ্যেই সিটিস্ক্যান পরীক্ষার কার্যক্রম শুরু হবে। এছাড়া, হাসপাতালের প্রতিটি জায়গায় অবকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, তার লক্ষ্য ছিল স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করে রোগীদের সর্বোন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদান করা। তারই ধারাবাহিকতায় বহির্বিভাগসহ সব টয়লেটে টাইলস বসানো হয়েছে। করোনারি কেয়ার ইউনিটের অকেজো লিফট মেরামতের পাশাপাশি ওয়ার্ডে নতুন এসি লাগানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করেছেন।

সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্যে হাসপাতাল চত্বরে ফুলের বাগান করাসহ হাসপাতালের বিভিন্নস্থানে এলইডি লাইট লাগানো, ভেষজ বাগানের চারপাশে প্রাচীর ও একটি গেট নির্মাণ, আর্বজনা সঠিক স্থানে ফেলার জন্যে শেড দিয়ে ডাস্টবিন তৈরি করিয়েছেন তিনি।

প্রশাসনের সহযোগিতায় হাসপাতালের ভিতর ও বাইরে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ, দালালের উৎপাত বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের নিয়মিত অভিযানের ব্যবস্থা করে প্রশংসিতও হয়েছেন।

ডাক্তার হিসেবে পরিচয় ছাড়াও আবুল কালাম আজাদ লিটুর বিভিন্ন সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সংগীত শিক্ষা একাডেমির উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মেডিসিন ব্যাংক যশোরের সচিব, রাইটস্ যশোরের সহসাধারণ সম্পাদক, তির্যক যশোরের সহসভাপতি, যশোর শিল্পীগোষ্ঠীর সভাপতি, যশোর ইনস্টিটিটিউটের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য ও নাট্য সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া, তালবাড়িয়া কলেজের কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

মন্তব্য