উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা বেপরোয়া

অপরাধ ডায়েরী

রবিবারের বিশেষ প্রতিবেদন : অপরাধ ডায়েরী পর্ব -১২

শরিয়তউল্লাহ শুভ

মাগুরার শালিখা উপজেলার আঠারখাদা গ্রামের দীপালী বিশ্বাস (৩০)। যশোরের মনিরামপুর উপজেলার রাজগঞ্জে বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়ি যাচ্ছিলেন। সাথে ছিল তার চার বছরের ছেলে রিকো বিশ্বাস (৪)।

যাত্রাপথে শহরের জজ আদালত মোড়ে পৌঁছালে হঠাৎ করে মোটরসাইকেলে আসা দুই ছিনতাইকারী তার হাতের ব্যাগ ধরে টান দেয়। নিজের ব্যাগ বাচাতে প্রাণপন চেষ্টা করেন দীপালি। কিন্তু এ সময় সে এবং তার ছেলে রিকো চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে যায়। এতে গুরুতর আহত হয় তারা দুজনই। এ সময় তাদের চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে আসে।

ঘটনা বেগতিক দেখে ছিনতাইকারীরা পালিয়ে যায়। মারাত্মক আহত অবস্থায় দুজনকে যশোর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনাটি ঘটে গত বছরের অক্টোবর মাসে।
যশোর সদরের রঘুরামপুর এলাকার বাসিন্দা সাজ্জাদ হোসেন ইমন। রাতে যশোরের রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে দিয়ে যাচ্ছিলেন।

সে সময় অজ্ঞাত দুইজন ব্যক্তি তার কাছে থাকা মোবাইল ও মানিব্যাগ ছিনতাই করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইমন বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। এদিকে মামলাটি গুরুত্বের সাথে নেয় পুলিশ। এরপর পুলিশের একটি অপারেশনে শহরের রেজিস্ট্রি অফিসের সামনে থেকে একজনকে আটক করেন, যশোর কসবা পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে জানা যায়, ছিনতাইয়ের অভিযোগে আটক ব্যক্তি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (যবিপ্রবির) ছাত্রলীগ নেতা গোলাম রব্বানী (২৬)।

তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের শহীদ মসিয়ূর রহমান হল শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক। এছাড়া সম্প্রতি যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মারামারির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার ৫ নম্বর আসামি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য প্রযুক্তি বিভাগের ছাত্র। এ ধরনের অনেক ছিনতাই এর ঘটনা অহরহ ঘটছে।

যা প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাড়িয়েছে। গতবছরই ঘটে এরকম উল্লেখযোগ্য কয়েকটি ঘটনা। ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৯, রাত ৯ টার দিকে যশোর পৌরসভার সামনে উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা উষা আক্তার নামে এক রিকশা আরোহী নারীর ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে যায়।

৮ আগস্ট তালবাড়িয়ায় এনজিও কর্মী অনুপমা বিশ্বাসের টাকা ভর্তি ব্যাগ ছিনতাই হয়। ১৯ আগস্ট রাতে শহরের ঈদগাহর সামনে সাহাবুদ্দিনের খান নাসিম নামে এক ব্যক্তির ব্যাগ উড়ন্ত ছিনতাইকারীরা নিয়ে যায়। এছাড়াও একইভাবে পথচারীর হাতের মোবাইল ফোন ছিনতাই হচ্ছে হরহামেশা।

শুধু যশোরে নয়। এখন সারাদেশে এই একই অবস্থা। যদিও পুলিশ ছিনতাইকারীদের অনেককেই গ্রেফতার করে, আদালতে প্রেরন করে, কারা হেফাজতে পাঠায় তবুও এ সমস্যার সমাধান হচ্ছেনা।

শুধুমাত্র একটি জেলা শহরেই যদি এ অবস্থা হয় তাহলে সারাদেশের কি অবস্থা তা যেন ভাবাও যায়না। তাই আমাদের সচেতনতা প্রয়োজন। নিজে সতর্ক থাকুন, অন্যকে সতর্ক করুন। সতর্কতা রুখে দিক সকল অপরাধ।

মন্তব্য