শাড়ী বিতরণকে কেন্দ্র করে ঢাবির বঙ্গমাতা হলে ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, আহত ৩

প্রজন্ম ডেস্ক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলে ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শাড়ি বিতরণের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। রবিবার রাত ৮টা ৩০মিনিটের দিকে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ৩জন ছাত্রী আহত হয়েছে। আহত তিনজন ছাত্রলীগ নেত্রীরা হলেন ইসরাত জাহান ইতি, পাপিয়া আকতার ও মিলি রাণী। এদের মধ্যে ইতি ও পাপিয়া বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন।

জানা গেছে, ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শাড়ি বিতরণকে কেন্দ্র করে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন কর্মীদের শাড়ি বিতরণ করছিলেন হলের সাধারণ সম্পাদক রওনক জাহান রাইয়ানসহ হল ছাত্রলীগের অন্যান্য নেত্রীরা। এসময় কর্মীদের মধ্য থেকে ৬ জন শাড়ি না পাওয়ায় তারা রুমে চলে গেলে হলের সহ-সভাপতি সালসাবিল রাবেয়া ৬টি শাড়ি সেখান থেকে নিয়ে ৬ জনের রুমে গিয়ে দিয়ে আসেন। সালসাবিল ৬টি শাড়ি কর্মীদের দেওয়ার কারণে ওই সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন হল ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রওনক জাহান রাইয়ান। সে সময় বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি হয়।

এদিকে রবিবার রাত আটটার দিকে সালসাবিল রুমে গিয়ে দেখেন তার রুমের সকল জিনিসপত্র বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে রাইয়ানের কর্মীরা। তিনি তার প্রতিবাদ করতে গেলে রওনক জাহান রাইয়ানসহ তার সমর্থকেরা তার ওপর তিন দফায় হামলা চালায়। এ সময় হলের হাউজ টিউটর ও হল সংসদের এক সম্পাদকের উপরও হামলার ঘটনা ঘটে। সালসাবিলকে হল থেকে মারতে মারতে হল গেটের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়।

তবে হলের আরেক পক্ষের দাবি সালসাবিল আজকে আগে হামলা করেছে। সালসাবিলের হামলায় হলের পাপিয়া নামে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এরপর হলের আবাসিক শিক্ষার্থীরা ক্ষিপ্ত হয়ে সালসাবিলকে মারতে মারতে হল থেকে বের করে দেয়।

সংঘর্ষে আহত সালসাবিল বলেন, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ৬ জন মেয়ে শাড়ি পায়নি। পরে আমি ৬টি শাড়ি সংগ্রহ করে তাদের রুমে গিয়ে দিয়ে আসি। তাদের শাড়ি দেওয়ার কারণে সাধারণ সম্পাদক রাইয়ান আমার প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। রাত আটটার দিকে বাইরে থেকে হলে ফিরে এসে দেখি আমার রুমের সকল জিনিসপত্র বাইরে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি তার প্রতিবাদ করতে গেলে রাইয়ান ও তার কর্মীরা আমার উপর হামলা চালায়। তারা ডাকসুর অভ্যন্তরীণ ক্রীড়া সম্পাদক শান্তা, ও হলের হাউস টিউটরকে মারধর করেছে।

এ বিষয়ে হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি বেনজির হোসেন নিশি বলেন, হল সংসদের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাঙ্গন ক্রীড়া ‍সম্পাদকের মধ্যে বিরোধ ছিল। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে প্রস্তুতির সময়ও ঝামেলা হলে আমরা সেটার সমাধান করি। পরবর্তী সময়ে হল সংসদের রিয়া পাপিয়াকে মারধর করে। এর প্রতিবাদে হলের মেয়েরা এক হয়ে তাকে বহিষ্কারের দাবি তোলে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

এদিকে রাতে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্তে হলে শৃঙ্খলা বিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকা এবং দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি সালসাবিল খানকে সাময়িক বহিস্কার করা হয়েছে বলে জানানো হয়।

মন্তব্য