যশোরে ৬৬ বছরেও পাকা হয়নি বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি বিজড়িত নায়ড়া বাজার সড়ক

প্রজন্ম ডেস্ক

যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার শঙ্করপুর ইউনিয়নের নায়ড়া বাজার। নায়ড়া গ্রামকে বলা যায় অজপাড়াগাঁ। নায়ড়া বাজারের একটি আমগাছের নিচে দাঁড়িয়ে ৬৬ বছর আগে বক্তৃতা দিয়েছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৫৪ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি শার্শা উপজেলার সামটা বাজার থেকে গরুর গাড়িতে চড়ে ও হেঁটে প্রায় ৪ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে আসেন নায়ড়া গ্রামে।

সহযোদ্ধা খন্দকার বজলুর রহমানের আমন্ত্রণে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিতে বঙ্গবন্ধু এখানে এসেছিলেন। বঙ্গবন্ধুর সেই ভাষণ দেওয়ার কথা স্থানীয় লোকজন তাদের বাবা-চাচা কিংবা দাদাদের কাছ থেকে শুনেছেন।

নায়ড়া বাজারে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুনেছিলেন খন্দকার জালাল উদ্দিন তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু সেদিন যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনি সমাবেশে যোগ দিতে নায়ড়া আসেন। রাস্তাটি গাড়ি চলাচলের উপযোগী না হওয়ায় তিনি শার্শার নীলকান্ত মোড়ে গাড়ি রেখে গরুর গাড়ি ও পায়ে হেঁটে নায়ড়া বাজারে পৌঁছান। রাস্তার মাঝে একটা বাঁশের সাঁকো ছিল। যুক্তফ্রন্টের প্রার্থী ছিলেন মসিউর রহমান। স্মৃতিচারণ করে খন্দকার জালাল উদ্দিন বলেন, ‘আমার তখন বয়স ১০-১৫ বছর। আমি বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে এই বাজারে হ্যান্ডশেফ করি।

যশোরের শার্শা উপজেলার উলাসী ইউনিয়ন এবং ঝিকরগাছার উপজেলার শঙ্করপুর ইউনিয়নের মধ্যে পড়ে এই সামটা-নায়ড়া সড়ক। বঙ্গবন্ধু যখন এই পথে এসেছিলেন, তখন রাস্তাটি কাঁচা ছিল, ছিল হাঁটুসমান কাদা। সামটা ছাড়িয়ে দেউলিয়া এলাকায় রাস্তার মাঝে খালের উপর তখন ছিল বাঁশের সাঁকো। এখন রয়েছে স্টিলের বেইলি ব্রিজ। কিন্তু রাস্তাটি গত ৬৬ বছরে সেই একইরকম রয়েছে।

যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের সাবেক এমপি অ্যাড. মনিরুল ইসলাম জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান ও এমপি থাকা কালে বাঁকড়া-বাগআঁচড়া সড়কের বাইপাস নায়ড়া পর্যন্ত দু’দফা মুজিব সড়ক করেছি। এমপি থাকাকালে সামটা-নায়ড়া সড়কসহ চৌগাছা ও ঝিকরগাছার ১৪৭টি রাস্তা ডিপিপিভুক্ত করেছি। ইতোমধ্যে সেগুলোর টেন্ডার শুরু হয়েছে। খুব শীঘ্রই এই সড়কটির কাজ ও শুরু হয়ে যাবে।

মন্তব্য