ধর্ষণের পর ঢাবি ছাত্রীর কাছে ৫শ টাকা চেয়েছিল মজনু

প্রজন্ম ডেস্ক

রাজধানীর কুর্মিটোলায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রীকে ধর্ষণের পর তার কাছ থেকে ৫০০ টাকা দাবি করেছিল মজনু।

ঢাবি ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গত ৯ জানুয়ারি মজনুকে ৭ দিনের রিমান্ড নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

ডিবি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে মজনু জানিয়েছে, ধর্ষণের পর ঢাবি ছাত্রীর কাছে সে ৫০০ টাকা দাবি করেছিল। মেয়েটি তার ব্যাগে টাকা আছে জানালে মজনু অন্ধকারে ব্যাগ খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে ব্যাগটি পেলে তার ভেতরে টাকা খুঁজতে থাকে। আর এই ফাঁকে মেয়েটি ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। ওই ছাত্রীকে ভবঘুরে ভেবে ধর্ষণ করেছিল মজনু। ধর্ষণে বাধা পেয়ে শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছিল সে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দিনের বেশিরভাগ সময় রেলস্টেশনে ঘোরাঘুরি করলেও রাত হলে স্টেশনকেন্দ্রিক ভিক্ষুক, ভবঘুরে ও মানসিক প্রতিবন্ধী নারীদের হত্যার হুমকি দিয়ে ধর্ষণ করতো মজনু। কখনও রেলস্টেশন, কখনও কুর্মিটোলার ঝোপের মধ্যে অসহায় নারীদের ধর্ষণ করে আসছিলো সে। এছাড়া বিমানবন্দর সড়ককেন্দ্রিক ফুটপাতের আশপাশেও নারীদের টার্গেট করে ঘুরে বেড়াত মজনু। তার এই ঘৃণ্য পরিকল্পনায় সহযোগিতা করত তার মতোই কয়েকজন। তাদেরও ধরার চেষ্টা চলছে।

ঘটনার দিন মজনু পেছন থেকে মুখ চেপে ধরে ঝোঁপের আড়ালে নেয়ার সময় বাঁচার আকুতি জানায় ওই ছাত্রী। কিন্তু দ্রুতগতির যানবাহনের শব্দে তা ঢাকা পড়ে যায়। এ সুযোগ নিয়ে মজনু আরও বেপরোয়া আচরণ শুরু করে। এ পর্যায়ে কিছুটা সময় অচেতন ছিলেন তিনি। চেতনা ফিরে পাওয়ার পর বেহুঁশ হওয়ার ভান ধরে পালানোর পথ খুঁজতে থাকেন। কিন্তু মজনুর ভয়ঙ্কর আচরণে সাহস হারিয়ে ফেলে হতবিহ্বল হয়ে পড়েন ফের। পরে থাকে ধর্ষণ করা হয়।

উল্লেখ্য, ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর কুর্মিটোলা হাসপাতাল এলাকায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ওই ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হন। এ ঘটনায় ক্যান্টনমেন্ট থানায় ওই ছাত্রীর বাবার দায়ের করা মামলায় মজনুকে মঙ্গলবার গ্রেফতার দেখানো হয়। গ্রেফতারের পর র‌্যাব জানায়, মজনু একজন সিরিয়াল রেপিস্ট। মজনু আগে থেকেই ওঁৎ পেতে ছিল ঘটনাস্থলে। এর আগেও একই জায়গায় কয়েকজন নারীকে ধর্ষণ করে সে।

মন্তব্য