পাকিস্তানে তুষারধসে নিহত ৫৭

প্রজন্ম ডেস্ক

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে তুষারধসের ঘটনায় গত ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৫৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে দেশটির সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে দেশটির অন্তত দু’জন সরকারি কর্মকর্তা বলেছেন, আজাদ কাশ্মীরের নীলাম উপত্যকায় তুষারধসের ঘটনায় অনেক গ্রামবাসী আটকা পড়েছেন। ওই এলাকায় ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধসের ঘটনাও ঘটেছে।

এক কর্মকর্তা বলেছেন, এখনও অনেক মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। আরও অনেকের প্রাণহানির আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে, ভারত নিয়ন্ত্রিত জম্মু-কাশ্মীরের কুপওয়ারা ও গ্যান্ডারবাল জেলায়ও তুষারধসে দেশটির তিন সেনাসদস্য-সহ অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছেন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি বলছে, কুপওয়ারা জেলার মাচিল সেক্টরে সেনাবাহিনীর একটি চৌকিতে তুষারধস হয়েছে। এতে তিন সেনাসদস্য নিহত ও একজন আহত হয়েছেন। সেনা চৌকিতে তুষারধসের এ ঘটনা ঘটে সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১টার দিকে।

একই দিনে কাশ্মীরের গ্যান্ডারবাল জেলার সনমার্গে তুষারধসের কবলে পড়ে অন্তত পাঁচ বেসামরিক নাগরিকের প্রাণহানি ঘটেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছেন, রাতভর উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে তুষারের নিচ থেকে পাঁচজনের মরদেহ ও চারজনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

ডনের এক প্রতিবেদনে কেবল রোববার ও সোমবারই বেলুচিস্তান, পাঞ্জাব ও পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভূমিধস, তুষারধস ও ভারি বৃষ্টিপাতজনিত কারণে অন্তত ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

ভারি বর্ষণের পর ভূমিধস ও তুষারধসে আজাদ জম্মু ও কাশ্মীর, গিলগিট-বালতিস্তান, মালাকান্ড ও হাজারা বিভাগের প্রধান প্রধান সড়ক ও মহাসড়কগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হওয়ার তালিকায় কারাকোরামের মহাসড়কটিও আছে। অন্যদিকে তুষারপাতের কারণে খাইবার পাখতুনখোয়ার চিত্রল এলাকাটি প্রদেশটির অন্যান্য এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

হতাহতদের বেশিরভাগই কাশ্মীরের নিলম উপত্যকা এবং বেলুচিস্তানের পার্বত্য এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে ডন। বৃষ্টি ও তুষারধস এ দুই এলাকার দুই ডজনেরও বেশি বাড়িঘর, বেশকিছু দোকান ও একটি মসজিদ ধ্বংস করেছে।

সেনাবাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় নিয়োজিত কর্মকর্তারাও স্থানীয় প্রশাসনের উদ্ধার অভিযানে সহযোগিতা করছে।

মন্তব্য